জয়পুরহাট    শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

বাঘায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন,তৃণমূলে ক্ষোভ



বাঘায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন,তৃণমূলে ক্ষোভ
ছবি- প্রতিনিধি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়োগ দেওয়া সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আড়ানী ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ডিলারের রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও গুদামসুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী ইউনিয়নে মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের আমলে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ও আর্থিক সহযোগিতা করার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধের অভিযোগ সত্য নয়। যারা আবেদন করে ব্যার্থ হয়েছে তারাই কেবল আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।  

ডিলার নিয়োগে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে আড়ানী ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তাঁরা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অথচ ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

আড়ানী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী তারেক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। মামলা-হামলার ভয়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়িয়েছি। তারপরও দল ছেড়ে যাইনি। দুঃসময়ে দলের নির্দেশনা মেনে মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা মূল্যায়ন পাচ্ছি না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তিরা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তার দাবি, আড়ানী ইউনিয়ন থেকে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী সার ডিলারের জন্য আবেদন করলেও তাঁদের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তারেক হোসেন বলেন, আমি নিজেও সার ডিলারের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার পরিবর্তে এমন একজন ডিলার পেয়েছেন, যার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিএনপির অনেকেই আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ সুযোগ পেলে আমার এতটা কষ্ট হতো না। এ সময় তিনি আড়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভেদ তৈরি হচ্ছে, যা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। 

অন্যদিকে, বাজুবাঘা ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যবসায়িক যোগ্যতার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ডিলারের পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং সার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদামসুবিধা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, গুদামসুবিধা এবং নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। তাই ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, আমরা সম্পুর্ণ নিয়ম মেনে ডিলার নিয়োগে কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ডিলার নিয়োগ প্রকাশের পরে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। ডিলারদের গোডাউন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন আমাদের কর্মকর্তা গণ আবেদনকারীর সকলের গোডাউন ও সকল তথ্য সত্যতা যাচাই করে আমাদের রিপোর্ট দিয়েছেন ।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬


বাঘায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন,তৃণমূলে ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়োগ দেওয়া সার ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আড়ানী ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ডিলারের রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও গুদামসুবিধা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী ইউনিয়নে মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, অতীতে কামাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলামের পক্ষে কাজ করেছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের আমলে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ও আর্থিক সহযোগিতা করার অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধের অভিযোগ সত্য নয়। যারা আবেদন করে ব্যার্থ হয়েছে তারাই কেবল আমার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।  

ডিলার নিয়োগে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে আড়ানী ইউনিয়নের বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তাঁরা দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। অথচ ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

আড়ানী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মী তারেক হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে আমরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। মামলা-হামলার ভয়ে দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়িয়েছি। তারপরও দল ছেড়ে যাইনি। দুঃসময়ে দলের নির্দেশনা মেনে মিছিল-মিটিংসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এখন আমরা মূল্যায়ন পাচ্ছি না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এমন ব্যক্তিরা বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। তার দাবি, আড়ানী ইউনিয়ন থেকে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী সার ডিলারের জন্য আবেদন করলেও তাঁদের কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

তারেক হোসেন বলেন, আমি নিজেও সার ডিলারের জন্য আবেদন করেছিলাম। আমার পরিবর্তে এমন একজন ডিলার পেয়েছেন, যার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। বিএনপির অনেকেই আবেদন করেছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কেউ সুযোগ পেলে আমার এতটা কষ্ট হতো না। এ সময় তিনি আড়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভেদ তৈরি হচ্ছে, যা সংগঠনের জন্য ক্ষতিকর। 

অন্যদিকে, বাজুবাঘা ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া সার ডিলারের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যবসায়িক যোগ্যতার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন ডিলারের পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং সার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদামসুবিধা রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকই আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ডিলার নিয়োগের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, গুদামসুবিধা এবং নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা প্রকাশ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সার কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। তাই ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, আমরা সম্পুর্ণ নিয়ম মেনে ডিলার নিয়োগে কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। ডিলার নিয়োগ প্রকাশের পরে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। ডিলারদের গোডাউন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন আমাদের কর্মকর্তা গণ আবেদনকারীর সকলের গোডাউন ও সকল তথ্য সত্যতা যাচাই করে আমাদের রিপোর্ট দিয়েছেন ।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত