জয়পুরহাট    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

হাজীগঞ্জে ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারীর উদ্যোগে জীবিকার সুযোগ হাজারো মানুষের



হাজীগঞ্জে ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারীর উদ্যোগে জীবিকার সুযোগ হাজারো মানুষের
ছবি- প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি মার্কেটকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন সাবেক মোতাওয়াল্লী অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের আওতায় শুধু কর্মচারী নিয়োগ নয়, বরং ব্যবসা পরিচালনা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বহু পরিবারের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মার্কেট নির্মাণ, চারটি মাদ্রাসা পরিচালনা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কার্যক্রম, মসজিদ সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সম্পত্তির পরিসর সম্প্রসারণ।

মার্কেটকেন্দ্রিক ব্যবসায় নতুন সুযোগ

হাজীগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটকে কেন্দ্র করে দোকান পরিচালনা, পণ্য কেনাবেচা, সরবরাহ ও পরিবহনসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দোকানমালিক, ব্যবসায়ী, কর্মচারী, সরবরাহকারী ও অন্যান্য সেবাদানকারী মানুষ যুক্ত রয়েছেন। ফলে মার্কেটগুলোকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

তাঁদের মতে, ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে একজন উদ্যোক্তার পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, পণ্য সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট সেবাদাতারাও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারেন। এভাবে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আয়নির্ভর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ওয়াকফ এস্টেটকে আয়নির্ভর, স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা ছিল এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নিজস্ব সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।

মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মচারী ও সেবাদানকারীদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষাকার্যক্রম ও সামাজিক সেবার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণে এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে।

কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির প্রত্যাশা 

উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মানুষকে ব্যবসা পরিচালনায় সক্ষম করে তোলার সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চাকরির সুযোগ সীমিত থাকলেও ব্যবসা ও সেবাভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবিকা এসব উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও স্বতন্ত্র যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া গেলে কর্মসংস্থানের প্রকৃত পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।

হাজীগঞ্জে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সমর্থকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, নিজস্ব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


হাজীগঞ্জে ড.আলমগীর কবির পাটওয়ারীর উদ্যোগে জীবিকার সুযোগ হাজারো মানুষের

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি মার্কেটকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছেন সাবেক মোতাওয়াল্লী অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবিকার সম্পর্ক রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের আওতায় শুধু কর্মচারী নিয়োগ নয়, বরং ব্যবসা পরিচালনা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠা এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বহু পরিবারের জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ছে বলে তাঁরা মনে করেন।

প্রায় ১০০ বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ ওয়াকফ এস্টেটের সম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ড. আলমগীর কবির পাটওয়ারীর দায়িত্বকালীন সময়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মার্কেট নির্মাণ, চারটি মাদ্রাসা পরিচালনা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের কার্যক্রম, মসজিদ সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সম্পত্তির পরিসর সম্প্রসারণ।

মার্কেটকেন্দ্রিক ব্যবসায় নতুন সুযোগ

হাজীগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটকে কেন্দ্র করে দোকান পরিচালনা, পণ্য কেনাবেচা, সরবরাহ ও পরিবহনসহ নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দোকানমালিক, ব্যবসায়ী, কর্মচারী, সরবরাহকারী ও অন্যান্য সেবাদানকারী মানুষ যুক্ত রয়েছেন। ফলে মার্কেটগুলোকে কেন্দ্র করে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

তাঁদের মতে, ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে একজন উদ্যোক্তার পাশাপাশি তাঁর প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, পণ্য সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট সেবাদাতারাও অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারেন। এভাবে স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আয়নির্ভর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দান-অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ওয়াকফ এস্টেটকে আয়নির্ভর, স্বনির্ভর ও টেকসই ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসা ছিল এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। নিজস্ব সম্পদের পরিকল্পিত ব্যবহার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়।

মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মচারী ও সেবাদানকারীদের জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিক্ষাকার্যক্রম ও সামাজিক সেবার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন চাহিদা পূরণে এসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে।

কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির প্রত্যাশা 

উদ্যোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি মানুষকে ব্যবসা পরিচালনায় সক্ষম করে তোলার সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, চাকরির সুযোগ সীমিত থাকলেও ব্যবসা ও সেবাভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন আয়ের পথ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৭ থেকে ২০ হাজার মানুষের জীবিকা এসব উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার যে হিসাব দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান ও স্বতন্ত্র যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া গেলে কর্মসংস্থানের প্রকৃত পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।

হাজীগঞ্জে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে দীর্ঘমেয়াদে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সমর্থকেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, নিজস্ব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত