একটপ শিশু, যার পৃথিবীকে চেনার বয়সও হয়নি। মাত্র ১৮ মাস বয়সী শিশু মারিয়া। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে ময়মনসিংহের ফুলপুরে মানববন্ধন করেছেন নিহত শিশুর স্বজন ও এলাকাবাসী।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাতিলগাঁও গ্রামের শিশু মারিয়া। পরিবার ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হুমায়ূন কবিরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আসমা খাতুন, তাঁর স্বামী মাইনুদ্দীন ও ছেলে তারিফ হোসেন ওই বাড়িতে হামলা চালান। ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল শিশু মারিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, আসমা খাতুনের আঘাতে শিশুটির মাথার পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়।
পরে মারিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মারিয়াকে শিশু সার্জারি বিভাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর তাকে নিউরোসার্জারি বিভাগের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এমআরআই পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কের পেছন ও ওপরের অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আহত হওয়ার পর থেকেই মারিয়ার খিঁচুনি শুরু হয়। চোখ উল্টে যেত, ঠিকমতো খেতে পারত না। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে।
দীর্ঘ ১৬ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২৮ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোট্ট মারিয়া। সন্তান হারানোর শোকে দিশেহারা পরিবার। মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন মারিয়ার বাবা হুমায়ূন কবির।
“আমার দেড় বছরের মেয়েটার কী অপরাধ ছিল? সে তো পৃথিবীর কিছুই বোঝে না। তাহলে কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো? আমার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও সন্তান হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”:
“আমার বাচ্চাটা আহত হওয়ার পর থেকে অনেক কষ্ট করেছে। ঠিকমতো খেতে পারত না। খেতে গেলেই খিঁচুনি হতো। চোখের সামনে সন্তানকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখেছি। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকে হারালাম। আমি এর বিচার চাই, যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, এতটুকু নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় তাঁরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।
তাঁরা বলেন, শিশু মারিয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত শিশু মারিয়ার বাবা হুমায়ূন কবির, মা নিপা আক্তার, ওয়াসিমুল ইসলাম, আনিছুর রহমান নয়নসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত হন ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। তিনি উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অচিরেই তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর মানববন্ধনকারীরা কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিশু মারিয়ার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগের। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একটি ছোট্ট প্রাণের এমন করুণ মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারকে এভাবে শোকাহত না করে—এটাই এখন স্বজন ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
একটপ শিশু, যার পৃথিবীকে চেনার বয়সও হয়নি। মাত্র ১৮ মাস বয়সী শিশু মারিয়া। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছে সে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে ময়মনসিংহের ফুলপুরে মানববন্ধন করেছেন নিহত শিশুর স্বজন ও এলাকাবাসী।
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নের পাতিলগাঁও গ্রামের শিশু মারিয়া। পরিবার ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে হুমায়ূন কবিরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আসমা খাতুন, তাঁর স্বামী মাইনুদ্দীন ও ছেলে তারিফ হোসেন ওই বাড়িতে হামলা চালান। ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিল শিশু মারিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, আসমা খাতুনের আঘাতে শিশুটির মাথার পেছনের অংশে গুরুতর জখম হয়।
পরে মারিয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মারিয়াকে শিশু সার্জারি বিভাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর তাকে নিউরোসার্জারি বিভাগের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এমআরআই পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কের পেছন ও ওপরের অংশে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আহত হওয়ার পর থেকেই মারিয়ার খিঁচুনি শুরু হয়। চোখ উল্টে যেত, ঠিকমতো খেতে পারত না। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে সে।
দীর্ঘ ১৬ দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর গত ২৮ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছোট্ট মারিয়া। সন্তান হারানোর শোকে দিশেহারা পরিবার। মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন মারিয়ার বাবা হুমায়ূন কবির।
“আমার দেড় বছরের মেয়েটার কী অপরাধ ছিল? সে তো পৃথিবীর কিছুই বোঝে না। তাহলে কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো? আমার সবকিছুর বিনিময়ে হলেও সন্তান হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”:
“আমার বাচ্চাটা আহত হওয়ার পর থেকে অনেক কষ্ট করেছে। ঠিকমতো খেতে পারত না। খেতে গেলেই খিঁচুনি হতো। চোখের সামনে সন্তানকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখেছি। শেষ পর্যন্ত আমার মেয়েকে হারালাম। আমি এর বিচার চাই, যেন আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, এতটুকু নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এখনো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় তাঁরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ।
তাঁরা বলেন, শিশু মারিয়ার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহত শিশু মারিয়ার বাবা হুমায়ূন কবির, মা নিপা আক্তার, ওয়াসিমুল ইসলাম, আনিছুর রহমান নয়নসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত হন ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন। তিনি উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। অচিরেই তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পর মানববন্ধনকারীরা কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এদিকে, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শিশু মারিয়ার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগের। এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একটি ছোট্ট প্রাণের এমন করুণ মৃত্যু যেন আর কোনো পরিবারকে এভাবে শোকাহত না করে—এটাই এখন স্বজন ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন