যশোরের বাঘারপাড়ার ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিযোগের অভিযোগ তদন্ত করে ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। উপজেলার বহরমপুরের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আব্দুস সাত্তার বলেন, ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। এর প্রতিকার হওয়া জরুরী।
গত ৩১ আগস্ট সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সার ডিলার নিযোগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। খলসী বাজারের আব্দুস সাত্তারের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইরা ট্রেডার্স জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের নম্বর বাঘারপাড়া-৫১।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত সার ও কীটনাশকের ব্যবসায় তিনি। পাশাপাশি ২০১৭ সালে ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হন।
তার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক হয়রানি, মামলা ও কারাভোগে তার পরিবার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।
সার ও কীটনাশক ব্যবসা সাত্তারের উপার্জনের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু সার ডিলার অনুমোদন না পাওয়ায় তার ব্যবসা কঠিন সময় পার করছে। বর্তমান সরকারের সমযে সার ডিলার নিযোগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ডিলার হিসেবে নিযোগ পাওয়া আব্দুর রশিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমান মিজানের ভাই। ওই পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় সার ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার 'জিএম ট্রেডার্স' সার ডিলার ব্যবসা।
প্রশ্ন হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ে যাঁরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে কীভাবে একই ব্যক্তিকে আবার সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো? এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা ও শর্ত বিবেচনা করা হয়েছে, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না বরং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ইতোমধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর দেখা যায়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
তিনি যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা করা হয়।
দাবি ও প্রত্যাশা ১. ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। ২. নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং বিদ্যমান ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই করতে হবে। ৩. সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ৪. তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীকে ন্যায্য সুযোগ দিতে হবে। ৫. এলাকার কৃষকের স্বার্থে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সংগে বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশাবাদী। সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার হওয়া জরুরি। অন্যথায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ন্যায্য অধিকার, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন দাবি তার।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
যশোরের বাঘারপাড়ার ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিযোগের অভিযোগ তদন্ত করে ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। উপজেলার বহরমপুরের মৃত গফুর মোল্লার ছেলে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার এই সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আব্দুস সাত্তার বলেন, ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। এর প্রতিকার হওয়া জরুরী।
গত ৩১ আগস্ট সরকার দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সার ডিলার নিযোগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। খলসী বাজারের আব্দুস সাত্তারের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইরা ট্রেডার্স জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের নম্বর বাঘারপাড়া-৫১।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী দীর্ঘ ২৮ বছর যাবত সার ও কীটনাশকের ব্যবসায় তিনি। পাশাপাশি ২০১৭ সালে ৬ নম্বর খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হন।
তার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক হয়রানি, মামলা ও কারাভোগে তার পরিবার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তার।
সার ও কীটনাশক ব্যবসা সাত্তারের উপার্জনের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু সার ডিলার অনুমোদন না পাওয়ায় তার ব্যবসা কঠিন সময় পার করছে। বর্তমান সরকারের সমযে সার ডিলার নিযোগে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ডিলার হিসেবে নিযোগ পাওয়া আব্দুর রশিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালক মিজানুর রহমান মিজানের ভাই। ওই পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন এলাকায় সার ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার 'জিএম ট্রেডার্স' সার ডিলার ব্যবসা।
প্রশ্ন হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ে যাঁরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না করে কীভাবে একই ব্যক্তিকে আবার সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো? এ নিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী যোগ্যতা ও শর্ত বিবেচনা করা হয়েছে, তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য না বরং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
ইতোমধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপি বিষয়টি যশোর জেলা প্রশাসকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর দেখা যায়নি। এ কারণে বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
তিনি যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যেন বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুরাহা করা হয়।
দাবি ও প্রত্যাশা ১. ৬ নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। ২. নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগ এবং বিদ্যমান ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই করতে হবে। ৩. সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা ও নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। ৪. তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যোগ্য আবেদনকারীকে ন্যায্য সুযোগ দিতে হবে। ৫. এলাকার কৃষকের স্বার্থে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সংগে বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশাবাদী। সার ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার হওয়া জরুরি। অন্যথায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ন্যায্য অধিকার, স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন দাবি তার।

আপনার মতামত লিখুন