জয়পুরহাট    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা,দুপচাঁচিয়ায় ৪৫ মণ্ডপে প্রস্তুতি শেষ



তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা,দুপচাঁচিয়ায় ৪৫ মণ্ডপে প্রস্তুতি শেষ
ছবি- প্রতিনিধি

রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার স্নিগ্ধ রূপ, চোখেমুখে ধরা দিচ্ছে শক্তি ও মমতার অপূর্ব প্রকাশ। কোথাও চলছে দেবীর মুখমণ্ডলে শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ, কোথাও আবার লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়বে নিখুঁত কারুকাজ। শিল্পীর হাতের জাদুতে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মৃন্ময়ী প্রতিমা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ, কর্মব্যস্ততা আর আনন্দের আবহ।

দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা। বাঁশ, খড় ও কাদামাটিতে প্রতিমার কাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শেষ করে এখন চলছে রং-তুলির শেষ ছোঁয়া। দেবীর চোখ আঁকা থেকে শুরু করে অলংকার, বস্ত্র ও অন্যান্য অনুষঙ্গের নিখুঁত সাজসজ্জায় কাজ করছেন শিল্পীরা। তাঁদের হাতের প্রতিটি আঁচড়ে ফুটে উঠছে শিল্প।

প্রতিমা শিল্পী ননী গোপাল বলেন,প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়াতে চেষ্টা করছি। কেউ রঙের পাত্র হাতে তুলির আঁচড় দিচ্ছেন, কেউ দেবদেবীর মুখাবয়ব নিখুঁত করে তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার সাজসজ্জায়। 

দেবীকে রূপ দেওয়া শুধু আমাদের পেশা নয়, এটি ভক্তি, ভালোবাসা ও শিল্পসাধনার অংশ। মাটির প্রতিমাকে রং-তুলির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হয় অত্যন্ত যত্ন ও মনোযোগ দিয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা স্থাপন করা হবে। দেবী দুর্গার শান্ত, স্নিগ্ধ অথচ তেজস্বী রূপ ফুটিয়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দুটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় ১৪টি, তালোড়া পৌরসভায় ৭টি, তালোড়া ইউনিয়নে ৭টি, গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ৯টি, গুনাহার ইউনিয়নে ৪টি, জামরুল ইউনিয়নে ৩টি এবং জিয়ানগর ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে। কোথাও তৈরি হচ্ছে নান্দনিক প্রবেশপথ, কোথাও চলছে মণ্ডপের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। আলোর ঝলকানি, বাহারি সাজ আর শিল্পীদের সৃজনশীলতায় উৎসবের রঙে সেজে উঠছে পূজামণ্ডপগুলো। পূজার দিনগুলোতে এসব মণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে পুরো উপজেলা এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী,অপেক্ষা উৎসবের শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের প্রতীক্ষা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা, এরপর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা এবং সবশেষে বিজয়া দশমীর বিসর্জন—এই ধারাবাহিকতায় মুখর হয়ে ওঠে পূজার দিনগুলো। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবন্দনা, অঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু বাঙালির অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

উৎসবকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনীন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁদের ভাষ্য, পূজা মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে প্রতিমা দর্শন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। আর প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতে গড়ে ওঠা দেবী দুর্গার রূপ, আলোকসজ্জায় ঝলমলে মণ্ডপ এবং ঢাকের বাদ্য—সব মিলিয়ে দুপচাঁচিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে শারদীয় উৎসবের বর্ণিল আবেশ।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


তুলির আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা,দুপচাঁচিয়ায় ৪৫ মণ্ডপে প্রস্তুতি শেষ

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রং-তুলির নিপুণ আঁচড়ে মাটির প্রতিমায় ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার স্নিগ্ধ রূপ, চোখেমুখে ধরা দিচ্ছে শক্তি ও মমতার অপূর্ব প্রকাশ। কোথাও চলছে দেবীর মুখমণ্ডলে শেষ মুহূর্তের রঙের কাজ, কোথাও আবার লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়বে নিখুঁত কারুকাজ। শিল্পীর হাতের জাদুতে ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে মৃন্ময়ী প্রতিমা। শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার প্রতিমা তৈরির কারখানা ও মণ্ডপগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ, কর্মব্যস্ততা আর আনন্দের আবহ।

দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা। বাঁশ, খড় ও কাদামাটিতে প্রতিমার কাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শেষ করে এখন চলছে রং-তুলির শেষ ছোঁয়া। দেবীর চোখ আঁকা থেকে শুরু করে অলংকার, বস্ত্র ও অন্যান্য অনুষঙ্গের নিখুঁত সাজসজ্জায় কাজ করছেন শিল্পীরা। তাঁদের হাতের প্রতিটি আঁচড়ে ফুটে উঠছে শিল্প।

প্রতিমা শিল্পী ননী গোপাল বলেন,প্রতিমার সৌন্দর্য বাড়াতে চেষ্টা করছি। কেউ রঙের পাত্র হাতে তুলির আঁচড় দিচ্ছেন, কেউ দেবদেবীর মুখাবয়ব নিখুঁত করে তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার সাজসজ্জায়। 

দেবীকে রূপ দেওয়া শুধু আমাদের পেশা নয়, এটি ভক্তি, ভালোবাসা ও শিল্পসাধনার অংশ। মাটির প্রতিমাকে রং-তুলির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে হয় অত্যন্ত যত্ন ও মনোযোগ দিয়ে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা স্থাপন করা হবে। দেবী দুর্গার শান্ত, স্নিগ্ধ অথচ তেজস্বী রূপ ফুটিয়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, এবার দুপচাঁচিয়া উপজেলার দুটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নে মোট ৪৫টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় ১৪টি, তালোড়া পৌরসভায় ৭টি, তালোড়া ইউনিয়নে ৭টি, গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ৯টি, গুনাহার ইউনিয়নে ৪টি, জামরুল ইউনিয়নে ৩টি এবং জিয়ানগর ইউনিয়নে ১টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল সাজানো ও আলোকসজ্জার কাজ এগিয়ে চলছে। কোথাও তৈরি হচ্ছে নান্দনিক প্রবেশপথ, কোথাও চলছে মণ্ডপের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। আলোর ঝলকানি, বাহারি সাজ আর শিল্পীদের সৃজনশীলতায় উৎসবের রঙে সেজে উঠছে পূজামণ্ডপগুলো। পূজার দিনগুলোতে এসব মণ্ডপে ভক্ত-দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে পুরো উপজেলা এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের।

মহালয়া থেকে বিজয়া দশমী,অপেক্ষা উৎসবের শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের প্রতীক্ষা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা, এরপর দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা এবং সবশেষে বিজয়া দশমীর বিসর্জন—এই ধারাবাহিকতায় মুখর হয়ে ওঠে পূজার দিনগুলো। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীবন্দনা, অঞ্জলি, আরতি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু বাঙালির অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

উৎসবকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনীন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাঁদের ভাষ্য, পূজা মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদে প্রতিমা দর্শন নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি মণ্ডপে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। আর প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতে গড়ে ওঠা দেবী দুর্গার রূপ, আলোকসজ্জায় ঝলমলে মণ্ডপ এবং ঢাকের বাদ্য—সব মিলিয়ে দুপচাঁচিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে শারদীয় উৎসবের বর্ণিল আবেশ।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত