জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

‘কুফরি কালামের অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালায় ঘোরালো আপন দুই ভাই



‘কুফরি কালামের অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালায় ঘোরালো আপন দুই ভাই
ছবি- প্রতিনিধি

তিন নারীকে জুতার মালা পড়িয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানো অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুলের বিরুদ্ধে। একই পরিবারের ওই তিন নারীকে ঘরে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া গ্রামে।

অভিযুক্ত যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও ইয়ারুল ওই গ্রামের আকবর আলী সরদারের ছেলে। সোমবার রাতে ঘটনার খন্ডিত দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিন নারীর গলায় জুতার মালা পড়িয়ে গাড়িষাপাড়া এলাকার পাকা সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। নারীদের পেছনে গ্রামের উৎসুক মানুষ হৈ-হুল্লোড় করছেন। ভিডিওর অন্য খন্ডে যুবদলের কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে ভুক্তভোগী নারীদের আটকে রাখতে দেখা যায়। সেখানে স্থানীয় ছাবলু নামের এক ব্যাক্তি সংবাদ কর্মীদের ক্যামেরার সামনেই ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পাশেই মোবাইল হাতে ঘটনার ভিডিও করছেন যুবদল কর্মী জিয়া।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, তান্ত্রিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাতিজীকে ‘কুফরি কালাম’ ও কালো যাদুর করার অভিযোগ আনা হয় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে। মূলত সেই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ভুক্তভোগী মধ্যবয়সি দুই নারী ও এক তরুণীকে বাড়ি থেকে তুলে এনে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে সড়কে ঘোড়ানো হয়। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে মারধরও করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, জোরপূর্বক তাদের তুলে এনে মারধর করেছেন ইয়ারুল। কালো যাদু করার মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। প্রতিবাদ করার মতো তাদের কেউ নেই বলে জুতার মালা পড়িয়ে সড়কে ঘোরানো হয়েছে। জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে। তাদের সঙ্গে ঘটা এই অন্যায়ের কঠিন বিচার চান তারা।

এদিকে ঘটনার পর সোমবার সন্ধ্যায় নিজেদের অপরাধ গোপন করতে কালো যাদু করার অভিযোগ এনে ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইয়ারুল ইসলাম।

ইয়ারুল সরদারের দাবি, অভিযুক্ত তিন নারী প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কবিরাজের মাধ্যমে তার মেয়েকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘বান’ মেরেছেন। এতে তার মেয়ের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে তিনি ওই তিন নারূকে জুতার মালা পড়িয়ে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যপারে বক্তব্য পাওয়া যায়নি যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ার।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল হান্নান বলেন, তিন নারীকে জুতার মালা পড়িয়ে সড়কে ঘোরানোর কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ওসিকে। অন্যায়কারী দলের লোক হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


‘কুফরি কালামের অভিযোগে তিন নারীকে জুতার মালায় ঘোরালো আপন দুই ভাই

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

তিন নারীকে জুতার মালা পড়িয়ে প্রকাশ্যে সড়কে ঘোরানো অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও তার ভাই ইয়ারুলের বিরুদ্ধে। একই পরিবারের ওই তিন নারীকে ঘরে আটকে রেখে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভার গাড়িষাপাড়া গ্রামে।

অভিযুক্ত যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়া ও ইয়ারুল ওই গ্রামের আকবর আলী সরদারের ছেলে। সোমবার রাতে ঘটনার খন্ডিত দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিন নারীর গলায় জুতার মালা পড়িয়ে গাড়িষাপাড়া এলাকার পাকা সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। নারীদের পেছনে গ্রামের উৎসুক মানুষ হৈ-হুল্লোড় করছেন। ভিডিওর অন্য খন্ডে যুবদলের কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ার বাড়ির একটি কক্ষে ভুক্তভোগী নারীদের আটকে রাখতে দেখা যায়। সেখানে স্থানীয় ছাবলু নামের এক ব্যাক্তি সংবাদ কর্মীদের ক্যামেরার সামনেই ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। পাশেই মোবাইল হাতে ঘটনার ভিডিও করছেন যুবদল কর্মী জিয়া।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, তান্ত্রিকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাতিজীকে ‘কুফরি কালাম’ ও কালো যাদুর করার অভিযোগ আনা হয় ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে। মূলত সেই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ভুক্তভোগী মধ্যবয়সি দুই নারী ও এক তরুণীকে বাড়ি থেকে তুলে এনে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে সড়কে ঘোড়ানো হয়। ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতে মারধরও করা হয়।

ভুক্তভোগী নারীরা বলেন, জোরপূর্বক তাদের তুলে এনে মারধর করেছেন ইয়ারুল। কালো যাদু করার মিথ্যা অপবাদ দিয়েছেন। প্রতিবাদ করার মতো তাদের কেউ নেই বলে জুতার মালা পড়িয়ে সড়কে ঘোরানো হয়েছে। জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে ফাঁকা স্ট্যাম্পে। তাদের সঙ্গে ঘটা এই অন্যায়ের কঠিন বিচার চান তারা।

এদিকে ঘটনার পর সোমবার সন্ধ্যায় নিজেদের অপরাধ গোপন করতে কালো যাদু করার অভিযোগ এনে ওই তিন নারীর বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইয়ারুল ইসলাম।

ইয়ারুল সরদারের দাবি, অভিযুক্ত তিন নারী প্রায় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন কবিরাজের মাধ্যমে তার মেয়েকে ‘কুফরি কালাম’ ও ‘বান’ মেরেছেন। এতে তার মেয়ের শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে তিনি ওই তিন নারূকে জুতার মালা পড়িয়ে লাঞ্ছিত করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ব্যপারে বক্তব্য পাওয়া যায়নি যুবদল কর্মী জিয়াউর রহমান জিয়ার।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবদুল হান্নান বলেন, তিন নারীকে জুতার মালা পড়িয়ে সড়কে ঘোরানোর কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন তিনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ওসিকে। অন্যায়কারী দলের লোক হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত