ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিজ বাসায় শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন শফিকুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাংবাদিক শফিকুর রহমানের পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা গ্রামের মিয়াজী বাড়ি। তার বাবার নাম মৌলভী আবদুল হামিদ আর মায়ের নাম আয়েশা খাতুন।
একাধারে মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। তিনি প্রথমে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল হাদিস বিষয়ে (ডিগ্রি) লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ধীরে ধীরে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেন। তাঁর কর্মজীবনের এই তিনটি দিক তাঁকে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাংবাদিকতা শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে দৈনিক ইত্তেফাক-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন শফিকুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়।
সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য ও জাপানে যান। বিদেশে এ বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা অব্যাহত থাকে।
পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকার সুবাদে সাংবাদিক মহলে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা পেশার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁকে গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় হন শফিকুর রহমান। তিনি চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।
সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসা এই ব্যক্তিত্বের কর্মজীবনে গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিত্ব—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়। ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, জানাজা ও দাফনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও রাজনীতির অঙ্গনে একটি পরিচিত মুখের প্রয়াণ ঘটল।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিজ বাসায় শৌচাগারে পড়ে গিয়েছিলেন শফিকুর রহমান। তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাংবাদিক শফিকুর রহমানের পৈত্রিক বাড়ি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা গ্রামের মিয়াজী বাড়ি। তার বাবার নাম মৌলভী আবদুল হামিদ আর মায়ের নাম আয়েশা খাতুন।
একাধারে মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষা লাভ করেন। তিনি প্রথমে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৫ সালে কামিল হাদিস বিষয়ে (ডিগ্রি) লাভ করেন। ১৯৬৭ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এবং ধীরে ধীরে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেন। তাঁর কর্মজীবনের এই তিনটি দিক তাঁকে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাংবাদিকতা শুরু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে দৈনিক ইত্তেফাক-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন শফিকুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত যাত্রা শুরু হয়।
সাংবাদিকতার ওপর উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য তিনি যুক্তরাজ্য ও জাপানে যান। বিদেশে এ বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের পর তিনি সাংবাদিকতা পেশায় নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ পথচলা অব্যাহত থাকে।
পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমান ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পরপর দুই মেয়াদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দেশের সাংবাদিকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংগঠনের নেতৃত্বে থাকার সুবাদে সাংবাদিক মহলে তাঁর পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতা পেশার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা তাঁকে গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় হন শফিকুর রহমান। তিনি চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।
সাংবাদিকতা থেকে রাজনীতিতে আসা এই ব্যক্তিত্বের কর্মজীবনে গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিত্ব—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়। ফরিদগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ, জানাজা ও দাফনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, জাতীয় প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব মিলিয়ে মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও রাজনীতির অঙ্গনে একটি পরিচিত মুখের প্রয়াণ ঘটল।

আপনার মতামত লিখুন