চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে শত একর বনভূমি উজাড় ও জবরদখলের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কয়েকজন জবরদখলকারীর নাম-পরিচয়ও উঠে এসেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের দাবি, জবরদখলকারীদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রশ্ন উঠেছে, গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে যাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে, তাদেরও শনাক্ত করতে পারছে না কেন বন বিভাগ?
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের উত্তর হারবাংয়ের নলবনিয়া, বৃন্দাবনখিল, নাপিতের চিতা ও পশ্চিম বৃন্দাবনখিলসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল করে ছনখোলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কোথাও গাছ কেটে জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখলে রেখে ছনখোলা ও চাষাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে গণমাধ্যমে চুনতি অভয়ারণ্যে বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও ছনখোলা তৈরির চিত্র নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী প্রকাশিত প্রতিবেদনেও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জবরদখলকারীর নাম উঠে আসে। কিন্তু এসব তথ্য প্রকাশের পরও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চুনতি এলাকায় সরকারি হিসাবে দখল হওয়া বনভূমির পরিমাণ ২৫১ দশমিক ১১ একর। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে দখল হওয়া বনভূমির পরিমাণ আরও বেশি। বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি স্পটে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমি দখলের পর সেখানে ছনখোলা তৈরি করা হচ্ছে। পরে এসব জায়গা স্থায়ীভাবে ভোগদখলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন দখল বহাল থাকায় অনেক এলাকায় বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশও বদলে গেছে। এতে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, জবরদখলকারীদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে বন কর্মকর্তার এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বনভূমি দখলের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কেন অপরিহার্য? গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে যাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে, বন বিভাগ নিজস্বভাবে যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম থাকলে বনভূমি দখলকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। অথচ দখলকারীদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকলে দখলদাররাই আরও উৎসাহিত হবে।
এদিকে ছনখোলা উচ্ছেদের বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, আগামী বর্ষার আগে ছনখোলা উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। তবে ছনখোলা উচ্ছেদ না করেই ওই এলাকার ভেতরে কিছু গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দখলমুক্ত না করে ছনখোলার ভেতরে চারা রোপণের এ উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাদের মতে, প্রথমে ছনখোলা উচ্ছেদ করে বনভূমি দখলমুক্ত করতে হবে। এরপর পরিকল্পিতভাবে বনায়ন করা হলে তা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো বলেন, ছনখোলার ভেতরে গাছের চারা রোপণ করে কোনো লাভ হবে না। ছনখোলার ভেতরের অতিরিক্ত গরম ও প্রতিকূল পরিবেশে চারাগুলো শুকিয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ছনখোলা উচ্ছেদ না করে চারা রোপণকে কার্যকর বন পুনরুদ্ধার উদ্যোগ বলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে কৌশলে জবরদখলকারীদের পক্ষ নিয়ে ছনখোলা রেখে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একদিকে বনভূমিতে দখল বহাল রয়েছে, অন্যদিকে সেই জায়গায় চারা রোপণ করা হচ্ছে। দখলমুক্ত না করে এ ধরনের বনায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পরিবেশকর্মীদের মতে, সংরক্ষিত বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় শুধু চারা রোপণ যথেষ্ট নয়। প্রথমে দখল শনাক্ত করে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর বনভূমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে উদ্ধার করা বনভূমিও আবার দখলের ঝুঁকিতে পড়বে।
এর আগে মগঘোনা এলাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরে রেলওয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫ হেক্টর জায়গায় বাগান করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে ছনখোলায় পরিণত হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পরও সেখানে দখল বহাল থাকলে বনায়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বনভূমি দখল, জবরদখলকারীদের শনাক্তকরণ, ছনখোলা উচ্ছেদ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শত একর বনভূমি দখল ও উজাড়ের অভিযোগের পরও যদি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব কীভাবে পালন করা হচ্ছে? আরও প্রশ্ন উঠেছে, গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে যাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে, তাদেরও যদি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ শনাক্ত করতে না পারে, তাহলে বনভূমির প্রকৃত দখলকারীদের শনাক্ত ও উচ্ছেদ করবে কীভাবে?
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দখলমুক্ত না করে ছনখোলা রেখে দেওয়ার কারণ এবং সেখানে চারা রোপণের কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করা দরকার। বনভূমি রক্ষায় বিলম্ব হলে দখল আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ছনখোলা উচ্ছেদ, বনভূমি উদ্ধার এবং জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে শত একর বনভূমি উজাড় ও জবরদখলের অভিযোগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কয়েকজন জবরদখলকারীর নাম-পরিচয়ও উঠে এসেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের দাবি, জবরদখলকারীদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রশ্ন উঠেছে, গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে যাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে, তাদেরও শনাক্ত করতে পারছে না কেন বন বিভাগ?
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের উত্তর হারবাংয়ের নলবনিয়া, বৃন্দাবনখিল, নাপিতের চিতা ও পশ্চিম বৃন্দাবনখিলসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমি দখল করে ছনখোলা তৈরির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কোথাও গাছ কেটে জায়গা পরিষ্কার করা হয়েছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে বনভূমি দখলে রেখে ছনখোলা ও চাষাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে গণমাধ্যমে চুনতি অভয়ারণ্যে বনভূমি দখল, গাছ কাটা ও ছনখোলা তৈরির চিত্র নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তী প্রকাশিত প্রতিবেদনেও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জবরদখলকারীর নাম উঠে আসে। কিন্তু এসব তথ্য প্রকাশের পরও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চুনতি এলাকায় সরকারি হিসাবে দখল হওয়া বনভূমির পরিমাণ ২৫১ দশমিক ১১ একর। তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে দখল হওয়া বনভূমির পরিমাণ আরও বেশি। বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি স্পটে বনভূমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভূমি দখলের পর সেখানে ছনখোলা তৈরি করা হচ্ছে। পরে এসব জায়গা স্থায়ীভাবে ভোগদখলে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন দখল বহাল থাকায় অনেক এলাকায় বনভূমির স্বাভাবিক পরিবেশও বদলে গেছে। এতে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, জবরদখলকারীদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তবে বন কর্মকর্তার এ বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, বনভূমি দখলের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কেন অপরিহার্য? গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে যাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে, বন বিভাগ নিজস্বভাবে যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম থাকলে বনভূমি দখলকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। অথচ দখলকারীদের ঘটনাস্থলে না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত থাকলে দখলদাররাই আরও উৎসাহিত হবে।
এদিকে ছনখোলা উচ্ছেদের বিষয়ে চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ জানান, আগামী বর্ষার আগে ছনখোলা উচ্ছেদ করা সম্ভব নয়। তবে ছনখোলা উচ্ছেদ না করেই ওই এলাকার ভেতরে কিছু গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দখলমুক্ত না করে ছনখোলার ভেতরে চারা রোপণের এ উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। তাদের মতে, প্রথমে ছনখোলা উচ্ছেদ করে বনভূমি দখলমুক্ত করতে হবে। এরপর পরিকল্পিতভাবে বনায়ন করা হলে তা টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলা উদ্দিন আলো বলেন, ছনখোলার ভেতরে গাছের চারা রোপণ করে কোনো লাভ হবে না। ছনখোলার ভেতরের অতিরিক্ত গরম ও প্রতিকূল পরিবেশে চারাগুলো শুকিয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ছনখোলা উচ্ছেদ না করে চারা রোপণকে কার্যকর বন পুনরুদ্ধার উদ্যোগ বলা যায় না।
তিনি আরও বলেন, বিট কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে কৌশলে জবরদখলকারীদের পক্ষ নিয়ে ছনখোলা রেখে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একদিকে বনভূমিতে দখল বহাল রয়েছে, অন্যদিকে সেই জায়গায় চারা রোপণ করা হচ্ছে। দখলমুক্ত না করে এ ধরনের বনায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
পরিবেশকর্মীদের মতে, সংরক্ষিত বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় শুধু চারা রোপণ যথেষ্ট নয়। প্রথমে দখল শনাক্ত করে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এরপর বনভূমি উদ্ধার, সীমানা নির্ধারণ ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে উদ্ধার করা বনভূমিও আবার দখলের ঝুঁকিতে পড়বে।
এর আগে মগঘোনা এলাকায় ২০২০-২১ অর্থবছরে রেলওয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫ হেক্টর জায়গায় বাগান করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে ছনখোলায় পরিণত হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পরও সেখানে দখল বহাল থাকলে বনায়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বনভূমি দখল, জবরদখলকারীদের শনাক্তকরণ, ছনখোলা উচ্ছেদ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মো. ইয়াছিন নেওয়াজের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শত একর বনভূমি দখল ও উজাড়ের অভিযোগের পরও যদি জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব কীভাবে পালন করা হচ্ছে? আরও প্রশ্ন উঠেছে, গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে যাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে, তাদেরও যদি সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ শনাক্ত করতে না পারে, তাহলে বনভূমির প্রকৃত দখলকারীদের শনাক্ত ও উচ্ছেদ করবে কীভাবে?
পরিবেশকর্মীরা বলছেন, দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দখলমুক্ত না করে ছনখোলা রেখে দেওয়ার কারণ এবং সেখানে চারা রোপণের কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করা দরকার। বনভূমি রক্ষায় বিলম্ব হলে দখল আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত ছনখোলা উচ্ছেদ, বনভূমি উদ্ধার এবং জবরদখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন