যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, মাদকাসক্তি, পরকীয়ার অভিযোগ এবং চার বছরের শিশুসন্তানকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে ফিরে পেতে রাঙামাটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁর স্ত্রী।
অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম শাওন (বিপি নম্বর—BP0020233003)। তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেলা পুলিশের অধীনে সুখ নীলগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২৬) অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে সাবিনা উল্লেখ করেন,২০২১ সালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের পাশের গ্রামের বাসিন্দা জাবেদুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর গাড়ি কেনার কথা বলে তাঁর পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সাবিনা।
অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য গত ১৬ মে তাঁকে চট্টগ্রামের একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন সাবিনা।
পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি হয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর স্বামী ওই চুক্তির শর্ত মানেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাবিনার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ থাকা তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে সাবিনা দাবি করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর কোল থেকে চার বছরের শিশুসন্তান আফান আয়ানকে নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
লিখিত আবেদনে সাবিনা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধারে জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সংশ্লিষ্ট ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে স্ত্রীর আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম শাওনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, মাদকাসক্তি, পরকীয়ার অভিযোগ এবং চার বছরের শিশুসন্তানকে জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্বামীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে ফিরে পেতে রাঙামাটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁর স্ত্রী।
অভিযোগে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম শাওন (বিপি নম্বর—BP0020233003)। তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেলা পুলিশের অধীনে সুখ নীলগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২৬) অভিযোগটি দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে সাবিনা উল্লেখ করেন,২০২১ সালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার বেলছড়ি ইউনিয়নের পাশের গ্রামের বাসিন্দা জাবেদুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর গাড়ি কেনার কথা বলে তাঁর পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া প্রায় ৬ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন সাবিনা।
অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও অনলাইন ক্যাসিনোতে আসক্ত থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মাদকাসক্তির চিকিৎসার জন্য গত ১৬ মে তাঁকে চট্টগ্রামের একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করেন সাবিনা।
পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি হয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর স্বামী ওই চুক্তির শর্ত মানেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাবিনার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ থাকা তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়।
অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে সাবিনা দাবি করেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর কোল থেকে চার বছরের শিশুসন্তান আফান আয়ানকে নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
লিখিত আবেদনে সাবিনা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধারে জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সংশ্লিষ্ট ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে স্ত্রীর আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম শাওনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন