জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আহত জনসংহতি সমিতির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ



খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আহত জনসংহতি সমিতির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ
ধর্ষণকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, শান্তি ও সংযমের আহ্বান

খাগড়াছড়িতে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে অন্তত কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সকলকে শান্ত ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর এক জুম্ম কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে “জুম্ম ছাত্র জনতা” ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয়।

অবরোধ চলাকালে পিকেটারদের সাথে স্থানীয় কিছু বাঙালির সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত বাঙালিরা মহাজনপাড়া ও খেজুরবাগানে জুম্ম ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। উত্তেজনা বেড়ে গেলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন দ্রুত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে য়ংড বৌদ্ধ বিহারের পাশে আবারও জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এসময় ধারালো দা’য়ের আঘাতে দুই জুম্ম যুবক গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) লিখিত বিবৃতি দিয়ে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য জুপিটার চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়—

পাহাড়ে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। সিঙ্গিনালার ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা।

একইসাথে আজকের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনসংহতি সমিতি প্রশাসনের প্রতি যথাযথ নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি বিবৃতিতে উল্লেখ করে, দেশের বর্তমান বাস্তবতা এবং সামনে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি বিনষ্ট না করার জন্য উভয় পক্ষকে শান্ত, ধৈর্যশীল ও সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।



আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আহত জনসংহতি সমিতির গভীর উদ্বেগ প্রকাশ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image

খাগড়াছড়িতে ধর্ষণকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। এতে অন্তত কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন করেছে। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সকলকে শান্ত ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণীর এক জুম্ম কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে “জুম্ম ছাত্র জনতা” ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল-সন্ধ্যা অবরোধের ডাক দেয়।

অবরোধ চলাকালে পিকেটারদের সাথে স্থানীয় কিছু বাঙালির সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে তা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত বাঙালিরা মহাজনপাড়া ও খেজুরবাগানে জুম্ম ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।

সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। উত্তেজনা বেড়ে গেলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন দ্রুত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে য়ংড বৌদ্ধ বিহারের পাশে আবারও জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এসময় ধারালো দা’য়ের আঘাতে দুই জুম্ম যুবক গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ঘটনার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) লিখিত বিবৃতি দিয়ে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য জুপিটার চাকমা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়—

পাহাড়ে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে এ ধরনের অপরাধ বাড়ছে। সিঙ্গিনালার ঘটনায় জড়িত ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় তারা।

একইসাথে আজকের সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জনসংহতি সমিতি প্রশাসনের প্রতি যথাযথ নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি বিবৃতিতে উল্লেখ করে, দেশের বর্তমান বাস্তবতা এবং সামনে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে জুম্ম ও বাঙালিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি বিনষ্ট না করার জন্য উভয় পক্ষকে শান্ত, ধৈর্যশীল ও সংযত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।




Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত