নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকৃত ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মহাদেবপুরের মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রি করে পিকআপযোগে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন চালক সোহেল রানা (২৫) ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫)। পথে রাত আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উত্তর গ্রামের চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়।
এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা চালক সোহেলকে মারধর করে এবং ম্যানেজার মজনুকে ব্যাপক মারধর করে তাদের কাছে থাকা মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরপর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুন্না (২৪) নামের এক যুবককে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিন (২৫) নামের আরেকজনকে মহাদেবপুরে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে ছিনতাইকৃত আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের চালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন চালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। তারা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং অধিকাংশ টাকা উদ্ধার করায় জেলা পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাইকৃত ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে মহাদেবপুরের মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিমের প্রতিষ্ঠানের মালামাল বিক্রি করে পিকআপযোগে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন চালক সোহেল রানা (২৫) ও দোকানের ম্যানেজার মজনু মিয়া (৩৫)। পথে রাত আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উত্তর গ্রামের চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়।
এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা চালক সোহেলকে মারধর করে এবং ম্যানেজার মজনুকে ব্যাপক মারধর করে তাদের কাছে থাকা মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ দলকে ঘটনাস্থলে পাঠান। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরপর জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরে ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুন্না (২৪) নামের এক যুবককে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিন (২৫) নামের আরেকজনকে মহাদেবপুরে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে ছিনতাইকৃত আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের চালক সোহেল রানাকে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন চালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। তারা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং অধিকাংশ টাকা উদ্ধার করায় জেলা পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

আপনার মতামত লিখুন