জয়পুরহাট    শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা



মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা
ছবি- সংগৃহীত

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাব্যতা বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে এটি ছিল তাঁর প্রথম খুলনা সফর। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মোংলা সমুদ্রবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এ বন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহন করা হয়।

সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নলিয়ানে পরিদর্শনে যান। এরপর সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শেষে নৌপথে মোংলায় পৌঁছান তিনি। পরে মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং জেটিসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় বন্দরটির সামগ্রিক অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বন্দরের উন্নয়নে বিভিন্ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মোংলা বন্দরকে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা, ড্রেজিং কার্যক্রম, খুলনা-মোংলা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়ক নির্মাণ, খান জাহান আলী বিমানবন্দর স্থাপন এবং ওয়াগন ও কনটেইনার ট্রেন চালু করা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিফিংয়ে উপস্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নাব্যতা অর্জন এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, হুইপ এবং খুলনা অঞ্চলের ১ ও ৫ নম্বর সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন), পরিচালক (ট্রাফিক), প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বন্দর চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানো সম্ভব হলে আরও বেশি গভীরতার জাহাজ এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে বন্দরের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর খুলনা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে মোংলা বন্দরের ভূমিকা আরও জোরালো করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাব্যতা বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রসারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে এটি ছিল তাঁর প্রথম খুলনা সফর। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানিয়েছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মোংলা সমুদ্রবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এ বন্দর দিয়ে তৈরি পোশাক, পাট, চামড়া, হিমায়িত খাদ্য ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিবহন করা হয়।

সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নলিয়ানে পরিদর্শনে যান। এরপর সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শেষে নৌপথে মোংলায় পৌঁছান তিনি। পরে মোংলা বন্দরের ৯ নম্বর জেটিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেন এবং জেটিসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় বন্দরটির সামগ্রিক অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গত ১০ অক্টোবর চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ৩৩৫ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি বন্দরের উন্নয়নে বিভিন্ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের বিষয় তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মোংলা বন্দরকে ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে বিবেচনা, ড্রেজিং কার্যক্রম, খুলনা-মোংলা সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, খুলনা-ভাঙ্গা সংযোগ সড়ক নির্মাণ, খান জাহান আলী বিমানবন্দর স্থাপন এবং ওয়াগন ও কনটেইনার ট্রেন চালু করা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিফিংয়ে উপস্থাপিত বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় নাব্যতা অর্জন এবং অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহনমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, হুইপ এবং খুলনা অঞ্চলের ১ ও ৫ নম্বর সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন), পরিচালক (ট্রাফিক), প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বন্দর চ্যানেলে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বাড়ানো সম্ভব হলে আরও বেশি গভীরতার জাহাজ এ বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে বন্দরের কার্যক্রমের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর খুলনা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নে মোংলা বন্দরের ভূমিকা আরও জোরালো করতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দ্রুত দূর করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকৃত হবেন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত