সব ধর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্রষ্টার সার্নীধ্য লাভ। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। বর্তমান সরকার বিভাজনে বিশ্বাস করে না। এ দেশ আমার আপনার সবার,তাই সবার আগে বাংলাদেশ।
বুধবার (২১-১০-২০২৬) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্তের জন্মভূমি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নারায়ণপুর গ্ৰামের বাসভবনে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব এর বিজয়া দশমীর দিন, সুবিধাবঞ্চিত সর্বস্তরের নারী-পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন, রাজশাহী-৬( বাঘা -চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
এসময় তিনি আখ চাষে প্রণোদনা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন এটাই প্রত্যাশা। তবে না জেনে বাড়তি কিছু লিখে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। আমার দাদার আমল থেকে আমরা আখ চাষ করে আসছি। নিয়ম মাফিক প্রনোদনার হকদার প্রকৃত কৃষক। যে প্রণোদনার শ্রেণী বিভাজন নাই সেখানে প্রকৃত আখ চাষীরাই পাবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ বলেন, আমার বড় আকাঙ্খা মানুষের কল্যাণে কাজ করা। প্রতিবছর সনাতন ধর্মালম্বীদের দুর্গোৎসব ও মুসলিম ধর্মের ঈদের উৎসবে বস্ত্র বিতরণ ও খাবারের আয়োজন করে থাকি। এবারে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বজনীন এই উৎসবকে সহযোগিতা করে প্রাণবন্ত করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।
আগামীতে ও সকলের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করতে চাই। সংখ্যালঘু বলে কেই যেন কখনও নিজেদের ছোট না করি। সবার মর্যাদা সমান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন,স্যারের নিজ গ্রামে হিন্দু মুসলিম সবার মাঝে বস্ত্র বিতরণ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।পূজা শুরুর আগে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের বিষয়টি সবার সহযোগিতা নিয়ে আশ্বস্ত
করেছি। হিমেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সভাপতি, সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান। বিএনপি নেতারা বলেন, শুধু পূজা বলে কথা নয়,তারেক জিয়ার নির্দেশনা মেনে বিএনপি সব সময় দেশের সকল মানুষের পাশে থাকবে। উপস্থিত ছিলেন, বাঘা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক, বিএনপির প্রবীণ নেতা আব্দুল লতিফ
মিঞা, বিএনপি নেতা,অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুল ইসলাম,বাবুল ইসলাম, তফিকুল ইসলাম তফি, মোখলেছুর রহমান, সুরুজ্জামান সুরুজ, আব্দুল লতিফ, আনোয়ার হোসেন পলাশ,যুবদল নেতা আল আমিন জমাদার,সোহেল রানা,পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কুমার সাহা প্রমুখ।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মীদের শারদীয় দুর্গোৎসব । সন্ধ্যার আগে উপজেলার নদীর ঘাট ও পুকুরপাড় এলাকায় বির্সজন দেওযা হয়। এর আগ পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বজনীন এই উৎসবকে সহযোগিতা করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী।
সনাতনীরা জানান, ‘আমাদের দুঃখ নাশ করে কৈলাসে নিজের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন মা।’ বিসর্জন শেষে ফাঁকা মণ্ডপ দেখে বুকের ভেতর থেকে উগরে আসা কষ্টকে হজম করার নামই সংযম। হাসিমুখে বলেন, ‘আসছে বছর আবার হবে।’
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ষষ্ঠী থেকে দশমী—এই পাঁচ দিনের জন্য কৈলাস থেকে মর্ত্যে বাবার বাড়ি আসেন উমা তথা মা দুর্গা। সঙ্গে আসেন গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী আর কার্তিক। ৮০ বছরের বৃদ্ধাও তাঁর মাকে ফিরে পান এই পাঁচটি দিন। চোখজুড়ে নামে প্রাপ্তির অশ্রুধারা।
পূজা শেষে সিঁদুর খেলা আর মিষ্টি বিতরণ আর মায়ের আশীর্বাদ নিতে ছিল মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের ভিড়। যাঁর যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরে মাকে স্বাগত জানাতে চেষ্টা করেন তারা। বির্সজনের আগ পর্যন্ত নির্মল এক বিনোদন পূজার রাতটাকে করে তোলে আরও আনন্দময়। ছোট ছোট দলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে ঘুরে দুর্গা দেবীর প্রতিমা দর্শন করে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। সব আয়োজন শেষে চারদিকে ছিল বিজয়ার সূর।
অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ,আনসার ভিডিপি ও র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে জানান, উপজেলার মানুষ শান্তিপ্রিয় বলেই এ পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবছর উপজেলায় ৪৭টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬
সব ধর্মের মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্রষ্টার সার্নীধ্য লাভ। প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। বর্তমান সরকার বিভাজনে বিশ্বাস করে না। এ দেশ আমার আপনার সবার,তাই সবার আগে বাংলাদেশ।
বুধবার (২১-১০-২০২৬) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্তের জন্মভূমি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নারায়ণপুর গ্ৰামের বাসভবনে সনাতন ধর্মালম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব এর বিজয়া দশমীর দিন, সুবিধাবঞ্চিত সর্বস্তরের নারী-পুরুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে একথা বলেন, রাজশাহী-৬( বাঘা -চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ।
এসময় তিনি আখ চাষে প্রণোদনা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন এটাই প্রত্যাশা। তবে না জেনে বাড়তি কিছু লিখে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না। আমার দাদার আমল থেকে আমরা আখ চাষ করে আসছি। নিয়ম মাফিক প্রনোদনার হকদার প্রকৃত কৃষক। যে প্রণোদনার শ্রেণী বিভাজন নাই সেখানে প্রকৃত আখ চাষীরাই পাবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ বলেন, আমার বড় আকাঙ্খা মানুষের কল্যাণে কাজ করা। প্রতিবছর সনাতন ধর্মালম্বীদের দুর্গোৎসব ও মুসলিম ধর্মের ঈদের উৎসবে বস্ত্র বিতরণ ও খাবারের আয়োজন করে থাকি। এবারে ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বজনীন এই উৎসবকে সহযোগিতা করে প্রাণবন্ত করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।
আগামীতে ও সকলের সহযোগিতা নিয়েই কাজ করতে চাই। সংখ্যালঘু বলে কেই যেন কখনও নিজেদের ছোট না করি। সবার মর্যাদা সমান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন,স্যারের নিজ গ্রামে হিন্দু মুসলিম সবার মাঝে বস্ত্র বিতরণ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।পূজা শুরুর আগে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনের বিষয়টি সবার সহযোগিতা নিয়ে আশ্বস্ত
করেছি। হিমেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ইউনিয়ন বিএনপি'র সাবেক সভাপতি, সাবেক কাউন্সিলর মতিউর রহমান। বিএনপি নেতারা বলেন, শুধু পূজা বলে কথা নয়,তারেক জিয়ার নির্দেশনা মেনে বিএনপি সব সময় দেশের সকল মানুষের পাশে থাকবে। উপস্থিত ছিলেন, বাঘা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক, বিএনপির প্রবীণ নেতা আব্দুল লতিফ
মিঞা, বিএনপি নেতা,অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুল ইসলাম,বাবুল ইসলাম, তফিকুল ইসলাম তফি, মোখলেছুর রহমান, সুরুজ্জামান সুরুজ, আব্দুল লতিফ, আনোয়ার হোসেন পলাশ,যুবদল নেতা আল আমিন জমাদার,সোহেল রানা,পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কুমার সাহা প্রমুখ।
এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মীদের শারদীয় দুর্গোৎসব । সন্ধ্যার আগে উপজেলার নদীর ঘাট ও পুকুরপাড় এলাকায় বির্সজন দেওযা হয়। এর আগ পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন, পুলিশ, আনসার সদস্যসহ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বজনীন এই উৎসবকে সহযোগিতা করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী।
সনাতনীরা জানান, ‘আমাদের দুঃখ নাশ করে কৈলাসে নিজের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন মা।’ বিসর্জন শেষে ফাঁকা মণ্ডপ দেখে বুকের ভেতর থেকে উগরে আসা কষ্টকে হজম করার নামই সংযম। হাসিমুখে বলেন, ‘আসছে বছর আবার হবে।’
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়,ষষ্ঠী থেকে দশমী—এই পাঁচ দিনের জন্য কৈলাস থেকে মর্ত্যে বাবার বাড়ি আসেন উমা তথা মা দুর্গা। সঙ্গে আসেন গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী আর কার্তিক। ৮০ বছরের বৃদ্ধাও তাঁর মাকে ফিরে পান এই পাঁচটি দিন। চোখজুড়ে নামে প্রাপ্তির অশ্রুধারা।
পূজা শেষে সিঁদুর খেলা আর মিষ্টি বিতরণ আর মায়ের আশীর্বাদ নিতে ছিল মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের ভিড়। যাঁর যাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী পোশাক পরে মাকে স্বাগত জানাতে চেষ্টা করেন তারা। বির্সজনের আগ পর্যন্ত নির্মল এক বিনোদন পূজার রাতটাকে করে তোলে আরও আনন্দময়। ছোট ছোট দলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এক মন্ডপ থেকে অন্য মন্ডপে ঘুরে দুর্গা দেবীর প্রতিমা দর্শন করে মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন। সব আয়োজন শেষে চারদিকে ছিল বিজয়ার সূর।
অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল হক বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ,আনসার ভিডিপি ও র্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করেছে। পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে জানান, উপজেলার মানুষ শান্তিপ্রিয় বলেই এ পর্যন্ত কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবছর উপজেলায় ৪৭টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন