মাটি আর মানুষের নিবিড় বন্ধনে ঘাম ঝরানো পরিশ্রমই যার জীবনের মূল চালিকাশক্তি, তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভার স্বর্গপুর মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নিজের এক চিলতে জমিতে নিবিড় পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষির সমন্বয়ে তিনি আজ উপজেলার একজন সফল ও দৃষ্টান্তমূলক সবজি চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম মূলত তার নিচু ও স্বল্প পরিমাণ জমিতে ঐতিহ্যগতভাবে ধান ও সরিষা চাষ করেন। তবে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে উঁচু ভিটা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে শুরু করেন নানা জাতের সবজির চাষাবাদ। শুরুর দিনগুলো অবশ্য একদম সহজ ছিল না। প্রথমদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা না আসলেও তিনি দমে যাননি, ছেড়ে দেননি হাল।
কৃষি কাজের প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখে উপজেলার কৃষি অফিস তার পাশে দাঁড়ায়। কৃষি কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় জাহাঙ্গীর আলম শুরু করেন আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ। ফসলের উৎপাদন খরচ কমাতে তিনি শুরু করেন রাসায়নিকের বদলে সুষম জৈব সারের ব্যবহার এবং নিয়মিত নিবিড় পরিচর্যা। কৌশলগত এই পরিবর্তনে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমে আসে, অন্যদিকে বাড়ে ফলন।
বর্তমানে তিনি মাত্র ১০ শতক উঁচু ভিটা জমিতে বেগুন, মিষ্টি লাউ, কাঠকচু ও পালং শাকের লাভজনক সমন্বিত চাষ করছেন। শীতের আমেজ শুরু হতেই নিজের ক্ষেতের পালং শাক তুলে বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "শুরুতে কিছুটা লোকসান হলেও হাল ছাড়িনি। নিচু জমিতে সরিষা ও কাঠকচুর পাশাপাশি উঁচু ভিটায় নিয়মিত সবজি চাষ করি। বর্তমানে শুধু পালং শাক বিক্রি করেই বীজ ও সারের খরচ উঠে যায়। এমনকি সবজির বাড়তি আয় থেকে ধান ও সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদি খরচও অনায়াসে মেটানো সম্ভব হচ্ছে। বেগুন, মিষ্টি লাউ আর পালং শাক থেকেই বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকছে।"
উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও তার নিজস্ব মেধা-শ্রমে গড়া এই সাফল্য স্থানীয় অন্য কৃষকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
জাহাঙ্গীর আলমের এই উদ্যোগের বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন আলী প্রামানিক বলেন, "জাহাঙ্গীর আলম অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী মানসিকতার একজন কৃষক। ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে নতুন নতুন ফসলের সফল আবাদ করে তিনি নিজের ভাগ্য বদলেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সব সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।"
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন বলেন, "মাঠে ফসল ফলিয়ে কৃষকরা যেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পান, সেজন্য কৃষি অফিস থেকে আমরা সর্বাত্মক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। জাহাঙ্গীর আলমের মতো পরিশ্রমী কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের এই সাফল্য প্রমাণ করে,সঠিক দিকনির্দেশনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অদম্য পরিশ্রম থাকলে সামান্য পরিমাণ জমিতেও কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
মাটি আর মানুষের নিবিড় বন্ধনে ঘাম ঝরানো পরিশ্রমই যার জীবনের মূল চালিকাশক্তি, তিনি বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া পৌরসভার স্বর্গপুর মহল্লার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে নিজের এক চিলতে জমিতে নিবিড় পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষির সমন্বয়ে তিনি আজ উপজেলার একজন সফল ও দৃষ্টান্তমূলক সবজি চাষী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম মূলত তার নিচু ও স্বল্প পরিমাণ জমিতে ঐতিহ্যগতভাবে ধান ও সরিষা চাষ করেন। তবে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে উঁচু ভিটা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে শুরু করেন নানা জাতের সবজির চাষাবাদ। শুরুর দিনগুলো অবশ্য একদম সহজ ছিল না। প্রথমদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা না আসলেও তিনি দমে যাননি, ছেড়ে দেননি হাল।
কৃষি কাজের প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখে উপজেলার কৃষি অফিস তার পাশে দাঁড়ায়। কৃষি কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় জাহাঙ্গীর আলম শুরু করেন আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষাবাদ। ফসলের উৎপাদন খরচ কমাতে তিনি শুরু করেন রাসায়নিকের বদলে সুষম জৈব সারের ব্যবহার এবং নিয়মিত নিবিড় পরিচর্যা। কৌশলগত এই পরিবর্তনে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমে আসে, অন্যদিকে বাড়ে ফলন।
বর্তমানে তিনি মাত্র ১০ শতক উঁচু ভিটা জমিতে বেগুন, মিষ্টি লাউ, কাঠকচু ও পালং শাকের লাভজনক সমন্বিত চাষ করছেন। শীতের আমেজ শুরু হতেই নিজের ক্ষেতের পালং শাক তুলে বাজারে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প তুলে ধরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "শুরুতে কিছুটা লোকসান হলেও হাল ছাড়িনি। নিচু জমিতে সরিষা ও কাঠকচুর পাশাপাশি উঁচু ভিটায় নিয়মিত সবজি চাষ করি। বর্তমানে শুধু পালং শাক বিক্রি করেই বীজ ও সারের খরচ উঠে যায়। এমনকি সবজির বাড়তি আয় থেকে ধান ও সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদি খরচও অনায়াসে মেটানো সম্ভব হচ্ছে। বেগুন, মিষ্টি লাউ আর পালং শাক থেকেই বছরে প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ থাকছে।"
উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও তার নিজস্ব মেধা-শ্রমে গড়া এই সাফল্য স্থানীয় অন্য কৃষকদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
জাহাঙ্গীর আলমের এই উদ্যোগের বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুন আলী প্রামানিক বলেন, "জাহাঙ্গীর আলম অত্যন্ত পরিশ্রমী ও উদ্ভাবনী মানসিকতার একজন কৃষক। ভিন্ন ভিন্ন মৌসুমে নতুন নতুন ফসলের সফল আবাদ করে তিনি নিজের ভাগ্য বদলেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাকে সব সময় প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।"
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল আবেদীন বলেন, "মাঠে ফসল ফলিয়ে কৃষকরা যেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পান, সেজন্য কৃষি অফিস থেকে আমরা সর্বাত্মক পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে আসছি। জাহাঙ্গীর আলমের মতো পরিশ্রমী কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের এই সাফল্য প্রমাণ করে,সঠিক দিকনির্দেশনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অদম্য পরিশ্রম থাকলে সামান্য পরিমাণ জমিতেও কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন