জয়পুরহাট    মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

লেখক: ‎অধ্যক্ষ ‎মোঃ আনিছুর রহমান

স্যোশাল মিডিয়ার অপব্যবহার ও তার ক্ষতিকর প্রভাব: প্রসঙ্গ বাংলাদেশ ‎



স্যোশাল মিডিয়ার অপব্যবহার ও তার ক্ষতিকর প্রভাব: প্রসঙ্গ বাংলাদেশ  ‎
ছবি- প্রতিনিধি

‎অত্যাধুনিক বা ডিজিটাল  যুগ যাহা বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম -সোশ্যালমিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক,ইউটিউবের অপব্যবহার আমাদের দেশে  কতটা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা কি আমরা লক্ষ্য করছি?  

আমি কখনো সোশ্যাল মিডিয়াকে দোষ দিতে চাই না এবং দেওয়া অবান্তর। যুক্তি মতে এগুলোকে দোষ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। উল্লেখিত সোস্যল মিডিয়া সমুহ হচ্ছে মাধ্যম  যা ব্যবহার করে একটি শিশু, একটি কিশোর এবং একজন যুবক বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। 

সহজ উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি বলি এগুলি একটি হাতুড়ির মতো যে হাতুড়িটা একটি বাড়িতে অত্যন্ত প্রয়োজন। টুকিটাকি অনেক কাজে যখন তখন ব্যবহার হয় সর্ব মহলে পরিচিত হাতুড়ি ।এজন্য দেখা যায় সব ধরনের বাড়িতে এমন কি অফিসে আদালতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এটি মজুদ থাকে। আবার এই হাতুড়ি দিয়ে হাতুড়ি পিটা করে মানুষকে আহত ,নিহত করা যায়। 

তারপরেও হাতুড়িটাকে কি দোষ দেওয়া যায়? হাতুড়িটার কি কোন দোষ আছে? নেই। এরকম আরও অসংখ্য অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবহার এই ভাবেই হয়ে থাকে -ভালো কাজেও মন্দ কাজেও। ফেসবুক ,ইউটিউব ব্যবহার করে আপনি জ্ঞান চর্চা করতে পারবেন রাঁধুনি হতে আগ্রহী গণ রান্না শিখতে  পারবেন ।

লেখা পড়া , সঙ্গীত চর্চা প্রকৌশল, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই যথাযথ সহযোগিতা করতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব। অতি সহজে এবং দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে চান করতে পারবেন। এক কথায় মন যাহা ভালো চায়, মনে পড়ে  সব কিছু নিতে পারবেন ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যে কাজ করতে চান করতে পারবেন। সবকিছুতেই আপনাকে সহযোগিতা করতে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব সদা প্রস্তুত।

‎আমি অত্যন্ত কষ্ট ও ব্যথা পেলাম ফেসবুকের একটি পোস্ট এবং তার কমেন্টস গুলো দেখে ।আমি বিব্রত হলাম এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থাটা দুঃখজনক পরিণতির দিকে যেতে পারে ।দ্বন্দ্ব, সংঘাত, ঘৃণা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলার নানা ধরনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে । আমি হুবুহু পোস্ট টি তুলে ধরছি না । কিছু ছায়া তথ্য শুধু দিচ্ছি আপনারাও হয়তো দেখেছেন বা দেখতে পারেন। এরকম শত শত পোস্ট চলছে তো চলছেই।

‎একজন রাজনৈতিক নেতা অন্য একটি দলের রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে অশালীন আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। সাথে সাথে কমেন্ট বক্সে শুরু হয়েছে আরো অশালীন মন্তব্যের প্রতিযোগিতা।যা দেখলে একজন বিবেকবান মানুষের মাথা হেট হয়ে যাবে। সথুলদৃষ্টিত এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন না কিন্তু

‎একটি শিশু এগুলো দেখছে কিংবা একটি কিশোর- বলেন তো তখন তার মানসিকতায় কি ধরনের প্রভাব ফেলবে? প্রথমত পোস্টে এবং কমেন্টসে দেখানো চিত্রগুলো শিশুকে কিশোরকে অশালীনতা ও অসভ্যতার  পথ দেখাবে। সমাজের নেতৃত্ব কর্তৃত্বদানকারী সকলের প্রতি তাদের ঘৃণা জন্মাবে। তাদের স্বভাব ,চরিত্র নষ্ট হয়ে যাবে । 

প্রচন্ড রকম অপরাধ প্রবণতা তাদের মাঝে তৈরি হবে। বলতে পারেন শিশু কিশোরদের জীবন ধ্বংস করার এগুলো অন্যতম অধ্যায়।   তৈরি হচ্ছে ভয়ানক কিশোর গ্যাং। সামাজিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে যাচ্ছে শিশু কিশোররা। আমরা কেনো উপলব্ধি করতে পারছি না যে এই ধরনের উদাসীনতা প্রজন্ম কে কিভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি? 

শিরোনাম বিহীন অশ্লীল অশালীন পোস্ট বা ভিডিও যতটা ক্ষতিকর তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সত্যি হোক, মিথ্যা হোক তৈরি কৃত অশালীন অশ্লীল পোস্ট বা ভিডিও। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন ছেলে মেয়েদের মাঝ থেকে আদব শিষ্টাচার কি পরিমান বিদায় নিয়েছে। ব্যতিক্রম সব জায়গায় থাকে এটি অস্বীকার করা যাবে না। পারিবারিক শিক্ষা বা বিশেষ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই জায়গায় অবদান রাখে যা খুব ই স্বল্প।

‎সমাজ বিজ্ঞানী মনোবিজ্ঞানী গণ সহ আরো নানা নামের জ্ঞানী গুনী ব্যক্তি গণ কে এ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলা উচিত। ‎আমার মনে হয় না বর্ণিত প্রসঙ্গটি বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এতোটা মারাত্মক ভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্য নেতিবাচক ভুমিকা রেখে চলেছে।

‎অধ্যক্ষ ‎মোঃ আনিছুর রহমান 

‎লেখক ও কলামিস্ট।

‎কড়িয়া মাদ্রাসা,পাঁচবিবি,জয়পুরহাট।

‎

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


স্যোশাল মিডিয়ার অপব্যবহার ও তার ক্ষতিকর প্রভাব: প্রসঙ্গ বাংলাদেশ ‎

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎অত্যাধুনিক বা ডিজিটাল  যুগ যাহা বলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম -সোশ্যালমিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুক,ইউটিউবের অপব্যবহার আমাদের দেশে  কতটা মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে তা কি আমরা লক্ষ্য করছি?  

আমি কখনো সোশ্যাল মিডিয়াকে দোষ দিতে চাই না এবং দেওয়া অবান্তর। যুক্তি মতে এগুলোকে দোষ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। উল্লেখিত সোস্যল মিডিয়া সমুহ হচ্ছে মাধ্যম  যা ব্যবহার করে একটি শিশু, একটি কিশোর এবং একজন যুবক বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে চলতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। 

সহজ উদাহরণ দিতে গিয়ে আমি বলি এগুলি একটি হাতুড়ির মতো যে হাতুড়িটা একটি বাড়িতে অত্যন্ত প্রয়োজন। টুকিটাকি অনেক কাজে যখন তখন ব্যবহার হয় সর্ব মহলে পরিচিত হাতুড়ি ।এজন্য দেখা যায় সব ধরনের বাড়িতে এমন কি অফিসে আদালতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এটি মজুদ থাকে। আবার এই হাতুড়ি দিয়ে হাতুড়ি পিটা করে মানুষকে আহত ,নিহত করা যায়। 

তারপরেও হাতুড়িটাকে কি দোষ দেওয়া যায়? হাতুড়িটার কি কোন দোষ আছে? নেই। এরকম আরও অসংখ্য অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবহার এই ভাবেই হয়ে থাকে -ভালো কাজেও মন্দ কাজেও। ফেসবুক ,ইউটিউব ব্যবহার করে আপনি জ্ঞান চর্চা করতে পারবেন রাঁধুনি হতে আগ্রহী গণ রান্না শিখতে  পারবেন ।

লেখা পড়া , সঙ্গীত চর্চা প্রকৌশল, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই যথাযথ সহযোগিতা করতে পারে ফেসবুক, ইউটিউব। অতি সহজে এবং দ্রুততম সময়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে চান করতে পারবেন। এক কথায় মন যাহা ভালো চায়, মনে পড়ে  সব কিছু নিতে পারবেন ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যে কাজ করতে চান করতে পারবেন। সবকিছুতেই আপনাকে সহযোগিতা করতে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব সদা প্রস্তুত।

‎আমি অত্যন্ত কষ্ট ও ব্যথা পেলাম ফেসবুকের একটি পোস্ট এবং তার কমেন্টস গুলো দেখে ।আমি বিব্রত হলাম এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থাটা দুঃখজনক পরিণতির দিকে যেতে পারে ।দ্বন্দ্ব, সংঘাত, ঘৃণা এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলার নানা ধরনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে । আমি হুবুহু পোস্ট টি তুলে ধরছি না । কিছু ছায়া তথ্য শুধু দিচ্ছি আপনারাও হয়তো দেখেছেন বা দেখতে পারেন। এরকম শত শত পোস্ট চলছে তো চলছেই।

‎একজন রাজনৈতিক নেতা অন্য একটি দলের রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে অশালীন আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন। সাথে সাথে কমেন্ট বক্সে শুরু হয়েছে আরো অশালীন মন্তব্যের প্রতিযোগিতা।যা দেখলে একজন বিবেকবান মানুষের মাথা হেট হয়ে যাবে। সথুলদৃষ্টিত এর ক্ষতিকর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন না কিন্তু

‎একটি শিশু এগুলো দেখছে কিংবা একটি কিশোর- বলেন তো তখন তার মানসিকতায় কি ধরনের প্রভাব ফেলবে? প্রথমত পোস্টে এবং কমেন্টসে দেখানো চিত্রগুলো শিশুকে কিশোরকে অশালীনতা ও অসভ্যতার  পথ দেখাবে। সমাজের নেতৃত্ব কর্তৃত্বদানকারী সকলের প্রতি তাদের ঘৃণা জন্মাবে। তাদের স্বভাব ,চরিত্র নষ্ট হয়ে যাবে । 

প্রচন্ড রকম অপরাধ প্রবণতা তাদের মাঝে তৈরি হবে। বলতে পারেন শিশু কিশোরদের জীবন ধ্বংস করার এগুলো অন্যতম অধ্যায়।   তৈরি হচ্ছে ভয়ানক কিশোর গ্যাং। সামাজিক নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে যাচ্ছে শিশু কিশোররা। আমরা কেনো উপলব্ধি করতে পারছি না যে এই ধরনের উদাসীনতা প্রজন্ম কে কিভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছি? 

শিরোনাম বিহীন অশ্লীল অশালীন পোস্ট বা ভিডিও যতটা ক্ষতিকর তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে সত্যি হোক, মিথ্যা হোক তৈরি কৃত অশালীন অশ্লীল পোস্ট বা ভিডিও। আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন ছেলে মেয়েদের মাঝ থেকে আদব শিষ্টাচার কি পরিমান বিদায় নিয়েছে। ব্যতিক্রম সব জায়গায় থাকে এটি অস্বীকার করা যাবে না। পারিবারিক শিক্ষা বা বিশেষ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই জায়গায় অবদান রাখে যা খুব ই স্বল্প।

‎সমাজ বিজ্ঞানী মনোবিজ্ঞানী গণ সহ আরো নানা নামের জ্ঞানী গুনী ব্যক্তি গণ কে এ প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলা উচিত। ‎আমার মনে হয় না বর্ণিত প্রসঙ্গটি বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এতোটা মারাত্মক ভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করার জন্য নেতিবাচক ভুমিকা রেখে চলেছে।

‎অধ্যক্ষ ‎মোঃ আনিছুর রহমান 

‎লেখক ও কলামিস্ট।

‎কড়িয়া মাদ্রাসা,পাঁচবিবি,জয়পুরহাট।

‎


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত