জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কাঁঠালিয়ায় কচুরিপানায় আমন চাষ ব্যাহত, বাড়ছে কৃষকের খরচ



কাঁঠালিয়ায় কচুরিপানায় আমন চাষ ব্যাহত, বাড়ছে কৃষকের খরচ
ছবি : প্রতিনিধি

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নদী-খাল ও নিচু জমি জুড়ে কচুরিপানার তীব্র জট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রোপা আমন ধান রোপণ ও তদারকি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আবাদের শুরুতেই ক্ষেত থেকে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা অপসারণ করতে গিয়ে তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি খরচ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে।

​স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষখালী নদী ও পাশের ছোট-বড় খালগুলো দিয়ে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা জোয়ারের পানিতে নিচু আবাদি জমিতে ঢুকে পড়ে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব কচুরিপানা ঘন ও শক্ত জালে রূপ নিয়েছে। রোপা আমন রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতের আগেই তা হাত দিয়ে বা শ্রমিক ডেকে পরিষ্কার করতে হচ্ছে।

​উপজেলার চেচঁরী রামপুর, আমুয়া, আওড়াবুনিয়া, সদর ও শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা দিনচুক্তি শ্রমিক নিয়ে ক্ষেত থেকে কচুরিপানা তুলে ডাঙ্গায় জমিয়ে রাখছেন। এতে প্রতি বিঘা জমিতে বাড়তি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হচ্ছে।

চেচঁরী রামপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. ছায়েদ আলী ফকির বলেন, "এমনিতেই সার, ডিজেল ও হাল চাষের দাম বেশি। তার ওপর কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই খামারের অর্ধেক বাজেট শেষ। সময়মতো কচুরিপানা সরাতে না পারলে আমন রোপণের মৌসুম পার হয়ে যাবে।"

​অনেক জায়গায় খাল ভরাট ও অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কচুরিপানা আটকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

​কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম জানান, বিষখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে কচুরিপানার আধিক্য এবার কিছুটা বেশি। কৃষকদের দ্রুত ক্ষেত পরিষ্কার করে আমন রোপণ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব খালে পানির প্রবাহ আটকে আছে, সেগুলো পরিষ্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

​আমনের ভরা মৌসুমে এই বাড়তি খরচ ও শ্রমের বোঝা কৃষকদের লোকসানের মুখে ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় আমন চাষিরা। 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কাঁঠালিয়ায় কচুরিপানায় আমন চাষ ব্যাহত, বাড়ছে কৃষকের খরচ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নদী-খাল ও নিচু জমি জুড়ে কচুরিপানার তীব্র জট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রোপা আমন ধান রোপণ ও তদারকি করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। আবাদের শুরুতেই ক্ষেত থেকে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা অপসারণ করতে গিয়ে তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি খরচ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদন খরচে।

​স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিষখালী নদী ও পাশের ছোট-বড় খালগুলো দিয়ে উজান থেকে ভেসে আসা কচুরিপানা জোয়ারের পানিতে নিচু আবাদি জমিতে ঢুকে পড়ে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব কচুরিপানা ঘন ও শক্ত জালে রূপ নিয়েছে। রোপা আমন রোপণের জন্য জমি প্রস্তুতের আগেই তা হাত দিয়ে বা শ্রমিক ডেকে পরিষ্কার করতে হচ্ছে।

​উপজেলার চেচঁরী রামপুর, আমুয়া, আওড়াবুনিয়া, সদর ও শৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষকেরা দিনচুক্তি শ্রমিক নিয়ে ক্ষেত থেকে কচুরিপানা তুলে ডাঙ্গায় জমিয়ে রাখছেন। এতে প্রতি বিঘা জমিতে বাড়তি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা অতিরিক্ত শ্রমিকের মজুরি বাবদ ব্যয় হচ্ছে।

চেচঁরী রামপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. ছায়েদ আলী ফকির বলেন, "এমনিতেই সার, ডিজেল ও হাল চাষের দাম বেশি। তার ওপর কচুরিপানা পরিষ্কার করতেই খামারের অর্ধেক বাজেট শেষ। সময়মতো কচুরিপানা সরাতে না পারলে আমন রোপণের মৌসুম পার হয়ে যাবে।"

​অনেক জায়গায় খাল ভরাট ও অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় কচুরিপানা আটকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি করছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।

​কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম জানান, বিষখালী নদীর সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোতে কচুরিপানার আধিক্য এবার কিছুটা বেশি। কৃষকদের দ্রুত ক্ষেত পরিষ্কার করে আমন রোপণ শেষ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব খালে পানির প্রবাহ আটকে আছে, সেগুলো পরিষ্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

​আমনের ভরা মৌসুমে এই বাড়তি খরচ ও শ্রমের বোঝা কৃষকদের লোকসানের মুখে ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় আমন চাষিরা। 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত