জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সুষ্ঠ বিচারের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

রাণীনগরে বাল্য বিয়ের কাগজ চাওয়ায় মারপিটের শিকার গৃহবধূ সুমি



রাণীনগরে বাল্য বিয়ের কাগজ চাওয়ায় মারপিটের শিকার গৃহবধূ সুমি
ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন  উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ধর্ম বিষয় সম্পাদক প্রভাবশালী কথিত কাজী মো: বেলাল হোসেনের কাছে ছেলের বাল্য বিয়ের কাগজপত্রাদি নিতে গিয়ে মারপিটের শিকার হয়েছেন মোছা: সুমি বেগম নামের এক অসহায় গৃহবধূ। 

এমন ঘটনায় গত ১০আগস্ট থানায় হাজির হয়ে লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ প্রদান করলেও বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অপরদিকে প্রতিনিয়তই কাজী মো: বেলাল হোসেনের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকীতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন অসহায় গৃহবধূ সুমি বেগম। 


সদর উপজেলার খলিসাকুড়ি গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা: সুমি বেগম জানান, প্রায় ১৮বছর আগে গোপনে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে তিনি গরীব বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে অনেক কষ্টে তার একমাত্র ছেলে সোহান (১৬) এর পড়ালেখা চালু রেখেছেন। 

জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী সোহানের জন্ম ২০১০সাল। চলতি বছর সোহান এসএসসি পাশ করে সবেমাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার ছেলেকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। প্রায় দুই মাস আগে তার ছেলে গোপনে রাণীনগরে থাকা তার এক আত্মীয়ের মেয়েকে বিয়ে করে। 

বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন যে, ১২হাজার টাকার নিয়ে রাণীনগরের কাজী মো: বেলাল তার ছেলের বয়স কমিয়ে ভুয়া একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। বিয়ে সত্য না মিথ্যে তা যাচাই করার জন্য এফিডেভিটের মূল কপি নিতে একাধিকবার কাজী বেলালের কাছে কাগজপত্রাদি চাইতে গেলে কাজী বেলাল বিভিন্ন বাহানা দেখায়। 

শেষবার কাজী বেলাল আরো ১২হাজার টাকা নিয়ে আসলে কাগজপত্রাদি দিবেন মর্মে চলতি মাসের ১০তারিখে রাণীনগর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কাজী বেলালের বাসায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যান গৃহবধূ। এসময় কাজী বেলাল তাদেরকে বাসার মধ্যে তুলে কাগজপত্রাদি দিবে না মর্মে ভয়ভীতি দেখায়। 

একসময় কাজী বেলাল তার সঙ্গীয় দালাল স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী হারুন ও মাছ ব্যবসায়ী ভাসানের ছেলে লিটনকে ডেকে বাসায় আনার পর কথা বলতে শুরু করতেই কাজী বেলাল ও তার ছেলে ঝাড়ু দিয়ে তাদেরকে বেদম মারপিট শুরু করে। এসময় কাজী বেলাল তাকে পতিতার মেয়েসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। 


এরপর কোন ভাবে কাজী বেলালের বাসা থেকে বের হয়ে তারা বাহিরে আসলে সেখানে অনেক মানুষের জটলার তৈরি হয়। এরপর স্থানীয় মানুষরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। 

হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে এসআই জুলফিকারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এসআই জুলফিকার অভিযোগ পাওয়ার পর কাজী বেলালের সঙ্গে আতাত করার কারণে অভিযোগ প্রদানের ১৬দিন পার হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন। 


এরপর থেকে কাজী মো: বেলাল হোসেন বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। অভিযোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত (২৬ আগস্ট) থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এই বিষয়ে সুমি বেগম সরকারের কাছে সুষ্ঠ বিচার দাবী জানিয়েছেন। 

এই বিষয়ে কথিত কাজী মো: বেলাল হোসেনের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

উপজেলা ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী সমিতির সভাপতি এটিএম রেজাউল ইসলাম বলেন কাজী মো: বেলাল হোসাইন ২০১২সালে আ’লীগের মরহুম এমপি ইসরাফিল আলমকে ম্যানেজ করে অন্য এলাকার বাসিন্দা হয়েও কাজী বেলাল নিজেকে অবৈধ ভাবে কাশিমপুর ইউনিয়নের কাজী বানিয়ে নেয়। 

এরপর থেকে কাজী বেলাল অর্থের বিনিময়ে আ’লীগের ছত্রছাঁয়ায় থেকে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এখন পর্যন্ত  অবৈধ কাজ করে আসছে। এই বিষয়ে বহুবার জেলা ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় অভিযোগ আকারে বলে কোন লাভ হয়নি। 

একাধিকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। তবে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে কাজী বেলালের দৌরাত্ম বন্ধ করা খুবই জরুরী। তা না হলে তার দ্বারা সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতেই থাকবে আর সংসারেও অশান্তি সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। 

থানার এসআই জুলফিকার জানান ব্যস্ততার কারণে তিনি অভিযোগটি নিয়ে কাজ করতে পারেননি। দ্রুতই তিনি ওসির সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় বসে একটি মিটমাটের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান অভিযোগের বিষয়টি তার জানা ছিলো না। এই বিষয়ে তিনি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। 


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


রাণীনগরে বাল্য বিয়ের কাগজ চাওয়ায় মারপিটের শিকার গৃহবধূ সুমি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন  উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ধর্ম বিষয় সম্পাদক প্রভাবশালী কথিত কাজী মো: বেলাল হোসেনের কাছে ছেলের বাল্য বিয়ের কাগজপত্রাদি নিতে গিয়ে মারপিটের শিকার হয়েছেন মোছা: সুমি বেগম নামের এক অসহায় গৃহবধূ। 

এমন ঘটনায় গত ১০আগস্ট থানায় হাজির হয়ে লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ প্রদান করলেও বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) পর্যন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। অপরদিকে প্রতিনিয়তই কাজী মো: বেলাল হোসেনের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকীতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন অসহায় গৃহবধূ সুমি বেগম। 


সদর উপজেলার খলিসাকুড়ি গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছা: সুমি বেগম জানান, প্রায় ১৮বছর আগে গোপনে তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করলে তিনি গরীব বাবার বাড়িতে চলে আসেন। এরপর থেকে মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে অনেক কষ্টে তার একমাত্র ছেলে সোহান (১৬) এর পড়ালেখা চালু রেখেছেন। 

জন্ম নিবন্ধন সনদ অনুযায়ী সোহানের জন্ম ২০১০সাল। চলতি বছর সোহান এসএসসি পাশ করে সবেমাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে। তার ছেলেকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন। প্রায় দুই মাস আগে তার ছেলে গোপনে রাণীনগরে থাকা তার এক আত্মীয়ের মেয়েকে বিয়ে করে। 

বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন যে, ১২হাজার টাকার নিয়ে রাণীনগরের কাজী মো: বেলাল তার ছেলের বয়স কমিয়ে ভুয়া একটি এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। বিয়ে সত্য না মিথ্যে তা যাচাই করার জন্য এফিডেভিটের মূল কপি নিতে একাধিকবার কাজী বেলালের কাছে কাগজপত্রাদি চাইতে গেলে কাজী বেলাল বিভিন্ন বাহানা দেখায়। 

শেষবার কাজী বেলাল আরো ১২হাজার টাকা নিয়ে আসলে কাগজপত্রাদি দিবেন মর্মে চলতি মাসের ১০তারিখে রাণীনগর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কাজী বেলালের বাসায় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যান গৃহবধূ। এসময় কাজী বেলাল তাদেরকে বাসার মধ্যে তুলে কাগজপত্রাদি দিবে না মর্মে ভয়ভীতি দেখায়। 

একসময় কাজী বেলাল তার সঙ্গীয় দালাল স্থানীয় বিএনপি নেতা কাজী হারুন ও মাছ ব্যবসায়ী ভাসানের ছেলে লিটনকে ডেকে বাসায় আনার পর কথা বলতে শুরু করতেই কাজী বেলাল ও তার ছেলে ঝাড়ু দিয়ে তাদেরকে বেদম মারপিট শুরু করে। এসময় কাজী বেলাল তাকে পতিতার মেয়েসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। 


এরপর কোন ভাবে কাজী বেলালের বাসা থেকে বের হয়ে তারা বাহিরে আসলে সেখানে অনেক মানুষের জটলার তৈরি হয়। এরপর স্থানীয় মানুষরা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। 

হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে এসআই জুলফিকারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। এসআই জুলফিকার অভিযোগ পাওয়ার পর কাজী বেলালের সঙ্গে আতাত করার কারণে অভিযোগ প্রদানের ১৬দিন পার হলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন। 


এরপর থেকে কাজী মো: বেলাল হোসেন বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। অভিযোগ দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত (২৬ আগস্ট) থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এই বিষয়ে সুমি বেগম সরকারের কাছে সুষ্ঠ বিচার দাবী জানিয়েছেন। 

এই বিষয়ে কথিত কাজী মো: বেলাল হোসেনের বক্তব্য নিতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

উপজেলা ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ও কাজী সমিতির সভাপতি এটিএম রেজাউল ইসলাম বলেন কাজী মো: বেলাল হোসাইন ২০১২সালে আ’লীগের মরহুম এমপি ইসরাফিল আলমকে ম্যানেজ করে অন্য এলাকার বাসিন্দা হয়েও কাজী বেলাল নিজেকে অবৈধ ভাবে কাশিমপুর ইউনিয়নের কাজী বানিয়ে নেয়। 

এরপর থেকে কাজী বেলাল অর্থের বিনিময়ে আ’লীগের ছত্রছাঁয়ায় থেকে সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এখন পর্যন্ত  অবৈধ কাজ করে আসছে। এই বিষয়ে বহুবার জেলা ও উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় অভিযোগ আকারে বলে কোন লাভ হয়নি। 

একাধিকবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর লিখিত ভাবে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। তবে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে কাজী বেলালের দৌরাত্ম বন্ধ করা খুবই জরুরী। তা না হলে তার দ্বারা সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতেই থাকবে আর সংসারেও অশান্তি সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। 

থানার এসআই জুলফিকার জানান ব্যস্ততার কারণে তিনি অভিযোগটি নিয়ে কাজ করতে পারেননি। দ্রুতই তিনি ওসির সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় বসে একটি মিটমাটের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান অভিযোগের বিষয়টি তার জানা ছিলো না। এই বিষয়ে তিনি দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। 



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত