জয়পুরহাট    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সরকারি পুকুরের মাটি রাতে ট্রাকে,যাচ্ছে কোথায়?



সরকারি পুকুরের মাটি রাতে ট্রাকে,যাচ্ছে কোথায়?
ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সরকারি অর্থায়নে পুকুর পুনঃখননের মাটি রাতে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ট্রাক আটকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন স্থানীয়রা। তবে মাটি নেওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, পুকুরে অতিরিক্ত মাটি হওয়ায় তা বিক্রি করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দি এলাকায় ‘বরকতুল্লাহ খান বাড়ী পুকুর’ পুনঃখননের কাজ চলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন করে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে ওই মাটি কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।


প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরী ও উপজেলা এলাকার ইজারাবিহীন খাস পুকুর ও জলাশয়সমূহের সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর আওতায় ‘CCTF/DHK/ASH/U/W#05 ধামসোনা ইউনিয়নের বরকতুল্লাহ খান বাড়ী পুকুর পুনঃখনন’ প্যাকেজে পুকুরটির পুনঃখননের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৮ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮০ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মেসার্স হাজী শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্স, বিসিক মাদারীপুর। প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর।


প্রকল্পের নথিতে বাস্তবায়নকাল মে ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি কাজের সময়সীমা ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ‘৩১/০৬/২০২৭’ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জুন মাসে ৩১ দিন না থাকায় শেষ তারিখটি নিয়ে নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল নথি থেকে সঠিক সময়সীমা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, “রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যেতে দেখেছি। তবে কোথায় নেওয়া হয়, তা জানি না।

আরেক বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, শুনেছি সরকারি অর্থে পুকুর কাটা হচ্ছে। রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যায়।


স্থানীয়দের অভিযোগের পর কয়েকটি ট্রাক আটকে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শাহীনূর ইসলাম বলেন, রাতে কয়েকটি ট্রাক আটকে রাখার পর তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি।

স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন বলেন, রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার সচেতন মানুষ ট্রাক আটকে জানতে চেয়েছেন, মাটি কোথায় যাচ্ছে। মাটি কোথায় যাচ্ছে, তা জিজ্ঞাসা করার অধিকার তাঁদের আছে। আমিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছি।


তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান মিজানের দাবি, পুকুরে অতিরিক্ত মাটি হওয়ায় তা বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাটি বেশি হওয়ায় বিক্রি করছি। ডিসি অফিসে প্রতিদিন চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিচ্ছি।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি জানেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউএনও স্যার জানেন।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখি কী হয়েছে। মাটি যদি বেশি থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা বলব এবং নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে বিক্রি করতে পারবে। এর আগে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মাটি পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে, প্রতিদিন কত পরিমাণ মাটি উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে, সেই মাটির পরিমাণের সঙ্গে প্রকল্পের হিসাবের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে,এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের দাবি রাখে। একই সঙ্গে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখিত কাজের সময়সীমার অসঙ্গতিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি পুকুরের মাটি রাতে ট্রাকে,যাচ্ছে কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সরকারি অর্থায়নে পুকুর পুনঃখননের মাটি রাতে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ট্রাক আটকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন স্থানীয়রা। তবে মাটি নেওয়ার বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, পুকুরে অতিরিক্ত মাটি হওয়ায় তা বিক্রি করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়া থানার ধামসোনা ইউনিয়নের সুবন্দি এলাকায় ‘বরকতুল্লাহ খান বাড়ী পুকুর’ পুনঃখননের কাজ চলছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন করে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে ওই মাটি কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে, তা নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।


প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ঢাকা মহানগরী ও উপজেলা এলাকার ইজারাবিহীন খাস পুকুর ও জলাশয়সমূহের সংস্কার, উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণ প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এর আওতায় ‘CCTF/DHK/ASH/U/W#05 ধামসোনা ইউনিয়নের বরকতুল্লাহ খান বাড়ী পুকুর পুনঃখনন’ প্যাকেজে পুকুরটির পুনঃখননের কাজ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৮ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮০ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মেসার্স হাজী শরীয়তুল্লাহ ট্রেডার্স, বিসিক মাদারীপুর। প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর।


প্রকল্পের নথিতে বাস্তবায়নকাল মে ২০২৫ থেকে এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি কাজের সময়সীমা ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ‘৩১/০৬/২০২৭’ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জুন মাসে ৩১ দিন না থাকায় শেষ তারিখটি নিয়ে নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মূল নথি থেকে সঠিক সময়সীমা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, “রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যেতে দেখেছি। তবে কোথায় নেওয়া হয়, তা জানি না।

আরেক বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, শুনেছি সরকারি অর্থে পুকুর কাটা হচ্ছে। রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যায়।


স্থানীয়দের অভিযোগের পর কয়েকটি ট্রাক আটকে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শাহীনূর ইসলাম বলেন, রাতে কয়েকটি ট্রাক আটকে রাখার পর তাঁদের প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে মাটি বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়ে আমি রাতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি।

স্থানীয় ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ মোঃ ইসরাফিল হোসেন বলেন, রাতে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকার সচেতন মানুষ ট্রাক আটকে জানতে চেয়েছেন, মাটি কোথায় যাচ্ছে। মাটি কোথায় যাচ্ছে, তা জিজ্ঞাসা করার অধিকার তাঁদের আছে। আমিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রাতে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা পেয়েছি।


তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান মিজানের দাবি, পুকুরে অতিরিক্ত মাটি হওয়ায় তা বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাটি বেশি হওয়ায় বিক্রি করছি। ডিসি অফিসে প্রতিদিন চালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিচ্ছি।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি জানেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউএনও স্যার জানেন।

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে দেখি কী হয়েছে। মাটি যদি বেশি থাকে, সে ক্ষেত্রে আমরা বলব এবং নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে বিক্রি করতে পারবে। এর আগে বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের মাটি পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে কী নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে, প্রতিদিন কত পরিমাণ মাটি উত্তোলন ও পরিবহন করা হচ্ছে, সেই মাটির পরিমাণের সঙ্গে প্রকল্পের হিসাবের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না এবং সরকারি কোষাগারে কত টাকা জমা দেওয়া হচ্ছে,এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের দাবি রাখে। একই সঙ্গে প্রকল্পের নথিতে উল্লেখিত কাজের সময়সীমার অসঙ্গতিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত