জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সান্তাহারে নকল হারপিক তৈরির কারখানা মালিক ধরা খেলেন খাবার স্যালাইন নিয়ে



সান্তাহারে নকল হারপিক তৈরির কারখানা মালিক ধরা খেলেন খাবার স্যালাইন নিয়ে
ছবি- প্রতিনিধি

হামিদুল ইসলাম মেজর (৪৫)। নামে মেজর হলেও আসলে তিনি একজন প্রতারক। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরে দুইটি অবৈধ কারখানায় নকল হারপিক তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি হারপিক নিয়ে ধরা না খেলেও বাজারে খবার স্যালাইন সরবরাহ করতে গিয়ে ঠিকই ধরা পড়েন।

রবিবার দুপুরে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের উপহার টাউয়ারের নিচে নকল এসএমসির ওরস্যালাইন সরবরাহ করতে গিয়ে স্থানিয় ডিলার অব্দুল মজিদের হাতে ধরা খান। এরপর উপস্থিত ব্যবসায়ীরা তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ১১ কার্টন খাবার স্যালাইন উদ্ধার করে পুলিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে রাখা হয় ফাঁড়িতে। চেষ্টা চালানো হয়- আরও নকল পন্য উদ্ধারের জন্য। কিন্ত তার চেয়ে ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। আর সেই তথ্যেই অভিযানে নামেন ভ্রাম্যমান আদালত।


আদালত সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার পৌর শহরে হামিদুল ইসলাম মেজরের নিজ বাড়ি পাথরকুটা গ্রামে এবং সাহেবপাড়া মহল্লায় ভাড়া নেওয়া বাসায় অনুমোদনহীন দুটি কারখানায় নকল মোড়কে কেমিক্যাল ব্যবহার করে হারপিক তৈরি করা হচ্ছিল। সেখানে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগম। এরপর তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হারপিকের নকল মোড়ক, অবৈধভাবে তৈরি হারপিক ও নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে হামিদুল ইসলাম মেজরকে হাজির করানো হয়। এ সময় কারখানা থেকে হারপিক তৈরির উল্লেখিত আলামত ও উদ্ধারকৃত ১১ কার্টন খাবার স্যালাইন জব্দ দেখানো হয়। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। সেই সাথে জব্দকৃত আলামতগুলো ধ্বংস করা হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘এক যুগেরও অধীক সময় ধরে পৌর শহরের পাথরকুটা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে হামিদুল ইসলাম মেজর দুইটি অবৈধ কারখানায় নকল পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার কারখানা দুটিতে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নকল হারপিক, জিক্সান এসিড ও ভিম সহ বিভিন্ন নকল পণ্য উদ্ধার করেন। এরপর আবারও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নকল পণ্য তৈরি করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এই মেজর। অবশেষে আবারও ধরা। ’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, ‘ভেজাল ও নকল পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। পণ্যে ভেজালকারীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


সান্তাহারে নকল হারপিক তৈরির কারখানা মালিক ধরা খেলেন খাবার স্যালাইন নিয়ে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হামিদুল ইসলাম মেজর (৪৫)। নামে মেজর হলেও আসলে তিনি একজন প্রতারক। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরে দুইটি অবৈধ কারখানায় নকল হারপিক তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে তিনি হারপিক নিয়ে ধরা না খেলেও বাজারে খবার স্যালাইন সরবরাহ করতে গিয়ে ঠিকই ধরা পড়েন।

রবিবার দুপুরে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের উপহার টাউয়ারের নিচে নকল এসএমসির ওরস্যালাইন সরবরাহ করতে গিয়ে স্থানিয় ডিলার অব্দুল মজিদের হাতে ধরা খান। এরপর উপস্থিত ব্যবসায়ীরা তাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ১১ কার্টন খাবার স্যালাইন উদ্ধার করে পুলিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত তাকে রাখা হয় ফাঁড়িতে। চেষ্টা চালানো হয়- আরও নকল পন্য উদ্ধারের জন্য। কিন্ত তার চেয়ে ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে। আর সেই তথ্যেই অভিযানে নামেন ভ্রাম্যমান আদালত।


আদালত সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার পৌর শহরে হামিদুল ইসলাম মেজরের নিজ বাড়ি পাথরকুটা গ্রামে এবং সাহেবপাড়া মহল্লায় ভাড়া নেওয়া বাসায় অনুমোদনহীন দুটি কারখানায় নকল মোড়কে কেমিক্যাল ব্যবহার করে হারপিক তৈরি করা হচ্ছিল। সেখানে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা বেগম। এরপর তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে হারপিকের নকল মোড়ক, অবৈধভাবে তৈরি হারপিক ও নানা উপকরণ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে হামিদুল ইসলাম মেজরকে হাজির করানো হয়। এ সময় কারখানা থেকে হারপিক তৈরির উল্লেখিত আলামত ও উদ্ধারকৃত ১১ কার্টন খাবার স্যালাইন জব্দ দেখানো হয়। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। সেই সাথে জব্দকৃত আলামতগুলো ধ্বংস করা হয়।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘এক যুগেরও অধীক সময় ধরে পৌর শহরের পাথরকুটা গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের ছেলে হামিদুল ইসলাম মেজর দুইটি অবৈধ কারখানায় নকল পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করে আসছিলেন। ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার কারখানা দুটিতে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নকল হারপিক, জিক্সান এসিড ও ভিম সহ বিভিন্ন নকল পণ্য উদ্ধার করেন। এরপর আবারও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে নকল পণ্য তৈরি করে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এই মেজর। অবশেষে আবারও ধরা। ’

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, ‘ভেজাল ও নকল পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই। পণ্যে ভেজালকারীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত