জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ



নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ
ছবি- সংগৃহীত

গত মাসের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় কয়েক ধরনের সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৌরভ আমান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজির দাম এখনও অনেক বেশি। সেগুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। বাকি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা এখন তুলনামূলক ঠিক আছে। গত মাসের তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কিছুটা কম।’

ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে এসব সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে সবজির দাম এমনই থাকবে।’
এদিকে মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মুরগি বিক্রেতা জিকরুল আযম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (২১ আগস্ট) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। একটির দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গত মাসের তুলনায় রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় কয়েক ধরনের সবজি এখনও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে দাম কমার তেমন কোনও লক্ষণ নেই। ফলে নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে শিম, গাজর, টমেটো, বেগুন ও বরবটির দাম তুলনামূলক বেশি। প্রতি কেজি শিম ২০০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, টমেটো ১৩০ টাকা, বেগুন ১২০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, ধন্দুল ৬০ টাকা এবং মুলা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সৌরভ আমান বলেন, ‘তুলনামূলকভাবে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চার-পাঁচ ধরনের সবজির দাম এখনও অনেক বেশি। সেগুলোর দাম ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। বাকি সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে, যা এখন তুলনামূলক ঠিক আছে। গত মাসের তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কিছুটা কম।’

ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা খাদিমুল ইসলাম বলেন, ‘বেগুন, শিম, গাজর, বরবটি ও টমেটোর সিজন না হওয়ায় সরবরাহ কিছুটা কম। এ কারণে এসব সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অন্যান্য সবজির দাম আগের তুলনায় কমেছে। টানা বৃষ্টি না হলে সবজির দাম এমনই থাকবে।’
এদিকে মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানে ডিমের দাম ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

মুরগি বিক্রেতা জিকরুল আযম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আজ (২১ আগস্ট) ব্রয়লার ১৯০ টাকায় কেজি বিক্রি করেছি। সোনালি মুরগিও আগের মতো ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং মাছ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। ৯০০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকায় এবং এক কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে মাছ, মুরগি ও ডিম কিনতেই সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করতে হচ্ছে। একটির দাম কিছুটা কমলেও অন্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে বাজার খরচ। ফলে আগের তুলনায় একই পরিমাণ টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সংসারের ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত