জয়পুরহাট    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আশুলিয়ায় শিশু তাসিন হত্যা, খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন



আশুলিয়ায় শিশু তাসিন হত্যা, খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
ছবি: প্রতিনিধি

ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় পাঁচ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় শিশু তাসিন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই ভবনের ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে যান বাড়িওয়ালার স্ত্রী রিনা বেগম। এ সময় নেটের নিচে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান তিনি। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত ছাদে ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির হাত-পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায়ও টেপ প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আব্দুর রহমান তাসিন জামালপুরের মেলান্দহ থানার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকত সে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কীভাবে শিশুটিকে ওই ভবনের ছাদে নেওয়া হলো, কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেল এবং হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন কাজ না করে, সে বিষয়েও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, তাসিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হত্যাকারীরা যেই হোক না কেন, দ্রুত তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে তাসিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভাদাইলের পরিবেশ। নিষ্পাপ শিশুটিকে কারা এবং কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে এখন সেই রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


আশুলিয়ায় শিশু তাসিন হত্যা, খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকার আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় পাঁচ বছরের শিশু আব্দুর রহমান তাসিনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশুকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় শিশু তাসিন। এর প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই ভবনের ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে যান বাড়িওয়ালার স্ত্রী রিনা বেগম। এ সময় নেটের নিচে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান তিনি। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতরে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত ছাদে ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দি মরদেহটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির হাত-পা ও মুখ কস্টেপ দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায়ও টেপ প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আব্দুর রহমান তাসিন জামালপুরের মেলান্দহ থানার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের সঙ্গে আশুলিয়ার ভাদাইল বাজার চৌরাস্তা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় ভাড়া বাসায় থাকত সে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কীভাবে শিশুটিকে ওই ভবনের ছাদে নেওয়া হলো, কারা তাকে সেখানে নিয়ে গেল এবং হত্যার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এসব প্রশ্নের উত্তর দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। তদন্তে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ যেন কাজ না করে, সে বিষয়েও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, তাসিন হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের ওপর আঘাত নয়, এটি পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। হত্যাকারীরা যেই হোক না কেন, দ্রুত তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। কারা এবং কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে তাসিনের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে ভাদাইলের পরিবেশ। নিষ্পাপ শিশুটিকে কারা এবং কেন এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে এখন সেই রহস্য উদঘাটনের অপেক্ষায় পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়রা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত