জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

রিকশাবিহীন ক্ষেতলালে একমাত্র রিকশা ওয়ালা রাজ্জাক মন্ডল



রিকশাবিহীন ক্ষেতলালে একমাত্র রিকশা ওয়ালা রাজ্জাক মন্ডল
ছবি: প্রতিনিধি

রিকশা মালিকের বাড়ি ক্ষেতলালে কিন্তু তার জীবিকার ঠিকানা জয়পুরহাট শহর। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে রিকশাটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রাজ্জাক মন্ডল। 

ক্ষেতলাল বাজার পেরিয়ে ছুটে যান জয়পুরহাট শহরে। সেখানে দিনভর যাত্রী বহন করে সন্ধ্যায় আবার রিকশা নিয়ে ফেরেন নিজের বাড়িতে। এভাবেই চলছে তাঁর জীবিকা।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা যেন রিকশাবিহীন এক জনপদ। এখানকার সড়কে চোখ মেললেই দেখা যায় ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজি। কিন্তু রিকশা? সেটি যেন এই এলাকার চেনা দৃশ্যের অংশই নয়। অথচ সেই ক্ষেতলালেই এখন মাঝেমধ্যে দেখা মেলে একটি রিকশার। পুরো উপজেলার রিকশা বলতে স্থানীয়দের চোখে সেটিই যেন একমাত্র।

আর সেই একটি রিকশাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ক্ষেতলাল বাজার দিয়ে রিকশাটি যখন যায়, তখন অনেকেই থমকে তাকান। কেউ আবার মজা করে প্রশ্ন করেন ক্ষেতলালে রিকশা কবে থেকে চলতে শুরু করল?

এই রিকশাটির মালিক ক্ষেতলাল পৌর এলাকার সূর্যবান গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক মন্ডল। নিজের রিকশা থাকলেও ক্ষেতলালে তিনি যাত্রী খোঁজেন না। কারণ, এখানে রিকশার যাত্রীই নেই বললেই চলে। তাই প্রতিদিন সকালে রিকশা নিয়ে জয়পুরহাট শহরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শহরে পৌঁছে শুরু হয় তাঁর দিনের কর্মযুদ্ধ। এক যাত্রী নামেন, আরেক যাত্রী ওঠেন

এভাবেই সারাদিন রিকশা চালিয়ে আয় করেন রাজ্জাক। কাজ শেষে সন্ধ্যায় আবার সেই রিকশা নিয়েই ফিরতে হয় ক্ষেতলালের বাড়িতে।

রাজ্জাক মন্ডল বলেন, ক্ষেতলালে রিকশা চলাচল না থাকায় এখানে যাত্রী পাওয়া যায় না। মানুষ ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজিতেই বেশি চলাচল করেন। তাই প্রতিদিন রিকশা নিয়ে জয়পুরহাট শহরে যাই। সেখানে রিকশা চালিয়ে আয় করি। কাজ শেষে আবার রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

ক্ষেতলাল উপজেলার স্থানীয় সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজি যাত্রী পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। গ্রামের সড়ক থেকে উপজেলা সদর সবখানেই এসব যানবাহনের আধিপত্য। ফলে অন্যান্য শহর বা উপজেলার মতো এখানে রিকশাচালকদের আলাদা কোনো পেশাগত পরিবেশ কিংবা রিকশাকেন্দ্রিক যাত্রীসেবা গড়ে ওঠেনি।

এবিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ক্ষেতলালে রিকশার প্রয়োজনীয়তা তেমন তৈরি হয়নি। কম দূরত্বে ভ্যান ও অটোরিকশা সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ সেগুলোকেই বেশি ব্যবহার করেন। ফলে রিকশা নিয়ে কেউ এখানে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে নামলে তাঁর আয় করাই কঠিন।

তবে রাজ্জাক মন্ডলের রিকশাটি ক্ষেতলালের পরিবহনচিত্রের এক ব্যতিক্রমী প্রতিচ্ছবি। যে রিকশার নিজের এলাকায় কোনো যাত্রী নেই, সেই রিকশাই প্রতিদিন পাড়ি দেয় অন্য শহরে। 

ক্ষেতলাল থেকে জয়পুরহাট প্রতিদিনের এই যাত্রাই রাজ্জাকের জীবিকার পথ তৈরি করেছে। সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়া, সারাদিন শহরের ব্যস্ত সড়কে যাত্রী বহন করা, আর সন্ধ্যায় আবার বাড়ি ফেরা এই নিয়মেই কেটে যাচ্ছে তাঁর দিন।

ক্ষেতলালের এই একমাত্র রিকশার গল্প তাই শুধু একটি যানবাহনের গল্প নয়। এটি জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের প্রতিদিনের ছুটে চলার গল্প। যে রিকশার ঠিকানা ক্ষেতলাল, অথচ যার যাত্রী আর জীবিকার গন্তব্য জয়পুরহাট শহর।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রিকশাবিহীন ক্ষেতলালে একমাত্র রিকশা ওয়ালা রাজ্জাক মন্ডল

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রিকশা মালিকের বাড়ি ক্ষেতলালে কিন্তু তার জীবিকার ঠিকানা জয়পুরহাট শহর। প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে রিকশাটি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রাজ্জাক মন্ডল। 

ক্ষেতলাল বাজার পেরিয়ে ছুটে যান জয়পুরহাট শহরে। সেখানে দিনভর যাত্রী বহন করে সন্ধ্যায় আবার রিকশা নিয়ে ফেরেন নিজের বাড়িতে। এভাবেই চলছে তাঁর জীবিকা।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা যেন রিকশাবিহীন এক জনপদ। এখানকার সড়কে চোখ মেললেই দেখা যায় ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজি। কিন্তু রিকশা? সেটি যেন এই এলাকার চেনা দৃশ্যের অংশই নয়। অথচ সেই ক্ষেতলালেই এখন মাঝেমধ্যে দেখা মেলে একটি রিকশার। পুরো উপজেলার রিকশা বলতে স্থানীয়দের চোখে সেটিই যেন একমাত্র।

আর সেই একটি রিকশাকে ঘিরেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল। ক্ষেতলাল বাজার দিয়ে রিকশাটি যখন যায়, তখন অনেকেই থমকে তাকান। কেউ আবার মজা করে প্রশ্ন করেন ক্ষেতলালে রিকশা কবে থেকে চলতে শুরু করল?

এই রিকশাটির মালিক ক্ষেতলাল পৌর এলাকার সূর্যবান গ্রামের বাসিন্দা রাজ্জাক মন্ডল। নিজের রিকশা থাকলেও ক্ষেতলালে তিনি যাত্রী খোঁজেন না। কারণ, এখানে রিকশার যাত্রীই নেই বললেই চলে। তাই প্রতিদিন সকালে রিকশা নিয়ে জয়পুরহাট শহরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শহরে পৌঁছে শুরু হয় তাঁর দিনের কর্মযুদ্ধ। এক যাত্রী নামেন, আরেক যাত্রী ওঠেন

এভাবেই সারাদিন রিকশা চালিয়ে আয় করেন রাজ্জাক। কাজ শেষে সন্ধ্যায় আবার সেই রিকশা নিয়েই ফিরতে হয় ক্ষেতলালের বাড়িতে।

রাজ্জাক মন্ডল বলেন, ক্ষেতলালে রিকশা চলাচল না থাকায় এখানে যাত্রী পাওয়া যায় না। মানুষ ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজিতেই বেশি চলাচল করেন। তাই প্রতিদিন রিকশা নিয়ে জয়পুরহাট শহরে যাই। সেখানে রিকশা চালিয়ে আয় করি। কাজ শেষে আবার রিকশা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

ক্ষেতলাল উপজেলার স্থানীয় সড়কগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজি যাত্রী পরিবহনের প্রধান মাধ্যম। গ্রামের সড়ক থেকে উপজেলা সদর সবখানেই এসব যানবাহনের আধিপত্য। ফলে অন্যান্য শহর বা উপজেলার মতো এখানে রিকশাচালকদের আলাদা কোনো পেশাগত পরিবেশ কিংবা রিকশাকেন্দ্রিক যাত্রীসেবা গড়ে ওঠেনি।

এবিষয়ে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ক্ষেতলালে রিকশার প্রয়োজনীয়তা তেমন তৈরি হয়নি। কম দূরত্বে ভ্যান ও অটোরিকশা সহজলভ্য হওয়ায় মানুষ সেগুলোকেই বেশি ব্যবহার করেন। ফলে রিকশা নিয়ে কেউ এখানে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে নামলে তাঁর আয় করাই কঠিন।

তবে রাজ্জাক মন্ডলের রিকশাটি ক্ষেতলালের পরিবহনচিত্রের এক ব্যতিক্রমী প্রতিচ্ছবি। যে রিকশার নিজের এলাকায় কোনো যাত্রী নেই, সেই রিকশাই প্রতিদিন পাড়ি দেয় অন্য শহরে। 

ক্ষেতলাল থেকে জয়পুরহাট প্রতিদিনের এই যাত্রাই রাজ্জাকের জীবিকার পথ তৈরি করেছে। সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়া, সারাদিন শহরের ব্যস্ত সড়কে যাত্রী বহন করা, আর সন্ধ্যায় আবার বাড়ি ফেরা এই নিয়মেই কেটে যাচ্ছে তাঁর দিন।

ক্ষেতলালের এই একমাত্র রিকশার গল্প তাই শুধু একটি যানবাহনের গল্প নয়। এটি জীবিকার প্রয়োজনে মানুষের প্রতিদিনের ছুটে চলার গল্প। যে রিকশার ঠিকানা ক্ষেতলাল, অথচ যার যাত্রী আর জীবিকার গন্তব্য জয়পুরহাট শহর।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত