পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই। গ্যাস-জ্বালানি সংকট, নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, পরিবহন ও চিকিৎসা ব্যয়ে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন চাপ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে আয়ের সাথে ব্যয়ে মধ্যবিত্ত মানুষ চরম দিশেহারা। আপনার এই পর্যবেক্ষণ বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার এক নির্মম ও সত্য প্রতিফলন। যখন চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া ও যাতায়াত খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ে, কিন্তু নির্দিষ্ট আয় একই জায়গায় থমকে থাকে, তখন জীবনযাত্রার মান টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক সংকটের মুখে পড়েছে। সরকারি হিসাবে জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার সুফল দৃশ্যমান নয়।
গত কয়েক মাসে ভোজ্যতেল, আটা, ডাল, লবণ, আলু, রসুন, ডিম, গুঁড়া দুধ ও মৌসুমি সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া রয়েছে। এর সঙ্গে ডলারের দরবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিনির্ভর পণ্য, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালের ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাড়ছে উৎপাদন ও জীবনযাত্রার খরচ।
এর মধ্যে নতুন করে বড় সংকট তৈরি করেছে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ।
এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ নেমে গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, সাভার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রড, স্টিল, ডাইং, সিমেন্ট, জাহাজভাঙা ও তৈরি পোশাক শিল্পেও এর প্রভাব পড়ছে।
গ্যাস সংকটে শুধু শিল্প নয়, আবাসিক গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায় চুলা না জ্বলায় অনেক পরিবারকে গভীর রাতে রান্না করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়তি খরচে ইলেকট্রিক চুলা কিংবা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। ফলে বিদ্যুৎ ও রান্নার খরচও বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন শহুরে মধ্যবিত্তরা। সীমিত আয়ের কারণে তারা একদিকে টিসিবির মতো সহায়তা ব্যবস্থার সুবিধা নিতে পারছেন না, অন্যদিকে বাজারের বাড়তি ব্যয়ও সামলাতে পারছেন না। মাসের খরচ মেটাতে অনেক পরিবার সঞ্চয় ভাঙছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়েও কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মুদ্রানীতি বা বাজার তদারকির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যবিত্তের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।
কারণ মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও মানুষের আয় যদি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারে, তাহলে পরিসংখ্যানের স্বস্তি বাস্তব জীবনে কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না। সাধারণ মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—একই আয় দিয়ে মাসের খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও জ্বালানির খরচ আর কতদিন সামলানো সম্ভব?

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমলেও বাজারে স্বস্তি নেই। গ্যাস-জ্বালানি সংকট, নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, পরিবহন ও চিকিৎসা ব্যয়ে চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। একই সঙ্গে গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে নতুন চাপ।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণে আয়ের সাথে ব্যয়ে মধ্যবিত্ত মানুষ চরম দিশেহারা। আপনার এই পর্যবেক্ষণ বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার এক নির্মম ও সত্য প্রতিফলন। যখন চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া ও যাতায়াত খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ে, কিন্তু নির্দিষ্ট আয় একই জায়গায় থমকে থাকে, তখন জীবনযাত্রার মান টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক সংকটের মুখে পড়েছে। সরকারি হিসাবে জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে। তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ২৮ শতাংশে রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে মূল্যস্ফীতি কমলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার সুফল দৃশ্যমান নয়।
গত কয়েক মাসে ভোজ্যতেল, আটা, ডাল, লবণ, আলু, রসুন, ডিম, গুঁড়া দুধ ও মৌসুমি সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম চড়া রয়েছে। এর সঙ্গে ডলারের দরবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানিনির্ভর পণ্য, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামালের ব্যয় বেড়েছে। ফলে বাড়ছে উৎপাদন ও জীবনযাত্রার খরচ।
এর মধ্যে নতুন করে বড় সংকট তৈরি করেছে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ।
এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন এবং দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন কমে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ নেমে গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, সাভার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রড, স্টিল, ডাইং, সিমেন্ট, জাহাজভাঙা ও তৈরি পোশাক শিল্পেও এর প্রভাব পড়ছে।
গ্যাস সংকটে শুধু শিল্প নয়, আবাসিক গ্রাহকরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলায় চুলা না জ্বলায় অনেক পরিবারকে গভীর রাতে রান্না করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাড়তি খরচে ইলেকট্রিক চুলা কিংবা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। ফলে বিদ্যুৎ ও রান্নার খরচও বাড়ছে।
সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন শহুরে মধ্যবিত্তরা। সীমিত আয়ের কারণে তারা একদিকে টিসিবির মতো সহায়তা ব্যবস্থার সুবিধা নিতে পারছেন না, অন্যদিকে বাজারের বাড়তি ব্যয়ও সামলাতে পারছেন না। মাসের খরচ মেটাতে অনেক পরিবার সঞ্চয় ভাঙছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়েও কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মুদ্রানীতি বা বাজার তদারকির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা, সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যবিত্তের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।
কারণ মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও মানুষের আয় যদি ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারে, তাহলে পরিসংখ্যানের স্বস্তি বাস্তব জীবনে কোনো স্বস্তি বয়ে আনবে না। সাধারণ মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—একই আয় দিয়ে মাসের খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও জ্বালানির খরচ আর কতদিন সামলানো সম্ভব?

আপনার মতামত লিখুন