একটি রাস্তা, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে ১৫টি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। সেই পথটিও এখন কাঁদায় ও মল-মুত্রের নির্গত পানিতে প্রায় অচল। তার ওপর চলাচলের একমাত্র রাস্তার মাঝখানে সেপটিক ট্যাংকি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নাকাল হতে হচ্ছে কয়েকটি পরিবারের। একটি চলাচলের পথের অভাবে যেন বন্দি হয়ে পড়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হাটশাপিলা গ্রামের ১৫টি পরিবার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ১৫টি পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহার করা পথটি মৃদুল সোনার নামের এক ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে গেছে। পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই ৫ ফিট পথ দিয়েই পরিবারগুলোর সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করছেন। তবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও রাস্তায় মাঝখানে সেপটিক ট্যাংকি ফেটে নির্গত দূষিত বর্জ্যে পথটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পথটি সরু ও নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে তলিয়ে যায়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, বয়স্কদের চলাচল কিংবা অসুস্থ রোগীকে নিয়ে বের হওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সেপটিক ট্যাংকির তীব্র দুর্গন্ধ। আর এই দুর্গন্ধযুক্ত ট্যাংকি মাড়িয়েই সড়ু পথে যাওয়ার সময় নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে চলতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এতে শুধু চলাচলেই সমস্যা হচ্ছে না, আশপাশের পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
কামরুল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়েই চলাচল করছি।
আমাদের নিজস্ব কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। বৃষ্টি হলে কাদায় হাঁটা যায় না, আবার অন্যের জমির উপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র রাস্তার মাঝখানে সেপটিক ট্যাংকি বসানো তাও আবার প্রতিনিয়ই সেই অরক্ষিত ট্যাংকি বেয়ে গড়িয়ে পড়ে মল-মুত্র, দুর্গন্ধে পথ দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া—সবকিছুতেই দুর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, মৃদুল সোনারের জমির ওপর দিয়ে চলাচলের এই পথটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে যাতে ১৫টি পরিবার একটি স্থায়ী ও নিরাপদ চলাচলের পথ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।মুঠোফোনে মৃদুল সোনারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তাদের বাড়ির গেটের সামনে থেকে আমার জমি আমি ওগুলো ফাঁকা ফেলে রেখেছি, চলাচলের রাস্তায় পুরো ট্যাংকির উপর দিয়ে তারা গাড়ি নিয়ে চলাচল করার কারণে ফেটে গিয়েছে, তারা ভালো মানুষ নয়।
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিটন বলেন, ইতিপূর্বে আমি এই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করেছি কিন্তু মৃদুল সোনার কিছুতেই মানতে রাজি নন। ঐ ১৫ টি পরিবার অসহায় জীবন-যাপন করছে, এর একটা সুষ্ঠু বিহিত হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী ১৫ টি পরিবারের দাবি, দ্রুত জায়গাটি পরিদর্শন করে ১৫টি পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ এবং সেপটিক ট্যাংকি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধের স্থায়ী সমাধান করা হোক।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
একটি রাস্তা, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে ১৫টি পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। সেই পথটিও এখন কাঁদায় ও মল-মুত্রের নির্গত পানিতে প্রায় অচল। তার ওপর চলাচলের একমাত্র রাস্তার মাঝখানে সেপটিক ট্যাংকি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে নাকাল হতে হচ্ছে কয়েকটি পরিবারের। একটি চলাচলের পথের অভাবে যেন বন্দি হয়ে পড়েছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হাটশাপিলা গ্রামের ১৫টি পরিবার।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই ১৫টি পরিবারের চলাচলের জন্য ব্যবহার করা পথটি মৃদুল সোনার নামের এক ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে গেছে। পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই ৫ ফিট পথ দিয়েই পরিবারগুলোর সদস্যরা বাড়ি থেকে বের হয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করছেন। তবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও রাস্তায় মাঝখানে সেপটিক ট্যাংকি ফেটে নির্গত দূষিত বর্জ্যে পথটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পথটি সরু ও নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে তলিয়ে যায়। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, বয়স্কদের চলাচল কিংবা অসুস্থ রোগীকে নিয়ে বের হওয়া—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সেপটিক ট্যাংকির তীব্র দুর্গন্ধ। আর এই দুর্গন্ধযুক্ত ট্যাংকি মাড়িয়েই সড়ু পথে যাওয়ার সময় নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে চলতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এতে শুধু চলাচলেই সমস্যা হচ্ছে না, আশপাশের পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
কামরুল নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই পথ দিয়েই চলাচল করছি।
আমাদের নিজস্ব কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। বৃষ্টি হলে কাদায় হাঁটা যায় না, আবার অন্যের জমির উপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র রাস্তার মাঝখানে সেপটিক ট্যাংকি বসানো তাও আবার প্রতিনিয়ই সেই অরক্ষিত ট্যাংকি বেয়ে গড়িয়ে পড়ে মল-মুত্র, দুর্গন্ধে পথ দিয়ে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া—সবকিছুতেই দুর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, মৃদুল সোনারের জমির ওপর দিয়ে চলাচলের এই পথটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভবিষ্যতে যাতে ১৫টি পরিবার একটি স্থায়ী ও নিরাপদ চলাচলের পথ পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।মুঠোফোনে মৃদুল সোনারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তাদের বাড়ির গেটের সামনে থেকে আমার জমি আমি ওগুলো ফাঁকা ফেলে রেখেছি, চলাচলের রাস্তায় পুরো ট্যাংকির উপর দিয়ে তারা গাড়ি নিয়ে চলাচল করার কারণে ফেটে গিয়েছে, তারা ভালো মানুষ নয়।
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আহসান হাবীব লিটন বলেন, ইতিপূর্বে আমি এই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা করেছি কিন্তু মৃদুল সোনার কিছুতেই মানতে রাজি নন। ঐ ১৫ টি পরিবার অসহায় জীবন-যাপন করছে, এর একটা সুষ্ঠু বিহিত হওয়া প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী ১৫ টি পরিবারের দাবি, দ্রুত জায়গাটি পরিদর্শন করে ১৫টি পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ এবং সেপটিক ট্যাংকি থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধের স্থায়ী সমাধান করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন