জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ আনিছুর রহমান

‎বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও চাহিদা



‎বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও চাহিদা
ছবি: প্রতিনিধি

‎জলবায়ু পরিবর্তন climang বিশ্বের সর্বাধিক আলোচিত টপিক সমূহের অন্যতম। এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক জায়গায় চরমভাবে আঘাত হেনেছে একই ভাবে মানুষের মনোজগতের গভীরে  কম আঘাত করেনি। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব পরিবর্তনের একটি যুগান্তকারী ইস্যু। 

‎আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশ ছিল ষড় ঋতুর দেশ। প্রতি দুই মাস পর পর পরিবর্তিত হতো ঋতুর। ছয় ঋতুর নাম  গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ,হেমন্ত, শীত‌ ও বসন্ত। প্রতিটি ঋতু তার আলাদা বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বিরাজ করতো। এখন আমরা দেখতে পাই ক্লাইমেট চেঞ্জ আমাদের দেশের ষড় ঋতুকে আঘাত করে প্রায় তছনছ করে দিয়েছে। আমরা এক এক বছর এক এক ধরনের আবহাওয়া দেখতে পাই এখন। কখনো শীত, কখনো গরম, কখনো বৃষ্টি, কখনো খরা। আর এই শব্দ বা পদ যাই বলি এগুলোর সাথে "অতি" উপসর্গ যুক্ত করেই আমাদের বছরের আবহাওয়ার পরিচিতি তুলে ধরতে হচ্ছে। দেশের আবহাওয়া জগতে এ অবস্থা শিশু শিক্ষার্থীদের উপরই শুধু নয় জ্ঞানচর্চা কারী সকল ছাত্র ছাত্রী দের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সঙ্গত কারণে এই সকল অবস্থাকে বিচার বিশ্লেষণ করে সময় উপযোগী শিক্ষা পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। সমৃদ্ধ শিক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্র বিশাল। এগুলো নিয়ে আলোচনা করলে আলোচনার বড়ো রকমের বিস্তার ঘটবে বিধায় শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক তাদেরকে নিয়েই আলোচনা সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলব এখানে।

‎শিক্ষকদের প্রস্তুতি 

‎(১) নিয়মতান্ত্রিক জীবন : 

‎শিক্ষকদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হবে নিজেদের জীবনকে নিয়মতান্ত্রিক রূপে গড়ে তোলা। এতদ সংক্রান্ত জ্ঞান ,অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনকে যে রকম সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে একইভাবে  নিজেদেরকে মডেল হিসেবে উপস্থাপিত করে শিক্ষার্থীদেরকে সেই ফর্মুলায় গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

‎(২)স্বাস্থ্য সচেতনতা : 

‎সুস্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। 

‎শিক্ষক মানেই মার্জিত শিক্ষিত। সুতরাং শিক্ষকগণ স্বাস্থ্য সচেতন হবেন এটি সকলের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই জায়গায় অনেক ক্ষত, ছিদ্র দেখা যায়। শিক্ষকদের মাঝেও দেখা যায় স্বাস্থ্য অচেতন চরিত্র। এটি কখনো কাম্য নয়। শিক্ষকদের উচিত নিজেদের স্বার্থে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের স্বার্থে এবং তাদের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া।(৩)পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ও

‎ প্রয়োজনীয় জ্ঞান:

‎শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড শিক্ষক শিক্ষার মেরুদন্ড এটি বহু আলোচনার সারমর্ম কথা। শিক্ষকগণ সকল বিষয়ের উপর সচেতন হবেন সকল বিষয়ের উপরে তাদের পারফেক্ট জ্ঞান থাকবে এবং থাকা উচিত। না থাকা শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের দৈনতা। এর ঘাটতি নিয়ে শিক্ষকগণ সফল‌ ভাবে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।

‎(৪)তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মৌলিক জ্ঞান ,অভিজ্ঞতা:

‎বর্তমান বিশ্বের সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল সিঁড়ি কিংবা লিফট যাই বলেন না কেন তা হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। শিক্ষকগণ এই জায়গায় পিছিয়ে থাকবেন তা কোনভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষক গণ যদি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেদের অন্ততঃ চলন সই না করেন তাহলে তাদের দ্বারা বর্তমান যুগে যথাযথ ভাবে শিক্ষকতা , অসম্ভব।। এই জায়গায় ঘাটতি নিয়ে থাকা শিক্ষক দের নিয়ে জাতির  সামনে এগিয়ে যাওয়ার কল্পনা করা যায় না।

‎(৫)যোগাযোগ দক্ষতা।:

‎যোগাযোগ দক্ষতা জীবনকে উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অনুসঙ্গ। আকর্ষণীয় ভাবে স্বদেশী ,বিদেশী ভাষায় কথা বলার দক্ষতা একজন শিক্ষকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এই জায়গায় আমরা দুঃখজনকভাবে পিছিয়ে আছি।এ বিষয়ে শিক্ষক গণের প্রস্তুতি অতীব জরুরি।

‎(৬) সামাজিক গুন সমৃদ্ধ হওয়া । 

‎একজন মানুষ তখন ই সকল ক্ষেত্রে গ্রহণ যোগ্যতা পান যখন তার মধ্যে সামাজিক গুণ থাকে। শিক্ষকদেরকে সামাজিক গুনে পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হওয়া উচিত। বর্তমান এই জায়গায় শিক্ষকদের চরম ঘাটতি দেখা যায়। নিকট তম অতীতেও আমরা দেখেছি শিক্ষকগণ ছিলেন সমাজের দর্পণ এবং মানুষের বিপদাপদের সর্বশেষ পরামর্শক। সামাজিক সর্ব মুখী গুন অর্জনে শিক্ষক গণ কে আগ্রহী হতে হবে।

‎(৭)নিজস্ব বিষয়ে স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা:

‎এক জন শিক্ষক কে নিজের অধীত ও শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা অপরিহার্য ভাবে অর্জন করতে হবে।এই কথার  চুল পরিমান ভিন্ন মতের সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে এটি  চরম ভাবে অনুপস্থিত। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি গ্রস্থ ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্ষতি গ্রস্থ হয় এ কারণে। সুতরাং শিক্ষক গণের উচিত হবে যে কোনো মূল্যে  ঘাটতি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। যারা চেষ্টা করবেন না বা করতে সক্ষম হবেন না তাদেরকে শিক্ষকতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

‎চাহিদা পূরণ বিষয়ে মতামত:

‎(১) যূগোপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ।

‎ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ বলি আর স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ বলি আমাদের দেশে যুগোপযোগী,বাস্তব মুখি প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা গেছে এই কথা বলা অনেক টা অসম্ভব ।নানা ধরণের ঘাটতি আমাদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা কে পিছিয়ে রেখেছে। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক প্রশিক্ষক ,প্রশিক্ষণ কর্মশালার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ এবং একাডেমিক ভবন, অবকাঠামো যথেষ্ট পরিমাণে আছে এ কথা আমরা বলতে দৃঢ়ভাবে পারি না। শিক্ষার বিপ্লব সাধন করতে শিক্ষক গণের যথাযথ প্রশিক্ষণ অতি আবশ্যক। 

‎(২)শিক্ষা মূলক ভ্রমণ এর ব্যবস্থা: 

‎একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর নামে বিনোদন সফর হয়।সফর গুলো  হওয়া উচিত ঐতিহাসিক স্থান, যাদুঘর এবং উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক। যেখানে শিক্ষক গণ শিক্ষা মূলক নির্দেশনা পাবেন। তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে।

‎(৩)গবেষণা ও প্রকাশনার যথাযথ স্বীকৃতি। 

‎গবেষণা ও প্রকাশনা শিক্ষক দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে তাদের সর্ব মুখী জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।এই জায়গায় শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ভাবে অনুপ্রাণিত করা দরকার। এই বিষয়ে শিক্ষক গণ কে প্রণোদনা বা পুরস্কৃত করা হলে শিক্ষা জগৎ এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা যায়।

‎(৫)সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য প্রণোদনা:

‎স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে প্রণোদনা বিতরণ করে করে থাকে। এই সকল প্রণোদনায় শিক্ষক দের উপকার ভোগী  হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা উচিত।

‎(৬)ইন হাউজ প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ:

‎ইন হাউজ প্রশিক্ষণের উপর ব্যাপক গুরুত্ব দিতে হবে।সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে  এই বিষয়ে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

‎(৭)বিষয় ভিত্তিক ক্লাস্টার ট্রেনিং এ গুরুত্ব আরোপ:

‎প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার ট্রেনিং একটি ভালো ব্যবস্থা ।এটি আরো কার্যকর করা প্রয়োজন।সাথে সাথে সকল স্তরের ও পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  এটি চালু করা উচিত।

‎(৮)সকল স্তরের ও পর্যায়ের শিক্ষার সাথে

‎ আত্মকর্মসংস্থান মূলক শিক্ষার বিজ্ঞান ভিত্তিক সম্পর্ক

‎ স্থাপন:

‎সকল স্তরের ও প্রকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত শিক্ষাক্রম ও সহ পাঠ্যক্রম এর পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান মূলক বিষয় বাধ্যতামূলক ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এমন কি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও কওমী মাদ্রাসা গুলো কে বাদ রাখা যাবে না।সাথে সাথে এগুলোর উপর তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক শিক্ষা দানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে শিক্ষার্থীদের যে স্তরে ছাত্র জীবনের সমাপ্তি ঘটবে সেই জায়গা থেকে কর্ম জীবনে প্রবেশ করতে পারে।

‎(৯) শিক্ষকদের জন্য পূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তা বিধান

‎ নিশ্চিত করতে হবে:

‎এই বিষয় টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের নিবেদিত প্রাণ করতে এর কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষকদের বেতন ভাতা যা দেওয়া হয় তা যদি তাদের নুন্যতম চাহিদা পূরণ করতে না পারে তখন তারা জীবন চলার তাকিদে অন্য দ্বিতীয় পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। তাদেরকে যেমন সামাজিক স্ট্যাটাস বজায় রেখে জীবন চলার আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পায় তার ব্যবস্থা করা দরকার সাথে সাথে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত যাতে করে বিলাসিতার দিকে না যেতে পারেন। প্রতি বছর তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিতে হবে। জীবন চলার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে যে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে তা পূরণ যেমন করতে হবে। একই ভাবে অর্থের প্রাচুর্যের ও কৈফিয়ত নিতে হবে।

‎বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তি কে জন সম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যথোপযুক্ত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অতীব জরুরি।

‎মোঃ আনিছুর রহমান 

‎অধ্যক্ষ 

‎কড়িয়া ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা,

‎পাঁচবিবি উপজেলা জয়পুরহাট। 


‎

‎

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


‎বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও চাহিদা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

‎জলবায়ু পরিবর্তন climang বিশ্বের সর্বাধিক আলোচিত টপিক সমূহের অন্যতম। এটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক জায়গায় চরমভাবে আঘাত হেনেছে একই ভাবে মানুষের মনোজগতের গভীরে  কম আঘাত করেনি। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব পরিবর্তনের একটি যুগান্তকারী ইস্যু। 

‎আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশ ছিল ষড় ঋতুর দেশ। প্রতি দুই মাস পর পর পরিবর্তিত হতো ঋতুর। ছয় ঋতুর নাম  গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ ,হেমন্ত, শীত‌ ও বসন্ত। প্রতিটি ঋতু তার আলাদা বৈশিষ্ট্য ও সৌন্দর্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতিতে বিরাজ করতো। এখন আমরা দেখতে পাই ক্লাইমেট চেঞ্জ আমাদের দেশের ষড় ঋতুকে আঘাত করে প্রায় তছনছ করে দিয়েছে। আমরা এক এক বছর এক এক ধরনের আবহাওয়া দেখতে পাই এখন। কখনো শীত, কখনো গরম, কখনো বৃষ্টি, কখনো খরা। আর এই শব্দ বা পদ যাই বলি এগুলোর সাথে "অতি" উপসর্গ যুক্ত করেই আমাদের বছরের আবহাওয়ার পরিচিতি তুলে ধরতে হচ্ছে। দেশের আবহাওয়া জগতে এ অবস্থা শিশু শিক্ষার্থীদের উপরই শুধু নয় জ্ঞানচর্চা কারী সকল ছাত্র ছাত্রী দের উপরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সঙ্গত কারণে এই সকল অবস্থাকে বিচার বিশ্লেষণ করে সময় উপযোগী শিক্ষা পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। সমৃদ্ধ শিক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্র বিশাল। এগুলো নিয়ে আলোচনা করলে আলোচনার বড়ো রকমের বিস্তার ঘটবে বিধায় শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি শিক্ষক তাদেরকে নিয়েই আলোচনা সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলব এখানে।

‎শিক্ষকদের প্রস্তুতি 

‎(১) নিয়মতান্ত্রিক জীবন : 

‎শিক্ষকদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব হবে নিজেদের জীবনকে নিয়মতান্ত্রিক রূপে গড়ে তোলা। এতদ সংক্রান্ত জ্ঞান ,অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের জীবনকে যে রকম সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে একইভাবে  নিজেদেরকে মডেল হিসেবে উপস্থাপিত করে শিক্ষার্থীদেরকে সেই ফর্মুলায় গড়ে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

‎(২)স্বাস্থ্য সচেতনতা : 

‎সুস্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। 

‎শিক্ষক মানেই মার্জিত শিক্ষিত। সুতরাং শিক্ষকগণ স্বাস্থ্য সচেতন হবেন এটি সকলের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই জায়গায় অনেক ক্ষত, ছিদ্র দেখা যায়। শিক্ষকদের মাঝেও দেখা যায় স্বাস্থ্য অচেতন চরিত্র। এটি কখনো কাম্য নয়। শিক্ষকদের উচিত নিজেদের স্বার্থে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের স্বার্থে এবং তাদের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া।(৩)পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা ও

‎ প্রয়োজনীয় জ্ঞান:

‎শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড শিক্ষক শিক্ষার মেরুদন্ড এটি বহু আলোচনার সারমর্ম কথা। শিক্ষকগণ সকল বিষয়ের উপর সচেতন হবেন সকল বিষয়ের উপরে তাদের পারফেক্ট জ্ঞান থাকবে এবং থাকা উচিত। না থাকা শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের দৈনতা। এর ঘাটতি নিয়ে শিক্ষকগণ সফল‌ ভাবে শিক্ষকতা করতে পারবেন না।

‎(৪)তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মৌলিক জ্ঞান ,অভিজ্ঞতা:

‎বর্তমান বিশ্বের সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল সিঁড়ি কিংবা লিফট যাই বলেন না কেন তা হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। শিক্ষকগণ এই জায়গায় পিছিয়ে থাকবেন তা কোনভাবেই কাম্য নয়। শিক্ষক গণ যদি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজেদের অন্ততঃ চলন সই না করেন তাহলে তাদের দ্বারা বর্তমান যুগে যথাযথ ভাবে শিক্ষকতা , অসম্ভব।। এই জায়গায় ঘাটতি নিয়ে থাকা শিক্ষক দের নিয়ে জাতির  সামনে এগিয়ে যাওয়ার কল্পনা করা যায় না।

‎(৫)যোগাযোগ দক্ষতা।:

‎যোগাযোগ দক্ষতা জীবনকে উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অনুসঙ্গ। আকর্ষণীয় ভাবে স্বদেশী ,বিদেশী ভাষায় কথা বলার দক্ষতা একজন শিক্ষকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এই জায়গায় আমরা দুঃখজনকভাবে পিছিয়ে আছি।এ বিষয়ে শিক্ষক গণের প্রস্তুতি অতীব জরুরি।

‎(৬) সামাজিক গুন সমৃদ্ধ হওয়া । 

‎একজন মানুষ তখন ই সকল ক্ষেত্রে গ্রহণ যোগ্যতা পান যখন তার মধ্যে সামাজিক গুণ থাকে। শিক্ষকদেরকে সামাজিক গুনে পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হওয়া উচিত। বর্তমান এই জায়গায় শিক্ষকদের চরম ঘাটতি দেখা যায়। নিকট তম অতীতেও আমরা দেখেছি শিক্ষকগণ ছিলেন সমাজের দর্পণ এবং মানুষের বিপদাপদের সর্বশেষ পরামর্শক। সামাজিক সর্ব মুখী গুন অর্জনে শিক্ষক গণ কে আগ্রহী হতে হবে।

‎(৭)নিজস্ব বিষয়ে স্বচ্ছ ও পরিপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা:

‎এক জন শিক্ষক কে নিজের অধীত ও শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত বিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞান ও দক্ষতা অপরিহার্য ভাবে অর্জন করতে হবে।এই কথার  চুল পরিমান ভিন্ন মতের সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে এটি  চরম ভাবে অনুপস্থিত। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি গ্রস্থ ঐ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্ষতি গ্রস্থ হয় এ কারণে। সুতরাং শিক্ষক গণের উচিত হবে যে কোনো মূল্যে  ঘাটতি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। যারা চেষ্টা করবেন না বা করতে সক্ষম হবেন না তাদেরকে শিক্ষকতা থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

‎চাহিদা পূরণ বিষয়ে মতামত:

‎(১) যূগোপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা ।

‎ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ বলি আর স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ বলি আমাদের দেশে যুগোপযোগী,বাস্তব মুখি প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করা গেছে এই কথা বলা অনেক টা অসম্ভব ।নানা ধরণের ঘাটতি আমাদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা কে পিছিয়ে রেখেছে। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও আন্তরিক প্রশিক্ষক ,প্রশিক্ষণ কর্মশালার জন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও উপকরণ এবং একাডেমিক ভবন, অবকাঠামো যথেষ্ট পরিমাণে আছে এ কথা আমরা বলতে দৃঢ়ভাবে পারি না। শিক্ষার বিপ্লব সাধন করতে শিক্ষক গণের যথাযথ প্রশিক্ষণ অতি আবশ্যক। 

‎(২)শিক্ষা মূলক ভ্রমণ এর ব্যবস্থা: 

‎একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা সফর নামে বিনোদন সফর হয়।সফর গুলো  হওয়া উচিত ঐতিহাসিক স্থান, যাদুঘর এবং উন্নত মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক। যেখানে শিক্ষক গণ শিক্ষা মূলক নির্দেশনা পাবেন। তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে।

‎(৩)গবেষণা ও প্রকাশনার যথাযথ স্বীকৃতি। 

‎গবেষণা ও প্রকাশনা শিক্ষক দের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে তাদের সর্ব মুখী জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।এই জায়গায় শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয় ভাবে অনুপ্রাণিত করা দরকার। এই বিষয়ে শিক্ষক গণ কে প্রণোদনা বা পুরস্কৃত করা হলে শিক্ষা জগৎ এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা যায়।

‎(৫)সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য প্রণোদনা:

‎স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ভাবে প্রণোদনা বিতরণ করে করে থাকে। এই সকল প্রণোদনায় শিক্ষক দের উপকার ভোগী  হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা উচিত।

‎(৬)ইন হাউজ প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ:

‎ইন হাউজ প্রশিক্ষণের উপর ব্যাপক গুরুত্ব দিতে হবে।সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে  এই বিষয়ে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

‎(৭)বিষয় ভিত্তিক ক্লাস্টার ট্রেনিং এ গুরুত্ব আরোপ:

‎প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস্টার ট্রেনিং একটি ভালো ব্যবস্থা ।এটি আরো কার্যকর করা প্রয়োজন।সাথে সাথে সকল স্তরের ও পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে  এটি চালু করা উচিত।

‎(৮)সকল স্তরের ও পর্যায়ের শিক্ষার সাথে

‎ আত্মকর্মসংস্থান মূলক শিক্ষার বিজ্ঞান ভিত্তিক সম্পর্ক

‎ স্থাপন:

‎সকল স্তরের ও প্রকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত শিক্ষাক্রম ও সহ পাঠ্যক্রম এর পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান মূলক বিষয় বাধ্যতামূলক ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। এমন কি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও কওমী মাদ্রাসা গুলো কে বাদ রাখা যাবে না।সাথে সাথে এগুলোর উপর তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক শিক্ষা দানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে শিক্ষার্থীদের যে স্তরে ছাত্র জীবনের সমাপ্তি ঘটবে সেই জায়গা থেকে কর্ম জীবনে প্রবেশ করতে পারে।

‎(৯) শিক্ষকদের জন্য পূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তা বিধান

‎ নিশ্চিত করতে হবে:

‎এই বিষয় টি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার জন্য শিক্ষকদের নিবেদিত প্রাণ করতে এর কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষকদের বেতন ভাতা যা দেওয়া হয় তা যদি তাদের নুন্যতম চাহিদা পূরণ করতে না পারে তখন তারা জীবন চলার তাকিদে অন্য দ্বিতীয় পেশা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। তাদেরকে যেমন সামাজিক স্ট্যাটাস বজায় রেখে জীবন চলার আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পায় তার ব্যবস্থা করা দরকার সাথে সাথে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত যাতে করে বিলাসিতার দিকে না যেতে পারেন। প্রতি বছর তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিতে হবে। জীবন চলার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে যে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে তা পূরণ যেমন করতে হবে। একই ভাবে অর্থের প্রাচুর্যের ও কৈফিয়ত নিতে হবে।

‎বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তি কে জন সম্পদে পরিণত করে বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে যথোপযুক্ত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা অতীব জরুরি।

‎মোঃ আনিছুর রহমান 

‎অধ্যক্ষ 

‎কড়িয়া ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা,

‎পাঁচবিবি উপজেলা জয়পুরহাট। 


‎

‎


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত