ঢাকার ধামরাই উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ফরিদা ইয়াসমিন ও তার সমর্থকরা।
ফরিদা ইয়াসমিনের অভিযোগ, দলের সাবেক সভাপতি আমেনা লায়লা কাউকাব এবং সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলীর নেতৃত্বে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। তবে তিনি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় এখন তার রাজনৈতিক সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তবে ফরিদা ইয়াসমিনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, আট-নয়জন ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেছি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে গিয়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছি। বর্তমানেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। অথচ আমাকে পদ থেকে সরানোর জন্য একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। তাদের সেই অগণতান্ত্রিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।”
তার সমর্থকদের দাবি, যাদের নাম ব্যবহার করে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তারা।
সমর্থকদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের কাছে কথা বলার সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ডের অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে রুস্তম আলীর সাজানো নাটক বলেও দাবি করেছেন বলে তারা জানান। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফরিদা ইয়াসমিনের সমর্থকদের আরও অভিযোগ, আমেনা লায়লা কাউকাব ও রুস্তম আলী রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরস্পরের যোগসাজশে এসব অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাদের দাবি, ফরিদা ইয়াসমিনকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতেই তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
তাদের আরও দাবি, সংসদ সদস্য বা সরকারি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতি করছেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তার একটি রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে কিছু গুঞ্জন শোনা গেলেও এ বিষয়ে কোনো ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচন ও দলীয় পুনর্গঠনের সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচারের ঘটনা দেখা যায়। ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগও কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টার অংশ কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
ফরিদা ইয়াসমিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তা যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হোক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬
ঢাকার ধামরাই উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ফরিদা ইয়াসমিন ও তার সমর্থকরা।
ফরিদা ইয়াসমিনের অভিযোগ, দলের সাবেক সভাপতি আমেনা লায়লা কাউকাব এবং সোমভাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুস্তম আলীর নেতৃত্বে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাকে উপজেলা মহিলা দলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। তবে তিনি সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার না করায় এখন তার রাজনৈতিক সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।
সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তবে ফরিদা ইয়াসমিনের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, আট-নয়জন ব্যক্তির কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “বিগত ১৬ বছর স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করেছি। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে গিয়ে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছি। বর্তমানেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। অথচ আমাকে পদ থেকে সরানোর জন্য একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। তাদের সেই অগণতান্ত্রিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।”
তার সমর্থকদের দাবি, যাদের নাম ব্যবহার করে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাদের কয়েকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তারা।
সমর্থকদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের কাছে কথা বলার সময় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি ফ্যামিলি কার্ডের অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে রুস্তম আলীর সাজানো নাটক বলেও দাবি করেছেন বলে তারা জানান। তবে এসব বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফরিদা ইয়াসমিনের সমর্থকদের আরও অভিযোগ, আমেনা লায়লা কাউকাব ও রুস্তম আলী রাজনৈতিকভাবে তাকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে পরস্পরের যোগসাজশে এসব অভিযোগ সামনে এনেছেন। তাদের দাবি, ফরিদা ইয়াসমিনকে দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতেই তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
তাদের আরও দাবি, সংসদ সদস্য বা সরকারি প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। ফরিদা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে রাজনীতি করছেন এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে তার একটি রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত বলে মনে করেন তারা।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে কিছু গুঞ্জন শোনা গেলেও এ বিষয়ে কোনো ভুক্তভোগী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নির্বাচন ও দলীয় পুনর্গঠনের সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচারের ঘটনা দেখা যায়। ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগও কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টার অংশ কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
ফরিদা ইয়াসমিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তা যথাযথ প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হোক। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা পরিকল্পিত অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন