জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আমি বাবার চোখ হবো" বলা মারুফও আজ দৃষ্টিহীন



আমি বাবার চোখ হবো" বলা মারুফও আজ দৃষ্টিহীন
ছবি: প্রতিনিধি

জন্ম থেকেই চোখের আলো নেই বাবার। হাটে হাটে গান গেয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। সেই অন্ধ বাবার ভরসা ছিল তিন ছেলের একজন মারুফ হোসেন। বাবার চোখ হবো- এই স্বপ্ন নিয়ে উপার্জনে নেমেছিলেন মারুফ।কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বাবার চোখ হতে চাওয়া সেই ছেলেটিও আজ অন্ধ।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন। তার বাবা আব্দুস সোবহান জন্মগতভাবে অন্ধ। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। সংসারের হাল ধরতে মাত্র তিন বছর আগে বদলগাছী উপজেলায় একটি ট্রলিতে কাজ করতেন মারুফ।

ঘটনার দিন কাজ শেষে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এরেস্টো ফার্মা ওষুধ কোম্পানির একটি গাড়ি পেছন থেকে তাকে  ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে অপারেশন করা হয়। 

এরপর আরও এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।  মারুফের পরিবারের অভিযোগ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে মারুফ তার দৃষ্টিশক্তি হারান।

বর্তমানে মারুফ সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। একদিকে জন্মগত অন্ধ বাবা, অন্যদিকে দুর্ঘটনায় অন্ধ ছেলে। দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি। অন্ধ বাবার অন্ধ ছেলে হয়ে আজ মারুফ বেঁচে আছে কেবল সহানুভূতি আর সহায়তার আশায়।

প্রতিবেশীরা জানান, মারুফের বাবা জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছেলেটা সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সেই ছেলেটাও এখন চোখে দেখতে পারে না। পরিবারটির কষ্ট নিজের চোখে দেখলে যে কারও মন কেঁদে উঠবে। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টরা তাদের পাশে দাঁড়ান।

এলাকার তরুণ সমাজসেবক নাদিব চৌধুরী বলেন, আমি মারুফকে সাথে নিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে চোখের ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। ভালো চিকিৎসা করলে হয়ত তার চোখের আলো ফিরতে পারে। আমি প্রায় গিয়ে তার সাথে দেখা করে আসি। সরকারের পক্ষ থেকে যদি উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা করা হয়, তাহলে হয়তো মারুফের জীবনে আবার আলো ফিরতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আমি বাবার চোখ হবো" বলা মারুফও আজ দৃষ্টিহীন

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জন্ম থেকেই চোখের আলো নেই বাবার। হাটে হাটে গান গেয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। সেই অন্ধ বাবার ভরসা ছিল তিন ছেলের একজন মারুফ হোসেন। বাবার চোখ হবো- এই স্বপ্ন নিয়ে উপার্জনে নেমেছিলেন মারুফ।কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে বাবার চোখ হতে চাওয়া সেই ছেলেটিও আজ অন্ধ।

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন। তার বাবা আব্দুস সোবহান জন্মগতভাবে অন্ধ। তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলের আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। সংসারের হাল ধরতে মাত্র তিন বছর আগে বদলগাছী উপজেলায় একটি ট্রলিতে কাজ করতেন মারুফ।

ঘটনার দিন কাজ শেষে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এরেস্টো ফার্মা ওষুধ কোম্পানির একটি গাড়ি পেছন থেকে তাকে  ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহীতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ২০ দিন হাসপাতালে ভর্তি রেখে অপারেশন করা হয়। 

এরপর আরও এক মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।  মারুফের পরিবারের অভিযোগ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলার কারণে ধীরে ধীরে মারুফ তার দৃষ্টিশক্তি হারান।

বর্তমানে মারুফ সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন। একদিকে জন্মগত অন্ধ বাবা, অন্যদিকে দুর্ঘটনায় অন্ধ ছেলে। দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বে মানবেতর জীবন যাপন করছে পরিবারটি। অন্ধ বাবার অন্ধ ছেলে হয়ে আজ মারুফ বেঁচে আছে কেবল সহানুভূতি আর সহায়তার আশায়।

প্রতিবেশীরা জানান, মারুফের বাবা জন্ম থেকেই অন্ধ। বাবার পাশে দাঁড়ানোর জন্য ছেলেটা সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু সেই ছেলেটাও এখন চোখে দেখতে পারে না। পরিবারটির কষ্ট নিজের চোখে দেখলে যে কারও মন কেঁদে উঠবে। আমরা চাই, সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্টরা তাদের পাশে দাঁড়ান।

এলাকার তরুণ সমাজসেবক নাদিব চৌধুরী বলেন, আমি মারুফকে সাথে নিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে চোখের ডাক্তার দেখিয়েছিলাম। ভালো চিকিৎসা করলে হয়ত তার চোখের আলো ফিরতে পারে। আমি প্রায় গিয়ে তার সাথে দেখা করে আসি। সরকারের পক্ষ থেকে যদি উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও আর্থিক সহায়তা করা হয়, তাহলে হয়তো মারুফের জীবনে আবার আলো ফিরতে পারে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত