জয়পুরহাট    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আত্রাইয়ে শোকের মাতম,নিভে গেছে কয়েকজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবন প্রদীপ



আত্রাইয়ে শোকের মাতম,নিভে গেছে কয়েকজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবন প্রদীপ
ছবি: প্রতিনিধি

ভাগ্য ফেরাতে ভিটামাটি বিক্রি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১২ জন যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্নই যে চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি তাদের পরিবার। রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেছে এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনের আলো। প্রিয় সন্তান ও স্বজনদের হারিয়ে আত্রাই উপজেলার প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।

প্রবাসী মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায়,রোববার সৌদি আরবের রিয়াদে শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশী ১৬ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন এর মধ্যে ১২ জনই আত্রাই উপজেলার।

গতকাল সোমবার সকালে আত্রাইয়ের গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শুধুই বিষাদের ছায়া। এই এক গ্রাম থেকেই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন চার তরুণ—মোহন, সুমন, রেজোয়ান ও ফারুক। অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই ছাই হয়ে গেছে তাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় মোহন ও সুমনের বাড়িতে। একই দুর্ঘটনায় দুই ছেলেকে হারিয়ে প্রায়  বাকরুদ্ধ মা-বাবা। এবার দেশে ফিরে নতুন ঘর তুলবেন—এই আশায় দুই ভাই রওনা হওয়ার আগেই বাড়ির সামনে নতুন ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নতুন ঘরে আর ফেরা হলো না তাদের। অশ্রুসজল চোখে মা ময়না বিবি শুধু একটাই আকুতি জানান, “আমার ছেলেদের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”

একই গ্রামের নিহত রেজোয়ানের মা কারিমা বেগম বাড়ির সামনে বিলাপ করছেন, পাশে বসে কাঁদছেন তাঁর বোন। এবার বাড়ি ফিরে রেজোয়ানের বিয়ে করার কথা ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কেবলই স্মৃতি।

স্থানীয় গন্ডগোহালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, “একই গ্রামের চারজন উদীয়মান যুবককে এভাবে হারিয়ে পুরো গ্রাম আজ স্তব্ধ। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, যেন দ্রুততম সময়ে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”

উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ও শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলোর এখন একটাই চাওয়া,অন্তত শেষবারের মতো যেন প্রিয় মানুষগুলোর মুখ দেখতে পান এবং নিজ মাটিতে তাদের দাফন করতে পারেন।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী নওগাঁ সদরে ১ জন,আত্রাই উপজেলার ১২ জন, নাটোরের নলডাাঙা উপজেলার ২ জন রাজশাহী বাগমারা উপজেলা ১ জন নিহত হয়েছেন। 

মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনরুজ্জামান বলেন, “আমরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


আত্রাইয়ে শোকের মাতম,নিভে গেছে কয়েকজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার জীবন প্রদীপ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভাগ্য ফেরাতে ভিটামাটি বিক্রি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সৌদি আরব পাড়ি দিয়েছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১২ জন যুবক। কিন্তু সেই স্বপ্নই যে চিরতরে ধূলিসাৎ হয়ে যাবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি তাদের পরিবার। রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেছে এসব রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনের আলো। প্রিয় সন্তান ও স্বজনদের হারিয়ে আত্রাই উপজেলার প্রতিটি শোকসন্তপ্ত পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।

প্রবাসী মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায়,রোববার সৌদি আরবের রিয়াদে শিফা থানার মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশী ১৬ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে নিহত হয়েছেন এর মধ্যে ১২ জনই আত্রাই উপজেলার।

গতকাল সোমবার সকালে আত্রাইয়ের গন্ডগোহালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায় শুধুই বিষাদের ছায়া। এই এক গ্রাম থেকেই পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন চার তরুণ—মোহন, সুমন, রেজোয়ান ও ফারুক। অগ্নিকাণ্ডের তাণ্ডবে মুহূর্তের মধ্যেই ছাই হয়ে গেছে তাদের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় মোহন ও সুমনের বাড়িতে। একই দুর্ঘটনায় দুই ছেলেকে হারিয়ে প্রায়  বাকরুদ্ধ মা-বাবা। এবার দেশে ফিরে নতুন ঘর তুলবেন—এই আশায় দুই ভাই রওনা হওয়ার আগেই বাড়ির সামনে নতুন ঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নতুন ঘরে আর ফেরা হলো না তাদের। অশ্রুসজল চোখে মা ময়না বিবি শুধু একটাই আকুতি জানান, “আমার ছেলেদের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”

একই গ্রামের নিহত রেজোয়ানের মা কারিমা বেগম বাড়ির সামনে বিলাপ করছেন, পাশে বসে কাঁদছেন তাঁর বোন। এবার বাড়ি ফিরে রেজোয়ানের বিয়ে করার কথা ছিল, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কেবলই স্মৃতি।

স্থানীয় গন্ডগোহালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হুমায়ুন আহমেদ বলেন, “একই গ্রামের চারজন উদীয়মান যুবককে এভাবে হারিয়ে পুরো গ্রাম আজ স্তব্ধ। সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, যেন দ্রুততম সময়ে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”

উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম ও শেষ সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলোর এখন একটাই চাওয়া,অন্তত শেষবারের মতো যেন প্রিয় মানুষগুলোর মুখ দেখতে পান এবং নিজ মাটিতে তাদের দাফন করতে পারেন।

দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী নওগাঁ সদরে ১ জন,আত্রাই উপজেলার ১২ জন, নাটোরের নলডাাঙা উপজেলার ২ জন রাজশাহী বাগমারা উপজেলা ১ জন নিহত হয়েছেন। 

মর্মান্তিক এই ঘটনার খবর পেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনরুজ্জামান বলেন, “আমরা বাংলাদেশ দূতাবাসের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত