জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কাদা-পানিতে মেতেছে গ্রাম, মাছ ধরতে মাঠে শিশু-কিশোরের ঢল



কাদা-পানিতে মেতেছে গ্রাম, মাছ ধরতে মাঠে শিশু-কিশোরের ঢল
ছবি: প্রতিনিধি

ট্রাক্টরের গর্জনে কাঁপছে কাদামাটি। একদিকে ধানের জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত কৃষক, অন্যদিকে সেই কাদা-পানিতেই জাল হাতে নেমেছেন নারী-পুরুষ। কেউ জাল টেনে তুলছেন, কেউ কাদায় হাতড়ে খুঁজছেন মাছ। আর মাছ উঠলেই শিশু-কিশোরদের মুখে ফুটছে উচ্ছ্বাস। দেখে মনে হবে, কৃষিকাজের মাঠ নয়, বর্ষার পানিতে যেন বসেছে মাছ ধরার উৎসব!

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদার গ্রামের মাঠে দেখা মেলে গ্রামবাংলার এমন প্রাণবন্ত দৃশ্যের।

বর্ষার পানিতে তখন বিস্তীর্ণ ধানের জমি পানিতে টইটম্বুর। সেই পানির মধ্যেই ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি চাষ ও কাদা সমান করার কাজ। ট্রাক্টরের চাকা ঘুরছে আর উল্টেপাল্টে যাচ্ছে কাদা। এরই পাশে পানিতে নেমে মাছ ধরায় ব্যস্ত স্থানীয়রা।

কেউ হাতে জাল নিয়ে পানিতে ছুটছেন, কেউ ঝুড়ি হাতে অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকেই কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই কাদার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে মাছ খুঁজছেন। কিছুক্ষণ পরপরই কারও ঝুড়িতে উঠছে ছোট-বড় দেশীয় মাছ। মাছ হাতে পেলেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে শুরু হচ্ছে আনন্দ-উল্লাস।

১০ বছরের শিশু রুস্তম বলে, বড়দের সঙ্গে মাছ ধরতে এসে খুব ভালো লাগছে। কয়েকটা মাছ ধরেছি। বন্ধুরাও সবাই মাছ ধরছে।

১২ বছরের সাগর বলে, ধানের জমিতে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। কাদায় পড়ে গেলেও সমস্যা নেই। মাছ ধরতে পারলেই আমাদের অনেক আনন্দ।

স্থানীয় কৃষক ফরিদ হোসেন বলেন, বর্ষার পানিতে ধানের জমিতে বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ আসে। জমি চাষের সময় কাদার মধ্যে থাকা মাছও ধরা পড়ে। এতে জমির কাজ হয়, আবার বাড়ির জন্য মাছও পাওয়া যায়।

কৃষক মো. সমিউল বলেন, ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুত করছি। পানিতে মাছ থাকায় গ্রামের অনেকে মাছ ধরছেন। কাজের পাশাপাশি এটা এখন অনেকটা আনন্দের বিষয় হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, বর্ষায় ধানের জমিতে পানি জমলে মাছ পাওয়া যায়। জমি চাষের সময় মানুষ মাছ ধরে। বড়রা যেমন মাছ পায়, তেমনি ছোটরাও আনন্দ করে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার পানিতে আশপাশের জলাশয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ধানের জমিতে চলে আসে। পানি কমে গেলে কিংবা জমি চাষের সময় কাদার মধ্যে আটকা পড়ে এসব মাছ। তখন সহজেই মাছ ধরতে পারেন স্থানীয়রা।

ধরা মাছের একাংশ পরিবারের খাবারের জন্য রাখা হয়। আবার কেউ কেউ এসব মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন। কৃষকদের কাছে তাই ধানের জমির মাছ শুধু আনন্দের নয়, বরং পরিবারের খাদ্য ও বাড়তি আয়েরও একটি উৎস।

তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস। কাদা-পানিতে মাখামাখি হয়ে মাছ ধরার আনন্দে তাদের মুখে যেন ফুটে উঠছে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ শৈশবের ছবি।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাদা-পানিতে মেতেছে গ্রাম, মাছ ধরতে মাঠে শিশু-কিশোরের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ট্রাক্টরের গর্জনে কাঁপছে কাদামাটি। একদিকে ধানের জমি প্রস্তুতে ব্যস্ত কৃষক, অন্যদিকে সেই কাদা-পানিতেই জাল হাতে নেমেছেন নারী-পুরুষ। কেউ জাল টেনে তুলছেন, কেউ কাদায় হাতড়ে খুঁজছেন মাছ। আর মাছ উঠলেই শিশু-কিশোরদের মুখে ফুটছে উচ্ছ্বাস। দেখে মনে হবে, কৃষিকাজের মাঠ নয়, বর্ষার পানিতে যেন বসেছে মাছ ধরার উৎসব!

রোববার (৯ আগস্ট) সকালে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বোয়ালদার গ্রামের মাঠে দেখা মেলে গ্রামবাংলার এমন প্রাণবন্ত দৃশ্যের।

বর্ষার পানিতে তখন বিস্তীর্ণ ধানের জমি পানিতে টইটম্বুর। সেই পানির মধ্যেই ট্রাক্টর দিয়ে চলছে জমি চাষ ও কাদা সমান করার কাজ। ট্রাক্টরের চাকা ঘুরছে আর উল্টেপাল্টে যাচ্ছে কাদা। এরই পাশে পানিতে নেমে মাছ ধরায় ব্যস্ত স্থানীয়রা।

কেউ হাতে জাল নিয়ে পানিতে ছুটছেন, কেউ ঝুড়ি হাতে অপেক্ষা করছেন। আবার অনেকেই কোনো সরঞ্জাম ছাড়াই কাদার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে মাছ খুঁজছেন। কিছুক্ষণ পরপরই কারও ঝুড়িতে উঠছে ছোট-বড় দেশীয় মাছ। মাছ হাতে পেলেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে শুরু হচ্ছে আনন্দ-উল্লাস।

১০ বছরের শিশু রুস্তম বলে, বড়দের সঙ্গে মাছ ধরতে এসে খুব ভালো লাগছে। কয়েকটা মাছ ধরেছি। বন্ধুরাও সবাই মাছ ধরছে।

১২ বছরের সাগর বলে, ধানের জমিতে মাছ ধরার আনন্দই আলাদা। কাদায় পড়ে গেলেও সমস্যা নেই। মাছ ধরতে পারলেই আমাদের অনেক আনন্দ।

স্থানীয় কৃষক ফরিদ হোসেন বলেন, বর্ষার পানিতে ধানের জমিতে বিভিন্ন ধরনের দেশি মাছ আসে। জমি চাষের সময় কাদার মধ্যে থাকা মাছও ধরা পড়ে। এতে জমির কাজ হয়, আবার বাড়ির জন্য মাছও পাওয়া যায়।

কৃষক মো. সমিউল বলেন, ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুত করছি। পানিতে মাছ থাকায় গ্রামের অনেকে মাছ ধরছেন। কাজের পাশাপাশি এটা এখন অনেকটা আনন্দের বিষয় হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, বর্ষায় ধানের জমিতে পানি জমলে মাছ পাওয়া যায়। জমি চাষের সময় মানুষ মাছ ধরে। বড়রা যেমন মাছ পায়, তেমনি ছোটরাও আনন্দ করে।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষার পানিতে আশপাশের জলাশয় থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ ধানের জমিতে চলে আসে। পানি কমে গেলে কিংবা জমি চাষের সময় কাদার মধ্যে আটকা পড়ে এসব মাছ। তখন সহজেই মাছ ধরতে পারেন স্থানীয়রা।

ধরা মাছের একাংশ পরিবারের খাবারের জন্য রাখা হয়। আবার কেউ কেউ এসব মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেন। কৃষকদের কাছে তাই ধানের জমির মাছ শুধু আনন্দের নয়, বরং পরিবারের খাদ্য ও বাড়তি আয়েরও একটি উৎস।

তবে এই দৃশ্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস। কাদা-পানিতে মাখামাখি হয়ে মাছ ধরার আনন্দে তাদের মুখে যেন ফুটে উঠছে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ শৈশবের ছবি।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত