জয়পুরহাট    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ক্ষেতলালে ইটের রাস্তা এখন নোংরা পানির নিচে,দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা



ক্ষেতলালে ইটের রাস্তা এখন নোংরা পানির নিচে,দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা
ছবি: প্রতিনিধি

​জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি মুকুল ও আটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় দীর্ঘ এক বছর ধরে তৈরি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। 

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং বাসাবাড়ির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়ায় শহিদুলের বাড়ি থেকে ভুলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার সড়ক এখন নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে নিমজ্জিত। ফলে প্রতিদিন মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫ শতাধিক পথচারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামবাসীর সুবিধার্থে  ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে সড়কটিতে ইট বিছানো হয়েছিল কিন্তু সম্প্রতি এক প্রতিবেশী বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় সৃষ্টি হয় এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার। দীর্ঘদিন সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নিচের ইট সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের।

​গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, আটিমুকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্কুলে যাচ্ছে।

​বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলে, প্রতিদিন নোংরা পানি ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইপুস্তক ভিজে যায়। এই নোংরা পানির কারণে পায়ে চর্মরোগ ও ঘা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগের কারণে আমাদের দুই গ্রামের অন্তত ৪০-৫০ জন ছোট শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অন্য স্কুলে চলে গেছে।

​সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় অন্তত অর্ধশত বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। দুর্ভোগের বর্ননা দিয়ে ফুলবর মিয়া (৬০) বলেন, সড়কে নোংরা পানি জমে থাকায় আমরা ঠিকমতো মসজিদে গিয়ে ফরজ ও এশার নামাজ আদায় করতে পারি না। বয়স্ক ও শিশুরা এই রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন। ভয়ে আমরা এখন বাড়ি থেকেই বের হতে পারি না।

এ বিষয়ে আটিমুকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১০০ মিটার সড়কের এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে দুই পাড়ার ৪০-৫০ জন শিশু স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। সমস্যা নিরসনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকি পূর্বে ড্রেন নির্মাণের জন্য ইট-বালু আনা হলেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই নির্মাণ সামগ্রী তুলে নিয়ে যায়।

​অভিযোগ প্রসঙ্গে তুলশীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী বা প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে আগে জানাননি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ক্ষেতলালে ইটের রাস্তা এখন নোংরা পানির নিচে,দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

​জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলশীগঙ্গা ইউনিয়নের আটি মুকুল ও আটি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় দীর্ঘ এক বছর ধরে তৈরি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। 

ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা এবং বাসাবাড়ির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে পড়ায় শহিদুলের বাড়ি থেকে ভুলু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১০০ মিটার সড়ক এখন নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে নিমজ্জিত। ফলে প্রতিদিন মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ওই এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫ শতাধিক পথচারী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামবাসীর সুবিধার্থে  ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে সড়কটিতে ইট বিছানো হয়েছিল কিন্তু সম্প্রতি এক প্রতিবেশী বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়ায় সৃষ্টি হয় এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার। দীর্ঘদিন সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নিচের ইট সরে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের।

​গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, আটিমুকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি পেরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে স্কুলে যাচ্ছে।

​বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলে, প্রতিদিন নোংরা পানি ভেঙে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় পিছলে পড়ে জামাকাপড় ও বইপুস্তক ভিজে যায়। এই নোংরা পানির কারণে পায়ে চর্মরোগ ও ঘা দেখা দিয়েছে। দুর্ভোগের কারণে আমাদের দুই গ্রামের অন্তত ৪০-৫০ জন ছোট শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অন্য স্কুলে চলে গেছে।

​সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় অন্তত অর্ধশত বিক্ষুব্ধ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। দুর্ভোগের বর্ননা দিয়ে ফুলবর মিয়া (৬০) বলেন, সড়কে নোংরা পানি জমে থাকায় আমরা ঠিকমতো মসজিদে গিয়ে ফরজ ও এশার নামাজ আদায় করতে পারি না। বয়স্ক ও শিশুরা এই রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে প্রায়ই গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন। ভয়ে আমরা এখন বাড়ি থেকেই বের হতে পারি না।

এ বিষয়ে আটিমুকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম জানান, মাত্র ১০০ মিটার সড়কের এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার কারণে দুই পাড়ার ৪০-৫০ জন শিশু স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। সমস্যা নিরসনে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছিল। এমনকি পূর্বে ড্রেন নির্মাণের জন্য ইট-বালু আনা হলেও স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই নির্মাণ সামগ্রী তুলে নিয়ে যায়।

​অভিযোগ প্রসঙ্গে তুলশীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসী বা প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে আগে জানাননি। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত