হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সরকারি পুরাতন বই পাচারকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,মামলা নং-০৯,তারিখ ০৮ মে ২০২৬।
লাখাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে মোট সাতজনের বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ৭ মে দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২ টার দিকে করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি পুরাতন বই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ সরকারি মালামাল পাচারকালে ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১ নম্বরের একটি পিকআপ ভ্যান স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালসহ পিকআপটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন এবং নাইটগার্ড মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে সরকারি বই ও অন্যান্য মালামাল পিকআপে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বাধা দিলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, মালামাল উপজেলা শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু গভীর রাতে সরকারি মালামাল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র বা কোনো লিখিত নির্দেশনা দেখাতে না পারায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে পুলিশ এসে পিকআপটি জব্দ করে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলামের জিজ্ঞাসাবাদে সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন জানান,মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশেই সরকারি মালামাল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে সুপার রফিকুল ইসলাম মালামাল স্থানান্তরের কথা বললেও সরকারি বই বা অন্যান্য সরকারি সম্পদ বিক্রি কিংবা অপসারণের কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫ লাখ টাকা যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ব্যয় দেখানো হয়।
এছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ,২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকারি নির্ধারিত ফি ২ হাজার ১৫০ টাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এ অভিযোগের প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ শিক্ষার্থীরা বুল্লা বাজার ও লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন হাতেনাতে সরকারি মালামাল উদ্ধার এবং মামলা হওয়ার পরও তদন্ত শেষ হতেএত সময় লাগছে কেন? প্রকৃত দায়ীদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে? তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনগণের আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।
মামলার তদন্তে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মামলার ফাইলটি তাদের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরদিনই প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে (ঢাকা) পাঠানো হয়েছে।
তবে কমিশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় অনুমোদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে মামলার পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে তারা জানান।
তবে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পদ লোপাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে দায়ীদের বিরোদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনা জরুরি।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সরকারি পুরাতন বই পাচারকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,মামলা নং-০৯,তারিখ ০৮ মে ২০২৬।
লাখাই উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে মোট সাতজনের বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত ৭ মে দিবাগত রাত প্রায় সাড়ে ১২ টার দিকে করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে সরকারি পুরাতন বই, বৈদ্যুতিক পাখাসহ সরকারি মালামাল পাচারকালে ঢাকা মেট্রো-ন-১৮-৪৪২১ নম্বরের একটি পিকআপ ভ্যান স্থানীয় জনতা হাতেনাতে আটক করে। খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালসহ পিকআপটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নজির হোসেন এবং নাইটগার্ড মিজানুর রহমানের উপস্থিতিতে সরকারি বই ও অন্যান্য মালামাল পিকআপে তোলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বাধা দিলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন, মালামাল উপজেলা শিক্ষা অফিসে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু গভীর রাতে সরকারি মালামাল পরিবহনের বৈধ কাগজপত্র বা কোনো লিখিত নির্দেশনা দেখাতে না পারায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে এলাকাবাসীর খবরের ভিত্তিতে পুলিশ এসে পিকআপটি জব্দ করে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলামের জিজ্ঞাসাবাদে সহকারী শিক্ষক আব্বাস উদ্দিন জানান,মাদ্রাসার সুপার রফিকুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশেই সরকারি মালামাল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে সুপার রফিকুল ইসলাম মালামাল স্থানান্তরের কথা বললেও সরকারি বই বা অন্যান্য সরকারি সম্পদ বিক্রি কিংবা অপসারণের কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করাব রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৫ লাখ টাকা যথাযথ কাজ সম্পন্ন না করেই ব্যয় দেখানো হয়।
এছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ,২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে সরকারি নির্ধারিত ফি ২ হাজার ১৫০ টাকার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এ অভিযোগের প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ শিক্ষার্থীরা বুল্লা বাজার ও লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
সচেতন মহলের প্রশ্ন হাতেনাতে সরকারি মালামাল উদ্ধার এবং মামলা হওয়ার পরও তদন্ত শেষ হতেএত সময় লাগছে কেন? প্রকৃত দায়ীদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা কবে নেওয়া হবে? তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে জনগণের আস্থা ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।
মামলার তদন্তে ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মামলার ফাইলটি তাদের কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরদিনই প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে (ঢাকা) পাঠানো হয়েছে।
তবে কমিশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় অনুমোদন পেতে বিলম্ব হচ্ছে। অনুমোদন পাওয়া সাপেক্ষে মামলার পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে বলে তারা জানান।
তবে মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি সম্পদ লোপাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগে দায়ীদের বিরোদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত কার্যক্রমে গতি আনা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন