জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আর্থিক সংকটের কারনে মসজিদের কাজ বন্ধ

নানা সমস্যায় জর্জরিত রাণীনগরের বৃহত্তম চকাদিন মাদ্রাসা ও এতিমখানা



নানা সমস্যায় জর্জরিত রাণীনগরের বৃহত্তম চকাদিন মাদ্রাসা ও এতিমখানা
ছবি: প্রতিনিধি

নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এতিমখানা হচ্ছে চকাদিন ও চককুতুব সুবহানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দানশীল ব্যক্তিদের দানের উপর পরিচালিত হয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। 
সরকারের পক্ষ থেকে বড়ধরনের কোন সহযোগিতা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের কপালে জোটেনি। তবে সম্প্রতি সময়ে স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতায় মাদ্রাসার পূর্বদিকের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ হওয়ার পর অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থীর এই ইসলামিক প্রতিষ্ঠানটি। 

প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মুফতি মো: আব্দুর রউফ জানান বর্তমানে মাদ্রাসায় আবাসিক, এতিম ও দোস্ত মিলে প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থী ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৭০জন এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে ২২জন ও কর্মচারী হিসেবে ৪জন ব্যক্তি কর্মরত রয়েছেন। যারা খুব সামান্য সম্মানী নিয়ে ইসলামের শিক্ষা বিস্তার করে আসছেন। 

জন্মলগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দানশীল ব্যক্তিদের দানের উপর পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিমাসে মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের যতসামান্য সম্মানী ও শিক্ষার্থীদের খাওয়া খরচসহ বিভিন্ন খরচ মিলে প্রায় পনের লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। 

মহান আল্লাহর মর্জিতে এখন পর্যন্ত আল্লাহর প্রিয় দানশীল ব্যক্তি ও স্থানীয়দের দান, সাহায্য ও সহযোগিতায় কষ্টের মধ্যদিয়ে এই বৃহৎ পরিবার নিয়ে দিন পাড়ি দেওয়া হচ্ছে। যখন ভাতের জন্য চাল থাকে না তখন এলাকার কোন না কোন দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাইলে চালের যোগার হয়ে যায়। আবার অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় বিভিন্ন নিয়তে চালসহ যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো দান করেন সেগুলোও অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অনেক সময় অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এছাড়া বছর শেষে শুধুমাত্র এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সামান্য সহযোগিতা পাওয়া যায় তা প্রয়োজনের চাইতে খুবই অপ্রতুল। 

তিনি আরো জানান মাদ্রাসার অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনোও বাকি আছে। বিভিন্ন ব্যক্তিদের দানের মাধ্যমে মাদ্রাসার উত্তর-পশ্চিম দিকে দোতলা একটি ভবন নির্মাণ হওয়ার কারণে আবাসিক সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে এখনোও অনেক শিক্ষার্থীকে আধুনিক আবাসন সংকটের কারণে টিনের পুরাতন কক্ষে বসবাস করতে হচ্ছে। 

এছাড়া মাদ্রাসার ভিতর একটি বহুতল মসজিদ নির্মাণের কাজ আর্থিক সংকটের কারণে অনেক বছর হলো পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। অনেক সমস্যায় মাদ্রাসাটি বছরের পর বছর জর্জরিত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোন সুদৃষ্টি না থাকার কারণে অবহেলার মধ্যে জরাজীর্ণ পরিবেশে ইসলামিক শিক্ষা প্রদানের চেস্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। 

এছাড়া বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে পানি বের হওয়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কারণে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে হাটু পানি জমে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দিনানিপাত করতে হয়। এছাড়া স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা প্রশাসন মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে সহযোগিতা আশ্নাস দিয়েছেন। যদি সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যেতো তাহলে আধুনিকায়নের কিছুটা ছোঁয়া পেতো মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান বৃহত্তম এই প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যার কথা আমি জেনেছি। বিভিন্ন সময় সরকারি বিভিন্ন সহায়তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার চেস্টা করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার পশ্চিম দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ভাবে সুযোগ পেলেই মাদ্রাসার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নানা সমস্যায় জর্জরিত রাণীনগরের বৃহত্তম চকাদিন মাদ্রাসা ও এতিমখানা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় এতিমখানা হচ্ছে চকাদিন ও চককুতুব সুবহানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা। ১৯৮৫ সালে স্থাপিত হওয়ার পর থেকে দানশীল ব্যক্তিদের দানের উপর পরিচালিত হয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। 
সরকারের পক্ষ থেকে বড়ধরনের কোন সহযোগিতা এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের কপালে জোটেনি। তবে সম্প্রতি সময়ে স্থানীয় সাংসদের সহযোগিতায় মাদ্রাসার পূর্বদিকের নিরাপত্তা প্রাচীর নির্মাণ হওয়ার পর অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থীর এই ইসলামিক প্রতিষ্ঠানটি। 

প্রতিষ্ঠানের মুহতামিম মুফতি মো: আব্দুর রউফ জানান বর্তমানে মাদ্রাসায় আবাসিক, এতিম ও দোস্ত মিলে প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থী ইসলামিক শিক্ষা গ্রহণ করছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ৭০জন এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে ২২জন ও কর্মচারী হিসেবে ৪জন ব্যক্তি কর্মরত রয়েছেন। যারা খুব সামান্য সম্মানী নিয়ে ইসলামের শিক্ষা বিস্তার করে আসছেন। 

জন্মলগ্ন থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দানশীল ব্যক্তিদের দানের উপর পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিমাসে মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের যতসামান্য সম্মানী ও শিক্ষার্থীদের খাওয়া খরচসহ বিভিন্ন খরচ মিলে প্রায় পনের লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। 

মহান আল্লাহর মর্জিতে এখন পর্যন্ত আল্লাহর প্রিয় দানশীল ব্যক্তি ও স্থানীয়দের দান, সাহায্য ও সহযোগিতায় কষ্টের মধ্যদিয়ে এই বৃহৎ পরিবার নিয়ে দিন পাড়ি দেওয়া হচ্ছে। যখন ভাতের জন্য চাল থাকে না তখন এলাকার কোন না কোন দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাইলে চালের যোগার হয়ে যায়। আবার অনেক সময় বিভিন্ন ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় বিভিন্ন নিয়তে চালসহ যে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো দান করেন সেগুলোও অনেক সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অনেক সময় অভাবের কারণে শিক্ষার্থীদের ভালো মানের খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। এছাড়া বছর শেষে শুধুমাত্র এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে সামান্য সহযোগিতা পাওয়া যায় তা প্রয়োজনের চাইতে খুবই অপ্রতুল। 

তিনি আরো জানান মাদ্রাসার অবকাঠামোগত অনেক কাজ এখনোও বাকি আছে। বিভিন্ন ব্যক্তিদের দানের মাধ্যমে মাদ্রাসার উত্তর-পশ্চিম দিকে দোতলা একটি ভবন নির্মাণ হওয়ার কারণে আবাসিক সংকট কিছুটা লাঘব হয়েছে। তবে এখনোও অনেক শিক্ষার্থীকে আধুনিক আবাসন সংকটের কারণে টিনের পুরাতন কক্ষে বসবাস করতে হচ্ছে। 

এছাড়া মাদ্রাসার ভিতর একটি বহুতল মসজিদ নির্মাণের কাজ আর্থিক সংকটের কারণে অনেক বছর হলো পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। অনেক সমস্যায় মাদ্রাসাটি বছরের পর বছর জর্জরিত থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোন সুদৃষ্টি না থাকার কারণে অবহেলার মধ্যে জরাজীর্ণ পরিবেশে ইসলামিক শিক্ষা প্রদানের চেস্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। 

এছাড়া বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে পানি বের হওয়ার ড্রেনেজ ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কারণে মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে হাটু পানি জমে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগের মধ্যে মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দিনানিপাত করতে হয়। এছাড়া স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা প্রশাসন মাদ্রাসার উন্নয়নকল্পে সহযোগিতা আশ্নাস দিয়েছেন। যদি সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যেতো তাহলে আধুনিকায়নের কিছুটা ছোঁয়া পেতো মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থীরা।  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান বৃহত্তম এই প্রতিষ্ঠানের নানা সমস্যার কথা আমি জেনেছি। বিভিন্ন সময় সরকারি বিভিন্ন সহায়তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার চেস্টা করা হয়। এছাড়া মাদ্রাসার পশ্চিম দিকের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ভাবে সুযোগ পেলেই মাদ্রাসার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করা হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত