জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতার দাবী

স্ত্রীর ওপর নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় অধরা রাবি শিক্ষক



স্ত্রীর ওপর নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় অধরা রাবি শিক্ষক
ছবি: প্রতিনিধি

মামলা দায়েরের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তারা অভিযোগ করেছেন, মামলা হওয়ার পরও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি’র প্রধান কার্যলয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিভাবক মোঃ আব্দুল হাকিম এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ এনামুল হক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী নূরজাহান সুলতানা রেনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। প্রায় ১৪০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং এক কোটি টাকা যৌতুকের দাবিতে তাকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত ৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৭ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর কাজলা অক্ট্রয় মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রতিবাদ করে ভিডিও ধারণ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই মতিহার থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা (নং-১৪) দায়ের করা হয়। তবে বাদী অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকারের দায়িত্বের গাফিলতির কারণে এখনো প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ এনামুল হক বলেন, "মামলা হয়েছে, থানা ও আদালত বিষয়টি দেখবে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।" এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে মতিহার থানার সদ্য যোগদানকৃত অফিসার ইনচার্জ অঞ্জুন বলেন, আমি কেবল জয়েন করেছি, বিষয়টির ব্যাপারে আামি তেমন একটা জানি না। রাতে জেনে আপনাকে জনাতে পারব।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকার জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হবে। আর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরজুন বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্ত্রীর ওপর নির্যাতন, অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলায় অধরা রাবি শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মামলা দায়েরের ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার না করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। তারা অভিযোগ করেছেন, মামলা হওয়ার পরও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় বিচার পাওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটি’র প্রধান কার্যলয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর অভিভাবক মোঃ আব্দুল হাকিম এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাবির মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোঃ এনামুল হক দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী নূরজাহান সুলতানা রেনির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। প্রায় ১৪০ ভরি স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ এবং এক কোটি টাকা যৌতুকের দাবিতে তাকে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, গত ৪ জুলাই রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক ৭ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নগরীর কাজলা অক্ট্রয় মোড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার প্রতিবাদ করে ভিডিও ধারণ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই মতিহার থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় মামলা (নং-১৪) দায়ের করা হয়। তবে বাদী অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকারের দায়িত্বের গাফিলতির কারণে এখনো প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ এনামুল হক বলেন, "মামলা হয়েছে, থানা ও আদালত বিষয়টি দেখবে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।" এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে মতিহার থানার সদ্য যোগদানকৃত অফিসার ইনচার্জ অঞ্জুন বলেন, আমি কেবল জয়েন করেছি, বিষয়টির ব্যাপারে আামি তেমন একটা জানি না। রাতে জেনে আপনাকে জনাতে পারব।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রিপন কুমার সরকার জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হবে। আর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আরজুন বলেন, তিনি সম্প্রতি থানায় যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত