জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পথের কাঁটা সরাতে প্রতিপক্ষের নামে ৫০ মামলা



পথের কাঁটা সরাতে প্রতিপক্ষের নামে ৫০ মামলা
ছবি: প্রতিনিধি

পথের কাঁটা সরাতে ভূমিদস্যু চক্র প্রতিপক্ষের উপর একে একে ৫০ টি মামলা চাপিয়েছেন। এসব মামলার মাধ্যমে এই চক্র কার্যত সরকারি নির্দেশ অমান্য করছে। ইচ্ছে খুশি মামলায় আসামি হয়ে সাধারণ সরল মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই ভূমিদস্যু চক্র এসব মামলা দিয়ে যশোর রেলগেট পশ্চিম পাড়ায় প্রায় ত্রিশ শতক মূল্যবান ব্যাক্তি মালিকানা জমি আত্মসাত প্রক্রিয়ায় লিপ্ত। ঐ জমির সর্বনিম্ন বাজার মূল্য অন্তত ছয় কোটি টাকা।

ভুক্তভুগিরা জানিয়েছেন, রায় বিলম্ব করতে এবং প্রকৃত জমি মালিকদের হয়রানি করে দূরে সরাতে অতি সম্প্রতি ১০টি নতুন মামলার অবতারনা করেছে আবুল বাসার গঙ। আবুল বাসার তিনটি, ইসলাম পাঁচটি, মুন্নি দুটি, লাল বাবু দুটি মামলা করেছেন প্রকৃত জমি মালিকদের বিরুদ্ধে। এর ফলে প্রতিপক্ষের নামে রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মৃত সইজ উদ্দিনের ছেলে আবুল বাসার, তার শাশুড়ি, স্যালক, শালী মিলে ৫০টি মামলা করেছেন। এসব মামলার আসামি হচ্ছেন একই এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাটা ম্যানেজার মৃত নুর উদ্দিনের ছেলে সালাহদ্দীন টিঙ্কু, মেয়ে রুপা, মোঃ হোসেন গুলিয়া, আব্দুর রব, আবিদসহ নয় জন। এরা প্রত্যেকে জমির ক্রয়সূত্রে মালিক যার দলিল স্পষ্ট। চলতি ২০২৬ সালে অন্তত ১০টি মামলা করেছে মামলাবাজ বাসার চক্র। আর সিংহ ভাগ মামলা করা হয়েছে ফ্যাসিস্ট আমলে।

কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে দেখা এডিসি (রাজস্ব) সাতটি নাম পত্তন বাতিল করেছে। সি আর ১১৩৯/২৩, সিআর ১৪২৯/২২, সিআর ১৫১৪/২৩, সিআর ১১৯৯/২৩, সিআর ১০৫০/২৩, সিআর ১১২০/২৩, সিআর ১৯৫৫/২৩। এসব জমি আবুল বাসার, তার স্ত্রী মুন্নি, শালি রোজিনা, গুলশানারা, স্যালক আব্দুস সালাম, লাল বাবু ও ইসলামের জবর দখলে রয়েছে। এরা সকলেই ভূমি আইনে অপরাধী। এরা অন্যের জমি কখনো ওয়ারেস কখনো ক্রয় দাবি করছে। তবে তাদের আইনি ভিত্তি বেশ দুর্বল। 

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আবুল বাসার গঙ নানা টাল বাহানায় কয়েক দাগের জমি দখলে রেখেছে। জবর দখল নিশ্চিত করতেই তাদের একের পর এক মামলা নাটক। এই চক্র পৌরসভার রাস্তা পানি কলও নিজেদের দখলে রেখেছে। অভিযোগ দিয়েও পৌর কতৃপক্ষ গাফিলতিতে রাস্তা উদ্ধার হয়নি। এমনকি সাবেক ব্যাটা ম্যানেজার নূর উদ্দিনের জমি তাদের দখলে। কেফায়েতের ক্রয় জমি এরা জবর দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। 

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, একই বিষয়ে অনেক মিথ্যা ও হয়রানি মামলা করে ভূমিদস্যু চক্র প্রকৃত জমি মালিকদের জীবনে নাভিশ্বাস তোলে। মজার বিষয় হচ্ছে সব মামলা মিথ্যা গলদ কাগজপত্রের ভিত্তিতে করা হয়েছে। 

ভুক্তভুগিদের কয়েক জন বলেছেন, যশোর শহরের ৫নং ওয়ার্ড রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু চক্র ঘাঁটি গেড়েছে। এরা সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে একের পর জমি হয় জবর দখল করছে অথবা জবর দখলে নিতে জাল কাগজপত্রের বুনিয়াদে বিভিন্ন মানুষের নামে মামলা করছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার উদ্দেশ্য টার্গেট অন্যের জমি কব্জায় নেওয়া। প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক সহায়তা এই ভূমিদস্যু চক্রকে আরো বেপরোয়া করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পথের কাঁটা সরাতে প্রতিপক্ষের নামে ৫০ মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পথের কাঁটা সরাতে ভূমিদস্যু চক্র প্রতিপক্ষের উপর একে একে ৫০ টি মামলা চাপিয়েছেন। এসব মামলার মাধ্যমে এই চক্র কার্যত সরকারি নির্দেশ অমান্য করছে। ইচ্ছে খুশি মামলায় আসামি হয়ে সাধারণ সরল মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। এই ভূমিদস্যু চক্র এসব মামলা দিয়ে যশোর রেলগেট পশ্চিম পাড়ায় প্রায় ত্রিশ শতক মূল্যবান ব্যাক্তি মালিকানা জমি আত্মসাত প্রক্রিয়ায় লিপ্ত। ঐ জমির সর্বনিম্ন বাজার মূল্য অন্তত ছয় কোটি টাকা।

ভুক্তভুগিরা জানিয়েছেন, রায় বিলম্ব করতে এবং প্রকৃত জমি মালিকদের হয়রানি করে দূরে সরাতে অতি সম্প্রতি ১০টি নতুন মামলার অবতারনা করেছে আবুল বাসার গঙ। আবুল বাসার তিনটি, ইসলাম পাঁচটি, মুন্নি দুটি, লাল বাবু দুটি মামলা করেছেন প্রকৃত জমি মালিকদের বিরুদ্ধে। এর ফলে প্রতিপক্ষের নামে রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মৃত সইজ উদ্দিনের ছেলে আবুল বাসার, তার শাশুড়ি, স্যালক, শালী মিলে ৫০টি মামলা করেছেন। এসব মামলার আসামি হচ্ছেন একই এলাকার মৃত সেকেন্দার আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক বাটা ম্যানেজার মৃত নুর উদ্দিনের ছেলে সালাহদ্দীন টিঙ্কু, মেয়ে রুপা, মোঃ হোসেন গুলিয়া, আব্দুর রব, আবিদসহ নয় জন। এরা প্রত্যেকে জমির ক্রয়সূত্রে মালিক যার দলিল স্পষ্ট। চলতি ২০২৬ সালে অন্তত ১০টি মামলা করেছে মামলাবাজ বাসার চক্র। আর সিংহ ভাগ মামলা করা হয়েছে ফ্যাসিস্ট আমলে।

কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে দেখা এডিসি (রাজস্ব) সাতটি নাম পত্তন বাতিল করেছে। সি আর ১১৩৯/২৩, সিআর ১৪২৯/২২, সিআর ১৫১৪/২৩, সিআর ১১৯৯/২৩, সিআর ১০৫০/২৩, সিআর ১১২০/২৩, সিআর ১৯৫৫/২৩। এসব জমি আবুল বাসার, তার স্ত্রী মুন্নি, শালি রোজিনা, গুলশানারা, স্যালক আব্দুস সালাম, লাল বাবু ও ইসলামের জবর দখলে রয়েছে। এরা সকলেই ভূমি আইনে অপরাধী। এরা অন্যের জমি কখনো ওয়ারেস কখনো ক্রয় দাবি করছে। তবে তাদের আইনি ভিত্তি বেশ দুর্বল। 

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আবুল বাসার গঙ নানা টাল বাহানায় কয়েক দাগের জমি দখলে রেখেছে। জবর দখল নিশ্চিত করতেই তাদের একের পর এক মামলা নাটক। এই চক্র পৌরসভার রাস্তা পানি কলও নিজেদের দখলে রেখেছে। অভিযোগ দিয়েও পৌর কতৃপক্ষ গাফিলতিতে রাস্তা উদ্ধার হয়নি। এমনকি সাবেক ব্যাটা ম্যানেজার নূর উদ্দিনের জমি তাদের দখলে। কেফায়েতের ক্রয় জমি এরা জবর দখল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। 

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, একই বিষয়ে অনেক মিথ্যা ও হয়রানি মামলা করে ভূমিদস্যু চক্র প্রকৃত জমি মালিকদের জীবনে নাভিশ্বাস তোলে। মজার বিষয় হচ্ছে সব মামলা মিথ্যা গলদ কাগজপত্রের ভিত্তিতে করা হয়েছে। 

ভুক্তভুগিদের কয়েক জন বলেছেন, যশোর শহরের ৫নং ওয়ার্ড রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় ভয়ঙ্কর ভূমিদস্যু চক্র ঘাঁটি গেড়েছে। এরা সরকারি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে একের পর জমি হয় জবর দখল করছে অথবা জবর দখলে নিতে জাল কাগজপত্রের বুনিয়াদে বিভিন্ন মানুষের নামে মামলা করছে। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার উদ্দেশ্য টার্গেট অন্যের জমি কব্জায় নেওয়া। প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক সহায়তা এই ভূমিদস্যু চক্রকে আরো বেপরোয়া করেছে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত