আটা আর চাল লিবার আসি, দিনই চলি যায়। বাড়ির কোনো কাজ হয় না। সকাল আটটার দিকে আইছি, এখন বিকেল সাড়ে তিনটা বাজে।’—কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের মাঝগ্রাম মহল্লার বাসিন্দা জোসনা বেওয়া।
সোমবার আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ন্যায্যমূল্যের বিশেষ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় আটা ও চাল কিনতে এসে এমন ভোগান্তির কথা জানান তিনি। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও তাঁর কেনাকাটার পালা আসেনি। তাঁর মতো আরও অনেক নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
সরেজমিনে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি দীর্ঘ লাইন। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে লাইনের পাশে বসে আছেন। অপেক্ষার ক্লান্তি ও বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট তাঁদের মুখে।
খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে পাঁচ দিন—রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করা হয়। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন। প্রতিদিন ৪০০ জন উপকারভোগী এ সুবিধা পান।
বিক্রয়কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য বিভাগের অনিয়মিত কর্মচারী ইউনুছ আলী উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ২৭০ টাকা গ্রহণ করছেন। এরপর তাঁদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে এবং অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে আরেক ব্যক্তি আটা ও চাল মেপে দিচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে একজন উপকারভোগীর ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং অপেক্ষার সময় বাড়ছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, বাজারের তুলনায় কম দামে আটা ও চাল পাওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের ভিড় থাকে। কিন্তু বিক্রির গতি ধীর হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দিনমজুরদের কাজের ক্ষতি হচ্ছে, আর গৃহিণীদের বাড়ির কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মোঃ মাহবুব হোসেন, নির্দেশনা রয়েছে দুটি বুথে ওএমএস দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করার কথা রয়েছে। জনবল সঙ্কটেন কারণে
একটি বুথে দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এবিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর রহমান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে জনবল–সংকটের কারণে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চলতি মাস পর্যন্ত নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম চালাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। এরপর ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
আটা আর চাল লিবার আসি, দিনই চলি যায়। বাড়ির কোনো কাজ হয় না। সকাল আটটার দিকে আইছি, এখন বিকেল সাড়ে তিনটা বাজে।’—কথাগুলো বলছিলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর শহরের মাঝগ্রাম মহল্লার বাসিন্দা জোসনা বেওয়া।
সোমবার আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ন্যায্যমূল্যের বিশেষ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় আটা ও চাল কিনতে এসে এমন ভোগান্তির কথা জানান তিনি। সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে গেলেও তাঁর কেনাকাটার পালা আসেনি। তাঁর মতো আরও অনেক নারী-পুরুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন।
সরেজমিনে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি দীর্ঘ লাইন। অনেকেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে লাইনের পাশে বসে আছেন। অপেক্ষার ক্লান্তি ও বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট তাঁদের মুখে।
খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহে পাঁচ দিন—রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—ওএমএস কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করা হয়। একজন উপকারভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন। প্রতিদিন ৪০০ জন উপকারভোগী এ সুবিধা পান।
বিক্রয়কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, খাদ্য বিভাগের অনিয়মিত কর্মচারী ইউনুছ আলী উপকারভোগীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ২৭০ টাকা গ্রহণ করছেন। এরপর তাঁদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে এবং অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরে আরেক ব্যক্তি আটা ও চাল মেপে দিচ্ছেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে একজন উপকারভোগীর ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং অপেক্ষার সময় বাড়ছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, বাজারের তুলনায় কম দামে আটা ও চাল পাওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের ভিড় থাকে। কিন্তু বিক্রির গতি ধীর হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে দিনমজুরদের কাজের ক্ষতি হচ্ছে, আর গৃহিণীদের বাড়ির কাজও ব্যাহত হচ্ছে।
আক্কেলপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার মোঃ মাহবুব হোসেন, নির্দেশনা রয়েছে দুটি বুথে ওএমএস দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করার কথা রয়েছে। জনবল সঙ্কটেন কারণে
একটি বুথে দুই টন আটা ও দুই টন চাল বিক্রি করা হচ্ছে। এবিষয়টি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা ওএমএস কমিটির সভাপতি ও আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক-উর রহমান বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে জনবল–সংকটের কারণে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক চলতি মাস পর্যন্ত নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম চালাতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। এরপর ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসূচিটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন