জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে : অর্থমন্ত্রী



আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে : অর্থমন্ত্রী
ছবি: প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) প্রকল্পে শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। 

২৭ জুলাই(সোমবার) দুপুরে আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকার এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে এর পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে।

তিনি বলেন, এ শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠবে। আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, প্রায় এক দশকের অপেক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণের কাজ। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় সরকার-টু-সরকার উদ্যোগে প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপিত হয়। পরে ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। গত ১৬ জুন একনেক সভায় অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গতি আসে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় জেটি লিংক সড়ক, প্রধান সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন, সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, বাউন্ডারি ওয়াল এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে বস্ত্র, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, মেডিক্যাল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠবে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এ শিল্পাঞ্চলের লজিস্টিক সুবিধা অত্যন্ত অনুকূল। তবে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাস্টমস ও অন্যান্য সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আনোয়ারা চায়না ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) প্রকল্পে শেষ পর্যন্ত এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এ প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। 

২৭ জুলাই(সোমবার) দুপুরে আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ বিনিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সরকার এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে এর পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে।

তিনি বলেন, এ শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠবে। আবাসন, পরিবহন, লজিস্টিকস, সেবাখাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) প্রেসিডেন্ট, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামসহ দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।

জানা গেছে, প্রায় এক দশকের অপেক্ষা ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণের কাজ। প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এবং এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় সরকার-টু-সরকার উদ্যোগে প্রকল্পটির ভিত্তি স্থাপিত হয়। পরে ডেভেলপার নির্বাচন, অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত নানা জটিলতায় বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়। গত ১৬ জুন একনেক সভায় অনুমোদনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গতি আসে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ এবং ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় জেটি লিংক সড়ক, প্রধান সড়ক, পানি সংরক্ষণাগার, গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন, সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), বহুমুখী জেটি, সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, বাউন্ডারি ওয়াল এবং বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, শিল্পাঞ্চলটি চালু হলে বস্ত্র, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, মেডিক্যাল ডিভাইস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কেমিক্যাল ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্প গড়ে উঠবে এবং রপ্তানিমুখী শিল্পায়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আমিরুল হক বলেন, কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এ শিল্পাঞ্চলের লজিস্টিক সুবিধা অত্যন্ত অনুকূল। তবে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাস্টমস ও অন্যান্য সেবা আরও সহজ ও কার্যকর করতে হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত