জয়পুরহাট    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

দুপচাঁচিয়ায় রোপা আমন চারা লাগানোর ধুম: কৃষকের মুখে হাসি



দুপচাঁচিয়ায় রোপা আমন চারা লাগানোর ধুম: কৃষকের মুখে হাসি
ছবি: প্রতিনিধি

আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের আগমন ঘটতেই বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। সোনালি ফসলের বুকভরা স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই মাঠে নেমে পড়ছেন এখানকার কৃষকেরা।

সূর্যাস্ত পেরিয়ে অনেক জায়গায় কাজ চলছে । শ্রাবণের মাঠ-ঘাট এখন যেন কৃষকের কর্মমুখরতায় এক অনন্য গ্রামীণ উৎসবে রূপ নিয়েছে। কে কার আগে চারা রোপণ শেষ করতে পারবেন, তা নিয়ে উপজেলার মাঠে মাঠে চলছে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।

​উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এক ব্যস্ততম চিত্র। কোথাও পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের গর্জন, কোথাও কাদা-পানিতে ছপছপ শব্দে বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে কচি সবুজ চারা। কোথাও আবার কোমর সমান কাদায় নেমে নিপুণ হাতে সারিবদ্ধভাবে চলছে ধান রোপণের কাজ। একই সঙ্গে চলছে জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার নানামুখী কর্মযজ্ঞ। চাষাবাদের এই ব্যস্ত মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুর শ্রমিকেরাও বাড়তি উপার্জনের আশায় দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন।

​উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলার মোট ৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিস্তৃত অঞ্চলে ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকেরা আগেভাগেই ৬০০ হেক্টর জমিতে সুমেধ ও সুস্থ বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন।

​এবার ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় জনপ্রিয় জাতের ধানের পাশাপাশি আবহাওয়া সহনশীল এবং উচ্চফলনশীল (উফশী) ও আধুনিক জাতের ধান রোপণে কৃষকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। কৃষকেরা স্থানীয় স্বর্ণা-৫, রনজিত ও সুগন্ধি কাটারি ধানের পাশাপাশি বিনা-৭, বিনা-১৭, বিনা-২২, বিনা-২৬ এবং ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪, ব্রি ধান-৯৫ ও ব্রি ধান-১০৩ জাতের চারা রোপণ করছেন।

​সময়মতো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার শিপুর গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক এমদাদুল হক তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “ঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়াতে আমন চাষের পরিবেশটা একদম জমজমাট হয়ে উঠেছে। এবার বাজারে সার ও কীটনাশকের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। আমি নিজে এবার স্বর্ণা-৫, রনজিত এবং বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করছি। পরিবেশ ও আবহাওয়া এমন অনুকূলে থাকলে এবার ফলন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।”

​মাঠ পর্যায়ের সার্বিক অবস্থা ও কৃষি বিভাগের তৎপরতা সম্পর্কে দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, রোপা আমন চাষকে লাভজনক ও সফল করতে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কৃষকদের প্র প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। অধিক ফলন নিশ্চিত করতে আমরা আধুনিক ‘লাইন-লোগো’ পদ্ধতিতে রোপণের ওপর জোর দিচ্ছি।

তিনি আরও জানান, “ইতিমধ্যেই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকৃতির এই অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবং কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আমরা অনায়াসেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


দুপচাঁচিয়ায় রোপা আমন চারা লাগানোর ধুম: কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণের আগমন ঘটতেই বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী রোপা আমন ধান রোপণের মহোৎসব। সোনালি ফসলের বুকভরা স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই মাঠে নেমে পড়ছেন এখানকার কৃষকেরা।

সূর্যাস্ত পেরিয়ে অনেক জায়গায় কাজ চলছে । শ্রাবণের মাঠ-ঘাট এখন যেন কৃষকের কর্মমুখরতায় এক অনন্য গ্রামীণ উৎসবে রূপ নিয়েছে। কে কার আগে চারা রোপণ শেষ করতে পারবেন, তা নিয়ে উপজেলার মাঠে মাঠে চলছে এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা।

​উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এক ব্যস্ততম চিত্র। কোথাও পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টরের গর্জন, কোথাও কাদা-পানিতে ছপছপ শব্দে বীজতলা থেকে তোলা হচ্ছে কচি সবুজ চারা। কোথাও আবার কোমর সমান কাদায় নেমে নিপুণ হাতে সারিবদ্ধভাবে চলছে ধান রোপণের কাজ। একই সঙ্গে চলছে জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার নানামুখী কর্মযজ্ঞ। চাষাবাদের এই ব্যস্ত মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুর শ্রমিকেরাও বাড়তি উপার্জনের আশায় দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন।

​উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে দুপচাঁচিয়া উপজেলার মোট ৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার বিস্তৃত অঞ্চলে ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকেরা আগেভাগেই ৬০০ হেক্টর জমিতে সুমেধ ও সুস্থ বীজতলা প্রস্তুত করেছিলেন।

​এবার ঐতিহ্যবাহী ও স্থানীয় জনপ্রিয় জাতের ধানের পাশাপাশি আবহাওয়া সহনশীল এবং উচ্চফলনশীল (উফশী) ও আধুনিক জাতের ধান রোপণে কৃষকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। কৃষকেরা স্থানীয় স্বর্ণা-৫, রনজিত ও সুগন্ধি কাটারি ধানের পাশাপাশি বিনা-৭, বিনা-১৭, বিনা-২২, বিনা-২৬ এবং ব্রি ধান-৩৪, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৯০, ব্রি ধান-৯৩, ব্রি ধান-৯৪, ব্রি ধান-৯৫ ও ব্রি ধান-১০৩ জাতের চারা রোপণ করছেন।

​সময়মতো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার শিপুর গ্রামের অভিজ্ঞ কৃষক এমদাদুল হক তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “ঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়াতে আমন চাষের পরিবেশটা একদম জমজমাট হয়ে উঠেছে। এবার বাজারে সার ও কীটনাশকের সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, কোনো ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে না। আমি নিজে এবার স্বর্ণা-৫, রনজিত এবং বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করছি। পরিবেশ ও আবহাওয়া এমন অনুকূলে থাকলে এবার ফলন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।”

​মাঠ পর্যায়ের সার্বিক অবস্থা ও কৃষি বিভাগের তৎপরতা সম্পর্কে দুপচাঁচিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুহাম্মদ সাইফুল আবেদীন বলেন, রোপা আমন চাষকে লাভজনক ও সফল করতে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই কৃষকদের প্র প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। অধিক ফলন নিশ্চিত করতে আমরা আধুনিক ‘লাইন-লোগো’ পদ্ধতিতে রোপণের ওপর জোর দিচ্ছি।

তিনি আরও জানান, “ইতিমধ্যেই উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকৃতির এই অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবং কোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে আমরা অনায়াসেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত