জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

কুড়িগ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে পুলিশের মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন



কুড়িগ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে পুলিশের মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন
ছবি: প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম জেলার  নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় ঘুষের বিনিময়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে নাগেশ্বরী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শিমুল সরকার এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার নাখারগঞ্জ বাজার এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মফিজুল ইসলাম আস্করনগর মৌজায় ৪৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। 

ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আতাউর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা দীলরুবা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর সি.আর-১৬৪/২০২৬। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সাব-ইন্সপেক্টর শিমুল সরকারের ওপর।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ অনুসন্ধান ও তথ্য-যাচাই না করেই চলতি বছরের গত ১৪ এপ্রিল বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৬ মার্চ মফিজুল ইসলাম ও তার বাবা লাঠি, দা ও কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির ফসল নষ্ট করেন এবং হুমকি দেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, ওই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, ওই সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি এবং তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি বলেন, আমি ৮৩ বছর বয়সী একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা শিমুল সরকার ঘুষের বিনিময়ে তার পেশাগত নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছেন। আমি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।ভুক্তভোগী মফিজুর ইসলাম বলেন, পুলিশ টাকার বিনিময়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দাখিল করেছন।

 বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, ওসমান গনি ও তার ছেলে মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শিমুল সরকার বলেন, আমি আদালতের নির্দেশনা ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোর্শেদবলেন, এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


কুড়িগ্রামে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে পুলিশের মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রাম জেলার  নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় ঘুষের বিনিময়ে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে নাগেশ্বরী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শিমুল সরকার এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উপজেলার নাখারগঞ্জ বাজার এলাকার যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মফিজুল ইসলাম আস্করনগর মৌজায় ৪৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। 

ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আতাউর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা দীলরুবা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর সি.আর-১৬৪/২০২৬। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সাব-ইন্সপেক্টর শিমুল সরকারের ওপর।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ অনুসন্ধান ও তথ্য-যাচাই না করেই চলতি বছরের গত ১৪ এপ্রিল বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ৬ মার্চ মফিজুল ইসলাম ও তার বাবা লাঠি, দা ও কোদালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির ফসল নষ্ট করেন এবং হুমকি দেন। তবে অভিযোগকারীর দাবি, ওই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ, ওই সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি এবং তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি বলেন, আমি ৮৩ বছর বয়সী একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা শিমুল সরকার ঘুষের বিনিময়ে তার পেশাগত নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছেন। আমি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।ভুক্তভোগী মফিজুর ইসলাম বলেন, পুলিশ টাকার বিনিময়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দাখিল করেছন।

 বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আলিম বলেন, ওসমান গনি ও তার ছেলে মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা। আমরা বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর শিমুল সরকার বলেন, আমি আদালতের নির্দেশনা ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) গোলাম মোর্শেদবলেন, এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত