জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আপন ঠিকানায় ফিরলেন বাকপ্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেন



আপন ঠিকানায় ফিরলেন বাকপ্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেন
ছবি: প্রতিনিধি

দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন বাকপ্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেন (৬৫)। সোমবার (২০ জুলাই) জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পরিবারের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের ঘটনায় উপস্থিত সবার চোখে জল নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে নাম-পরিচয়হীন এক বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা ও বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মার্কেটের বারান্দায় অসহায় অবস্থায় বসবাস শুরু করেন। কথা বলতে না পারায় তিনি শুধুমাত্র ইশারায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে দিন কাটছিল তার।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একাধিকবার তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পরিবারের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট দেখে বিষয়টি পরিবারের নজরে আনেন। পরে বিল্লাল হোসেনের স্বজনরা দ্রুত ক্ষেতলালে এসে বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তাকে শনাক্ত করেন।

এ সময় বিল্লাল হোসেনের ছেলে আব্দুল হালিম বাবাকে চিনতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্যে উপস্থিত স্থানীয় মানুষ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। আনন্দ আর আবেগে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, "আমি এই অসহায় মানুষটির যত্ন নিয়েছি, তিন বেলা খাবার দিয়েছি। আজ তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন, এতে খুব আনন্দ লাগছে। তবে এতদিনের সঙ্গী চলে যাওয়ায় কষ্টও লাগছে।"

বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা বলেন, "প্রতিবন্ধী মানুষটি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই অবস্থান করতেন। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী হলেও অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও সহজ-সরল মানুষ ছিলেন।"

স্থানীয় সাংবাদিক আবু হাসান বলেন, "এই মানুষটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সাংবাদিক/কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ স্থানীয় অনেকের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আমরা সফল হয়েছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং মানবিক এক অর্জন।"

 এদিকে বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আর আমিনের উপস্থিতিতে প্রমাণক যাচাই-বাছাই ও লিখিত অঙ্গীকারনামা সাপেক্ষে  পরিবারের কাছে হস্তান্তরের  প্রক্রিয়া শেষ হয়।

দীর্ঘ চার বছর পর বিল্লাল হোসেনের পরিবারে ফিরে যাওয়ার এই ঘটনা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


আপন ঠিকানায় ফিরলেন বাকপ্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেন

প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ চার বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে আপনজনের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেলেন বাকপ্রতিবন্ধী বিল্লাল হোসেন (৬৫)। সোমবার (২০ জুলাই) জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পরিবারের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের ঘটনায় উপস্থিত সবার চোখে জল নেমে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে নাম-পরিচয়হীন এক বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি ক্ষেতলাল উপজেলার ইটাখোলা ও বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন মার্কেটের বারান্দায় অসহায় অবস্থায় বসবাস শুরু করেন। কথা বলতে না পারায় তিনি শুধুমাত্র ইশারায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনোভাবে দিন কাটছিল তার।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা একাধিকবার তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পরিবারের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘদিনেও কোনো সাড়া মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্ট দেখে বিষয়টি পরিবারের নজরে আনেন। পরে বিল্লাল হোসেনের স্বজনরা দ্রুত ক্ষেতলালে এসে বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে তাকে শনাক্ত করেন।

এ সময় বিল্লাল হোসেনের ছেলে আব্দুল হালিম বাবাকে চিনতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। বাবা-ছেলের আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্যে উপস্থিত স্থানীয় মানুষ, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। আনন্দ আর আবেগে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশ।

স্থানীয় বাসিন্দা আনারুল ইসলাম বলেন, "আমি এই অসহায় মানুষটির যত্ন নিয়েছি, তিন বেলা খাবার দিয়েছি। আজ তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছেন, এতে খুব আনন্দ লাগছে। তবে এতদিনের সঙ্গী চলে যাওয়ায় কষ্টও লাগছে।"

বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা বলেন, "প্রতিবন্ধী মানুষটি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই অবস্থান করতেন। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী হলেও অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও সহজ-সরল মানুষ ছিলেন।"

স্থানীয় সাংবাদিক আবু হাসান বলেন, "এই মানুষটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সাংবাদিক/কনটেন্ট ক্রিয়েটরসহ স্থানীয় অনেকের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, অবশেষে আমরা সফল হয়েছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং মানবিক এক অর্জন।"

 এদিকে বড়াইল ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আর আমিনের উপস্থিতিতে প্রমাণক যাচাই-বাছাই ও লিখিত অঙ্গীকারনামা সাপেক্ষে  পরিবারের কাছে হস্তান্তরের  প্রক্রিয়া শেষ হয়।

দীর্ঘ চার বছর পর বিল্লাল হোসেনের পরিবারে ফিরে যাওয়ার এই ঘটনা মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত