জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

মক্কার জাদুঘরে কোরআনের আয়াত সংরক্ষণে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ প্রদর্শিত হচ্ছে



মক্কার জাদুঘরে কোরআনের আয়াত সংরক্ষণে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ প্রদর্শিত হচ্ছে
ছবি- সংগৃহীত

পবিত্র কোরআনের বাণী সংরক্ষণের সেই গৌরবময় ইতিহাস যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক জেলার কোরআন জাদুঘরে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই জাদুঘরে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে মহানবী (সা.)-এর যুগে পবিত্র কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণের বাস্তবসম্মত প্রতিরূপ।

 জাদুঘরে প্রদর্শিত উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত পশুর চামড়া, খেজুর গাছের ডাঁটা, কাঠ, পাথরের টুকরো এবং পশুর কাঁধ ও পাঁজরের হাড়ের প্রতিরূপ। মহানবী (সা.)-এর ওহি-লিপিকার সাহাবিগণ অবতীর্ণ আয়াতগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণের জন্য এসব উপকরণই ব্যবহার করতেন। বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে প্রক্রিয়াজাত চামড়া, যা আরবিতে ‘আদিম’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সে সময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য লেখার মাধ্যম।

মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন লেখা সংরক্ষণে সক্ষম হওয়ায় কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। 

জাদুঘরের প্রতিটি প্রদর্শনীর সঙ্গে রয়েছে বিস্তারিত তথ্য, যেখানে সংশ্লিষ্ট উপকরণের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারের কারণ এবং কীভাবে তার ওপর লেখা হতো—তা সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা ইসলামের প্রাথমিক যুগে কোরআন সংরক্ষণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করতে পারেন।

এখানে আরো তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো বিভিন্ন উপকরণে সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে সেগুলো একত্রিত করে একক মুসহাফে সংকলিত হয়।

এ প্রদর্শনী কোরআন সংরক্ষণের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের অসাধারণ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল স্মারক।

হেরা সাংস্কৃতিক জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই কোরআন জাদুঘর আধুনিক প্রদর্শনী কক্ষ, ডিজিটাল উপস্থাপনা এবং ইন্টারেক্টিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোরআনের ইতিহাস, অবতীর্ণ হওয়ার ধাপ, লিপিবদ্ধকরণ এবং সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়কে দর্শনার্থীদের সামনে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করছে।

তথ্যসূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি ও দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


মক্কার জাদুঘরে কোরআনের আয়াত সংরক্ষণে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ প্রদর্শিত হচ্ছে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

পবিত্র কোরআনের বাণী সংরক্ষণের সেই গৌরবময় ইতিহাস যেন আবারও জীবন্ত হয়ে উঠেছে মক্কার হেরা সাংস্কৃতিক জেলার কোরআন জাদুঘরে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই জাদুঘরে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে মহানবী (সা.)-এর যুগে পবিত্র কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণের বাস্তবসম্মত প্রতিরূপ।

 জাদুঘরে প্রদর্শিত উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াজাত পশুর চামড়া, খেজুর গাছের ডাঁটা, কাঠ, পাথরের টুকরো এবং পশুর কাঁধ ও পাঁজরের হাড়ের প্রতিরূপ। মহানবী (সা.)-এর ওহি-লিপিকার সাহাবিগণ অবতীর্ণ আয়াতগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সংরক্ষণের জন্য এসব উপকরণই ব্যবহার করতেন। বিশেষভাবে প্রদর্শিত হয়েছে প্রক্রিয়াজাত চামড়া, যা আরবিতে ‘আদিম’ নামে পরিচিত। এটি ছিল সে সময়ের অন্যতম নির্ভরযোগ্য লেখার মাধ্যম।

মজবুত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন লেখা সংরক্ষণে সক্ষম হওয়ায় কোরআনের আয়াত লিপিবদ্ধ করতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো। 

জাদুঘরের প্রতিটি প্রদর্শনীর সঙ্গে রয়েছে বিস্তারিত তথ্য, যেখানে সংশ্লিষ্ট উপকরণের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারের কারণ এবং কীভাবে তার ওপর লেখা হতো—তা সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থীরা ইসলামের প্রাথমিক যুগে কোরআন সংরক্ষণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা লাভ করতে পারেন।

এখানে আরো তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে মহানবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় অবতীর্ণ আয়াতগুলো বিভিন্ন উপকরণে সংরক্ষিত হয় এবং পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদিনের যুগে সেগুলো একত্রিত করে একক মুসহাফে সংকলিত হয়।

এ প্রদর্শনী কোরআন সংরক্ষণের ইতিহাসে সাহাবায়ে কেরামের অসাধারণ নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল স্মারক।

হেরা সাংস্কৃতিক জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই কোরআন জাদুঘর আধুনিক প্রদর্শনী কক্ষ, ডিজিটাল উপস্থাপনা এবং ইন্টারেক্টিভ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোরআনের ইতিহাস, অবতীর্ণ হওয়ার ধাপ, লিপিবদ্ধকরণ এবং সংকলনের বিভিন্ন পর্যায়কে দর্শনার্থীদের সামনে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করছে।

তথ্যসূত্র : সৌদি প্রেস এজেন্সি ও দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত