গত জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। দুই দলই নিজ নিজ নেতৃত্বে আলাদা জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে উভয় জোটেই ধীরে ধীরে মতপার্থক্য ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের ভেতরের টানাপোড়েন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
জোট-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে কওমি ধারার কয়েকটি দলকে বেরিয়ে আসতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের নেতারা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের ধারণা, এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে বিএনপিরও কৌশল থাকতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকটি শরিক দলের নেতা। তাদের অভিযোগ, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলনে জোটগত অবস্থান থাকলেও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শরিকদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এরই মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বরিশালে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বিভাগীয় সমাবেশে খেলাফত মজলিসও অংশ নেয়নি।
মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও জোটের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরোধও আলোচনায় রয়েছে। সংসদে ভূমিকা, সরকারের সমালোচনায় অবস্থান এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নীতির বিষয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। এবি পার্টিরও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
তবে এলডিপি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা, বিডিপি ও লেবার পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলেননি। এসব দলের সংসদে প্রতিনিধিত্বও নেই।
গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাদের শরিক দলগুলোর জন্য বিভিন্ন আসন ছেড়ে দিলেও কয়েকটি আসনে একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়। কোথাও কোথাও শরিকদের জন্য নির্ধারিত আসনেও জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। নির্বাচনের ফলাফলে জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয় লাভ করে।
খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেলেও উচ্চকক্ষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় দলটি জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, সংসদে সমন্বয় থাকলেও আপাতত তারা ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না।
দলটির মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, আপাতত জোটের কর্মসূচিতে থাকছেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
জোট-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ খেলাফত ও এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও অন্য শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব বা প্রধান অতিথির দায়িত্বেও একই দলগুলোর নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এসব অভিযোগকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষ্য, জোটে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা মান-অভিমান থাকতে পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
এদিকে জামায়াতের জোটে থাকা কয়েকটি কওমি ধারার দলের নেতারা একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। হেফাজতের নেতারা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকলে কওমি ধারার আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা কওমি ধারার দলগুলোকে জামায়াতের জোট ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকের পর খেলাফত মজলিসের দুই অংশ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা কওমি ধারার ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতের শীর্ষ আলেমরা মওদুদীবাদ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়ে আসছেন। নির্বাচনের আগেও হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সংগঠনটির নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেছেন, হেফাজত রাজনৈতিক জোট নয়; তারা কেবল কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের পরামর্শ দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা হতে পারে এবং ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্তে শরিকদের একটি অংশ অসন্তুষ্ট। তারা স্থানীয় নির্বাচনেও জোটগত সমঝোতা চান। বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য এখনো জুলাই সনদের পক্ষে সক্রিয় রয়েছে।
এনসিপিও ছয়টি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র এবং শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। দলটি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও জোটের ভেতরে সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠেছে। এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অতীতেও বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নিয়েছে। তার মতে, জাতীয় নির্বাচনে জোটগত সমন্বয় থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন দলভিত্তিকভাবেই পরিচালিত হওয়া স্বাভাবিক।
সূত্র: কালের কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
গত জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পৃথক রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। দুই দলই নিজ নিজ নেতৃত্বে আলাদা জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে উভয় জোটেই ধীরে ধীরে মতপার্থক্য ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের ভেতরের টানাপোড়েন আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।
জোট-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য থেকে কওমি ধারার কয়েকটি দলকে বেরিয়ে আসতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। জামায়াতের নেতারা বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের ধারণা, এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে বিএনপিরও কৌশল থাকতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকটি শরিক দলের নেতা। তাদের অভিযোগ, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আন্দোলনে জোটগত অবস্থান থাকলেও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শরিকদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এরই মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বরিশালে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বিভাগীয় সমাবেশে খেলাফত মজলিসও অংশ নেয়নি।
মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও জোটের কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট নয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরোধও আলোচনায় রয়েছে। সংসদে ভূমিকা, সরকারের সমালোচনায় অবস্থান এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের নীতির বিষয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। এবি পার্টিরও একই ধরনের পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
তবে এলডিপি, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা, বিডিপি ও লেবার পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে আপত্তি তোলেননি। এসব দলের সংসদে প্রতিনিধিত্বও নেই।
গত সংসদ নির্বাচনে জামায়াত তাদের শরিক দলগুলোর জন্য বিভিন্ন আসন ছেড়ে দিলেও কয়েকটি আসনে একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যায়। কোথাও কোথাও শরিকদের জন্য নির্ধারিত আসনেও জামায়াতের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। নির্বাচনের ফলাফলে জামায়াত ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয় লাভ করে।
খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেলেও উচ্চকক্ষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় দলটি জোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে খেলাফত মজলিস জানিয়েছে, সংসদে সমন্বয় থাকলেও আপাতত তারা ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না।
দলটির মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, আপাতত জোটের কর্মসূচিতে থাকছেন না। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়ে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হবে। তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।
জোট-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ খেলাফত ও এনসিপিকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও অন্য শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না—এমন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব বা প্রধান অতিথির দায়িত্বেও একই দলগুলোর নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এসব অভিযোগকে বড় কোনো সংকট হিসেবে দেখছেন না। তার ভাষ্য, জোটে সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা মান-অভিমান থাকতে পারে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
এদিকে জামায়াতের জোটে থাকা কয়েকটি কওমি ধারার দলের নেতারা একই সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। হেফাজতের নেতারা মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘদিন থাকলে কওমি ধারার আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে হেফাজতের শীর্ষ নেতারা কওমি ধারার দলগুলোকে জামায়াতের জোট ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৈঠকের পর খেলাফত মজলিসের দুই অংশ এবং নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা কওমি ধারার ঐক্য বজায় রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতের শীর্ষ আলেমরা মওদুদীবাদ নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থান নিয়ে আসছেন। নির্বাচনের আগেও হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে জামায়াতকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সংগঠনটির নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেছেন, হেফাজত রাজনৈতিক জোট নয়; তারা কেবল কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের পরামর্শ দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণ করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা হতে পারে এবং ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
জামায়াতের একক প্রার্থী ঘোষণার সিদ্ধান্তে শরিকদের একটি অংশ অসন্তুষ্ট। তারা স্থানীয় নির্বাচনেও জোটগত সমঝোতা চান। বাংলাদেশ খেলাফতের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য এখনো জুলাই সনদের পক্ষে সক্রিয় রয়েছে।
এনসিপিও ছয়টি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র এবং শতাধিক উপজেলা ও পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। দলটি এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও জামায়াতের সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়েও জোটের ভেতরে সমন্বয়ের প্রশ্ন উঠেছে। এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ছাত্রনেতা আবু সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অতীতেও বিএনপির সঙ্গে জোটে থেকেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নিয়েছে। তার মতে, জাতীয় নির্বাচনে জোটগত সমন্বয় থাকলেও স্থানীয় নির্বাচন দলভিত্তিকভাবেই পরিচালিত হওয়া স্বাভাবিক।
সূত্র: কালের কন্ঠ

আপনার মতামত লিখুন