জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের ৫১৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী গোপীনাথ ঠাকুর জীউ মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের করা হয়। একই দিনে উপজেলার বিহারপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ পূজার্চনা, গীতা পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
রথযাত্রা উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকেই গোপীনাথ ঠাকুর জীউ মন্দির প্রাঙ্গণে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, গীতা পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন এবং পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তদের উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর ও ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মুখরিত পরিবেশে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে অধিষ্ঠিত করা হয়।
দুপুরে রথের দড়ি টানার মধ্য দিয়ে মূল শোভাযাত্রার সূচনা হয়। প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার ভক্ত, দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শ্রী শ্রী গোপীনাথ ঠাকুর জীউ মন্দির থেকে বের হয়ে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ, কড়ইতলী বাসস্ট্যান্ড সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
সাধারণত রথ টানার জন্য দুটি দড়ি ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দুটি দড়ির একটি শঙ্খচূড় এবং অপরটি বাসুকী নামে পরিচিত। তবে দেশের কিছু স্থানে রথযাত্রায় তিনটি দড়িও ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় দড়িটির নাম স্বর্ণচূড়া বলে প্রচলিত রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে পুণ্যলাভ হয়—এই বিশ্বাস থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ও ভক্তরা রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ দেবকে মাসির বাড়িতে নিয়ে যান।
রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্দিরের সেবায়েত বাবু রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়ার তত্ত্বাবধানে ৫১৯তম রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ভক্ত-অনুরাগী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনা করেন।
মন্দিরের সেবায়েত বাবু রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়া বলেন, প্রায় ৫১৯ বছর ধরে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব ধারাবাহিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করি।
রথযাত্রায় অংশ নিতে আসা ভক্ত শ্রী অনন্ত কুমার সরকার বলেন, প্রতি বছরই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রথযাত্রায় অংশ নিই। রথের দড়ি টানতে পারাকে আমরা সৌভাগ্যের বিষয় মনে করি। জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে দেশ, জাতি ও সকল মানুষের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করি।
ভক্ত শ্রীমতি কৃষ্ণা রানী সাহা বলেন, রথযাত্রা আমাদের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও মিলনেরও উৎসব। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে এই আয়োজন উপভোগ করেন, যা আমাদের ভালো লাগে।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের ৫১৯ বছরের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী গোপীনাথ ঠাকুর জীউ মন্দির থেকে বর্ণাঢ্য রথযাত্রা বের করা হয়। একই দিনে উপজেলার বিহারপুর শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দিরেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উপলক্ষে বিশেষ পূজার্চনা, গীতা পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
রথযাত্রা উপলক্ষে সকাল ১১টা থেকেই গোপীনাথ ঠাকুর জীউ মন্দির প্রাঙ্গণে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, গীতা পাঠ, হরিনাম সংকীর্তন এবং পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তদের উলুধ্বনি, শঙ্খ, কাঁসর ও ঢাক-ঢোলের বাদ্যে মুখরিত পরিবেশে জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর বিগ্রহ সুসজ্জিত রথে অধিষ্ঠিত করা হয়।
দুপুরে রথের দড়ি টানার মধ্য দিয়ে মূল শোভাযাত্রার সূচনা হয়। প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার ভক্ত, দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শ্রী শ্রী গোপীনাথ ঠাকুর জীউ মন্দির থেকে বের হয়ে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদ, কড়ইতলী বাসস্ট্যান্ড সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
সাধারণত রথ টানার জন্য দুটি দড়ি ব্যবহার করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দুটি দড়ির একটি শঙ্খচূড় এবং অপরটি বাসুকী নামে পরিচিত। তবে দেশের কিছু স্থানে রথযাত্রায় তিনটি দড়িও ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে তৃতীয় দড়িটির নাম স্বর্ণচূড়া বলে প্রচলিত রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে পুণ্যলাভ হয়—এই বিশ্বাস থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ও ভক্তরা রথের দড়ি টেনে জগন্নাথ দেবকে মাসির বাড়িতে নিয়ে যান।
রথযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্দিরের সেবায়েত বাবু রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়ার তত্ত্বাবধানে ৫১৯তম রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ভক্ত-অনুরাগী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনা করেন।
মন্দিরের সেবায়েত বাবু রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়া বলেন, প্রায় ৫১৯ বছর ধরে আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব ধারাবাহিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি, সম্প্রীতি এবং মানুষের কল্যাণ কামনা করি।
রথযাত্রায় অংশ নিতে আসা ভক্ত শ্রী অনন্ত কুমার সরকার বলেন, প্রতি বছরই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রথযাত্রায় অংশ নিই। রথের দড়ি টানতে পারাকে আমরা সৌভাগ্যের বিষয় মনে করি। জগন্নাথদেবের আশীর্বাদে দেশ, জাতি ও সকল মানুষের শান্তি ও মঙ্গল কামনা করি।
ভক্ত শ্রীমতি কৃষ্ণা রানী সাহা বলেন, রথযাত্রা আমাদের কাছে শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও মিলনেরও উৎসব। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে এই আয়োজন উপভোগ করেন, যা আমাদের ভালো লাগে।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে ৯ দিনব্যাপী এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার।

আপনার মতামত লিখুন