কিপুর ইউনিয়নের সানকিপুর গ্রামে বন বিভাগের সরকারি টেন্ডারের আড়ালে অনুমোদিত গাছের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০টি তাজা (জীবিত) সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এক যুবক।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সানকিপুর গ্রামের বন বিভাগের তিনটি আকাশমণি ও শিশু গাছের বাগান থেকে মোট ১৪৪টি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার জন্য টেন্ডার প্রদান করা হয়। ওই টেন্ডারটি পান ঠিকাদার মো. রাকিবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়, টেন্ডার পাওয়ার পর ঠিকাদার টেন্ডারে উল্লেখিত ১৪৪টি গাছ কাটার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ২০টি তাজা ও মূল্যবান সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যান। এছাড়া টেন্ডারভুক্ত ১৪৪টি গাছ চিহ্নিত (মার্কিং) করার আগে বাগানের ইউজার কমিটির সভাপতি ও এলাকার উপকারভোগীদের কাউকে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে সানকিপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টেন্ডার অনুযায়ী লাল রঙের ক্রস চিহ্ন দেওয়া কয়েকটি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তবে সড়কের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির বড় ও জীবিত সরকারি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কোহিনুর বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন গাছ কাটে। কিন্তু চিহ্নিত মৃত গাছ না কেটে বড় ও মূল্যবান জীবিত গাছ কেটে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, তাঁর ঘরের টিনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা একটি আকাশমণি গাছ কাটার অনুরোধ করা হলেও সেটি কাটা হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় যুবক বলেন, টেন্ডারভুক্ত ১৪৪টি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের পরিবর্তে জীবিত ও বড় গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, টেন্ডারভুক্ত গাছের মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা হলেও অতিরিক্ত কাটা গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে ঠিকাদার মো. রাকিবের একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, "যা কেটে নিয়েছি, তা তো আর সেখানে রেখে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় এক ভাই সাংবাদিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে দেখিয়েছেন, এতে আমাদের বদনাম হয়েছে। খরচপাতি লাগলে আমি এসে দিয়ে দেব।" তবে এই অডিও রেকর্ডের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরে ঠিকাদার মো. রাকিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগের বিষয়ে একজন আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। লিখিত অভিযোগটি হাতে পেলে জেলা বন বিভাগের সহযোগিতায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬
কিপুর ইউনিয়নের সানকিপুর গ্রামে বন বিভাগের সরকারি টেন্ডারের আড়ালে অনুমোদিত গাছের বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ২০টি তাজা (জীবিত) সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় এক যুবক।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, সানকিপুর গ্রামের বন বিভাগের তিনটি আকাশমণি ও শিশু গাছের বাগান থেকে মোট ১৪৪টি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটার জন্য টেন্ডার প্রদান করা হয়। ওই টেন্ডারটি পান ঠিকাদার মো. রাকিবুল ইসলাম।
অভিযোগে বলা হয়, টেন্ডার পাওয়ার পর ঠিকাদার টেন্ডারে উল্লেখিত ১৪৪টি গাছ কাটার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ২০টি তাজা ও মূল্যবান সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যান। এছাড়া টেন্ডারভুক্ত ১৪৪টি গাছ চিহ্নিত (মার্কিং) করার আগে বাগানের ইউজার কমিটির সভাপতি ও এলাকার উপকারভোগীদের কাউকে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে সানকিপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, টেন্ডার অনুযায়ী লাল রঙের ক্রস চিহ্ন দেওয়া কয়েকটি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ এখনো অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। তবে সড়কের পাশের বিভিন্ন প্রজাতির বড় ও জীবিত সরকারি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কোহিনুর বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন গাছ কাটে। কিন্তু চিহ্নিত মৃত গাছ না কেটে বড় ও মূল্যবান জীবিত গাছ কেটে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, তাঁর ঘরের টিনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা একটি আকাশমণি গাছ কাটার অনুরোধ করা হলেও সেটি কাটা হয়নি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় যুবক বলেন, টেন্ডারভুক্ত ১৪৪টি মৃত ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের পরিবর্তে জীবিত ও বড় গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, টেন্ডারভুক্ত গাছের মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা হলেও অতিরিক্ত কাটা গাছগুলোর বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি।
এ বিষয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আশরাফ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এদিকে ঠিকাদার মো. রাকিবের একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, "যা কেটে নিয়েছি, তা তো আর সেখানে রেখে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় এক ভাই সাংবাদিকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে দেখিয়েছেন, এতে আমাদের বদনাম হয়েছে। খরচপাতি লাগলে আমি এসে দিয়ে দেব।" তবে এই অডিও রেকর্ডের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পরে ঠিকাদার মো. রাকিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগের বিষয়ে একজন আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। লিখিত অভিযোগটি হাতে পেলে জেলা বন বিভাগের সহযোগিতায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন