জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

অবিরাম বর্ষণে হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি আক্রান্ত



অবিরাম বর্ষণে হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি আক্রান্ত
ছবি : প্রতিনিধি

অবিরাম ভারি বর্ষণ,সাগরের উত্তাল জোয়ার নিষ্কাশনহীন জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আউস ধান, বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষকদের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর বিভিন্ন ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাতিয়ার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অধিকাংশ জমিতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক কৃষকের ক্ষেতের ধান দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির ক্ষেতগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে ক্ষতির কারণে তারা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

চর ইশ্বর ইউনিয়নের মূলা মার্কেট এলাকার কৃষক রুহুল আমিন  বলেন, সবজি চাষ করে সংসার চালাই। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকার যদি সহায়তা না করে তাহলে নতুন করে চাষাবাদ করা কঠিন হবে।

চরকিং ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ডের  কৃষক মোজাহের উদ্দিন বলেন, এবার প্রায় ২ একর জমিতে আউস ধান লাগিয়েছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। ধানগুলো হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছি, এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে বুঝতে পারছি না।

পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডের মৎস্য হেচারির মালীক আনোয়ারুল ইসলাম  আহসান বলেন, প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় পুকুর ডুবে  ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ি। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে মৎস্য চাষে আগ্রহ হারিয়ে পেলবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, "অতি বৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।" 

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অবিরাম বর্ষণে হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর কৃষিজমি আক্রান্ত

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

অবিরাম ভারি বর্ষণ,সাগরের উত্তাল জোয়ার নিষ্কাশনহীন জলাবদ্ধতায় নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আউস ধান, বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ ও পানের বরজসহ প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রাথমিকভাবে কৃষকদের ২০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি নামেনি। এতে প্রায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর বিভিন্ন ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হাতিয়ার চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার অধিকাংশ জমিতে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। অনেক কৃষকের ক্ষেতের ধান দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে সবজির ক্ষেতগুলো সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। ফলে ক্ষতির কারণে তারা এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

চর ইশ্বর ইউনিয়নের মূলা মার্কেট এলাকার কৃষক রুহুল আমিন  বলেন, সবজি চাষ করে সংসার চালাই। বেগুন, ঢেঁড়স ও মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বাজারে বিক্রি করার মতো কিছুই নেই। সরকার যদি সহায়তা না করে তাহলে নতুন করে চাষাবাদ করা কঠিন হবে।

চরকিং ইউনিয়নে ৮ নং ওয়ার্ডের  কৃষক মোজাহের উদ্দিন বলেন, এবার প্রায় ২ একর জমিতে আউস ধান লাগিয়েছিলাম। হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। ধানগুলো হলুদ হয়ে নষ্ট হতে শুরু করেছে। কয়েক লাখ টাকা খরচ করেছি, এখন সেই টাকা কীভাবে উঠবে বুঝতে পারছি না।

পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ডের মৎস্য হেচারির মালীক আনোয়ারুল ইসলাম  আহসান বলেন, প্রতি বছরই জলাবদ্ধতায় পুকুর ডুবে  ব্যাপক ক্ষতি হয়। পানি দ্রুত নামার ব্যবস্থা না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ি। স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা জরুরি। তা না হলে মৎস্য চাষে আগ্রহ হারিয়ে পেলবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল-নালা ভরাট, পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সংকুচিত হওয়া এবং অপরিকল্পিত বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ বলেন, "অতি বৃষ্টিতে হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।" 


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত