দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা জয়পুরহাট জেলা শহরের চার লেন সড়ক প্রকল্পের ভুলত্রুটির ক্ষত না শুকাতেই এবার সৌন্দর্যবর্ধনে নেওয়া নতুন পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) ওপর উন্নতমানের কোনো অবকাঠামো বা দৃষ্টিনন্দন কাজের নকশা না করে সাধারণ লোহার গ্রিল দিয়ে ঘিরে ফেলায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রকল্পটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এ উদ্যোগকে জনস্বার্থ বা নান্দনিকতার তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এই প্রকল্পটি বন্ধ করে টেকসই, মজবুত ও নিরাপদ রেলিং দিয়ে নান্দনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হোক।
জানা গেছে, জেলা শহরের প্রধান সড়কটি রেলগেট থেকে হারাইল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হয়। তবে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্বোধনের প্রায় ছয় বছর পর পুরো কাজ শেষ হয়। এ সময় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, ড্রেনের পাশ দিয়ে সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন, সড়কের অংশের নিচ দিয়ে পানির লাইন দেওয়াসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং বিভাজকে থাকা পকেট দরজাগুলো যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর নতুন করে বিভাজকে গ্রিল বসানোর উদ্যোগ সমালোচনার সৃষ্টি করেছে।
ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে পরিকল্পনাহীনভাবে একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কারও মতে, গ্রিল বসানোর ফলে সড়কের নান্দনিকতা আরও কমে গেছে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের নকশা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও রুচির বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সড়ক বিভাজকে রেলিং দেওয়ার কাজ বন্ধ এবং মানসম্মত রেলিং দেওয়ার দাবিতে বুধবার (১ জুলাই) জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার সচেতন নাগরিকদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক এএইচ হাসিবুল হক সানজিদ এই স্মারকলিপি দেন। তিনি বলেন, ফোর লেন সড়ক বিভাজকে যে গ্রিল দেওয়া হয়েছে তা নিম্নমানের। সড়কের সৌন্দর্যের জন্য এই গ্রিল দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনারও ঝুঁকি রয়েছে।
সড়ক বিভাজকের পকেট দরজা দিয়ে পারাপার হওয়া সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, গ্রিল না দিয়ে উন্নতমানের কিছু দেওয়া যেত। তাতে দেখতে সুন্দর লাগত। কিন্তু লোহার গ্রিল দেখতেও যেমন খারাপ লাগছে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, সড়ক বিভাজকে গ্রিল নয়, স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ বসানোর কথা শুনেছিলাম। পরবর্তীতে দেখছি গ্রিল লাগানো হচ্ছে। এটি নিয়ে আলোচনা করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজস খান বলেন, বিভাগীয় রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) বরাদ্দ থেকে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক বিভাজকে গ্রিল বসানোর কাজ করা হচ্ছে। ভূঁইয়া কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। প্রাথমিকভাবে ৭০০ মিটার বিভাজকে গ্রিল বসানো হবে। তবে এই কাজ ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে একটি সভা করে এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা জয়পুরহাট জেলা শহরের চার লেন সড়ক প্রকল্পের ভুলত্রুটির ক্ষত না শুকাতেই এবার সৌন্দর্যবর্ধনে নেওয়া নতুন পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক বিভাজকের (ডিভাইডার) ওপর উন্নতমানের কোনো অবকাঠামো বা দৃষ্টিনন্দন কাজের নকশা না করে সাধারণ লোহার গ্রিল দিয়ে ঘিরে ফেলায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রকল্পটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই এ উদ্যোগকে জনস্বার্থ বা নান্দনিকতার তোয়াক্কা না করে অপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও রুচিবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এই প্রকল্পটি বন্ধ করে টেকসই, মজবুত ও নিরাপদ রেলিং দিয়ে নান্দনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হোক। জানা গেছে, জেলা শহরের প্রধান সড়কটি রেলগেট থেকে হারাইল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীত করা হয়। তবে শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা সমালোচনার জন্ম দেয়। উদ্বোধনের প্রায় ছয় বছর পর পুরো কাজ শেষ হয়। এ সময় ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, ড্রেনের পাশ দিয়ে সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন, সড়কের অংশের নিচ দিয়ে পানির লাইন দেওয়াসহ নানা অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সড়কের দুই পাশে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং এবং বিভাজকে থাকা পকেট দরজাগুলো যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ওপর নতুন করে বিভাজকে গ্রিল বসানোর উদ্যোগ সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, সৌন্দর্যবর্ধনের নামে পরিকল্পনাহীনভাবে একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কারও মতে, গ্রিল বসানোর ফলে সড়কের নান্দনিকতা আরও কমে গেছে। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এ ধরনের নকশা প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও রুচির বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সড়ক বিভাজকে রেলিং দেওয়ার কাজ বন্ধ এবং মানসম্মত রেলিং দেওয়ার দাবিতে বুধবার (১ জুলাই) জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। জয়পুরহাট জেলার সচেতন নাগরিকদের পক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক এএইচ হাসিবুল হক সানজিদ এই স্মারকলিপি দেন। তিনি বলেন, ফোর লেন সড়ক বিভাজকে যে গ্রিল দেওয়া হয়েছে তা নিম্নমানের। সড়কের সৌন্দর্যের জন্য এই গ্রিল দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনারও ঝুঁকি রয়েছে। সড়ক বিভাজকের পকেট দরজা দিয়ে পারাপার হওয়া সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, গ্রিল না দিয়ে উন্নতমানের কিছু দেওয়া যেত। তাতে দেখতে সুন্দর লাগত। কিন্তু লোহার গ্রিল দেখতেও যেমন খারাপ লাগছে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, সড়ক বিভাজকে গ্রিল নয়, স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ বসানোর কথা শুনেছিলাম। পরবর্তীতে দেখছি গ্রিল লাগানো হচ্ছে। এটি নিয়ে আলোচনা করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাজস খান বলেন, বিভাগীয় রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) বরাদ্দ থেকে ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক বিভাজকে গ্রিল বসানোর কাজ করা হচ্ছে। ভূঁইয়া কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করছে। প্রাথমিকভাবে ৭০০ মিটার বিভাজকে গ্রিল বসানো হবে। তবে এই কাজ ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে একটি সভা করে এ বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন