জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে নিজেদের অর্থায়নে গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইটসলিং রাস্তাটি ৫-৬ বছর আগে নির্মিত হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তাটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য বাজারে পরিবহন এবং রোগী বহন করতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নিজেরাই অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। সেই অর্থেই গত শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় যুবক আব্দুর ইউসুফ বলেন, আমরা একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছি। কিন্তু সবসময়ই বলা হয়েছে বরাদ্দ নেই। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেদের টাকায় রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছি।
সংস্কার কাজের অন্যতম উদ্যোক্তা আসলাম মন্ডল বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা আমরা বারবার চেয়ারম্যান, মেম্বার এমনকি ইউএনওকেও জানিয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো সমাধান পাইনি। সবশেষে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছি। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু ও হাশেম আলীসহ অনেকেই বলেন, বারবার শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কাজ পাইনি। তাই নিজেদের দুর্ভোগ নিজেরাই কমানোর চেষ্টা করছি। দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।
এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গ্রামবাসীরা বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন। তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানকেও অবহিত করেছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব হয়নি।
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল বলেন, গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছেন বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব এবং ভবিষ্যৎ বরাদ্দে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে নিজেদের অর্থায়নে গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের রসুলপুর পকপাড়া গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসবাস। গ্রামের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইটসলিং রাস্তাটি ৫-৬ বছর আগে নির্মিত হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলায় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রাস্তাটি বর্তমানে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য বাজারে পরিবহন এবং রোগী বহন করতেও নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী নিজেরাই অর্থ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। সেই অর্থেই গত শুক্রবার (১২ জুন) সকাল থেকে গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় যুবক আব্দুর ইউসুফ বলেন, আমরা একাধিকবার ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছি। কিন্তু সবসময়ই বলা হয়েছে বরাদ্দ নেই। বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেদের টাকায় রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবে বলে আশা করছি।
সংস্কার কাজের অন্যতম উদ্যোক্তা আসলাম মন্ডল বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা আমরা বারবার চেয়ারম্যান, মেম্বার এমনকি ইউএনওকেও জানিয়েছি। কিন্তু কোথাও কোনো সমাধান পাইনি। সবশেষে গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করেছি। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়নে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
রাস্তা মেরামতের কাজে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আজিজার, জালাল, একরামুল, মিটু ও হাশেম আলীসহ অনেকেই বলেন, বারবার শুধু আশ্বাস পেয়েছি, কাজ পাইনি। তাই নিজেদের দুর্ভোগ নিজেরাই কমানোর চেষ্টা করছি। দ্রুত রাস্তাটি কার্পেটিং করা হোক, এটাই আমাদের দাবি।
এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গ্রামবাসীরা বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলেন। তিনি প্যানেল চেয়ারম্যানকেও অবহিত করেছেন। তবে ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় এখন পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব হয়নি।
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন মন্ডল বলেন, গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।
ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী বলেন, গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে রাস্তা মেরামত করছেন বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব এবং ভবিষ্যৎ বরাদ্দে রাস্তাটির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন