জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

আক্কেলপুরে বিনা কার্ডে চাল বিতরণের অভিযোগ, খালি হাতে ফিরলেন অর্ধশতাধিক দরিদ্র কার্ডধারী



আক্কেলপুরে বিনা কার্ডে চাল বিতরণের অভিযোগ, খালি হাতে ফিরলেন অর্ধশতাধিক দরিদ্র কার্ডধারী
ছবি- সংগৃহীত

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিতরণকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কার্ডধারীরা চাল পাননি। এতে অর্ধ শতাধিক কার্ডধারীরা চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। কার্ড থাকার পরও চাল না পাওয়া এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল নিতে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিড় করেন কার্ডধারী নারী-পুরুষ। বিকাল ৩ টা পর্যন্ত বিতরণ করা হয় চাল। এ সময় অনেক কার্ডধারী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে এবং বিনা কার্ডের লোকজনকে চাল দেওয়া হয়েছে। পরে চাল শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অপেক্ষমাণ মানুষজন। 

গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চাঁপাগাছি হরিপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন দুপুর দেড়টার দিকে চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিনি চাল পাননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,  দুপুর দেড়টার দিকে কার্ড নিয়ে চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যান যাই। সে সময় চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরে বিতরণ কক্ষের ভেতর থেকে বলা হয় চাল শেষ। আমার নামে বৈধ কার্ড থাকার পরও কেন চাল শেষ হবে? আমার কার্ডের চাল কোথায় গেল? আমি সেখানে থাকা অবস্থায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন কার্ডধারী চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেন পূর্ণ গোপীনাথপুর আলিমামুদপুর মোড় এলাকার চা দোকানি লিটন হোসেন। তিনি বলেন, দুপুর দুইটার দিকে চাল নিতে গিয়ে তিনি খালি হাতে ফিরে এসেছি। যাাদের কার্ড নেই, তাদেরও অনিয়ম করে চাল দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার মতো বৈধ কার্ডধারীরা চাল পাইনি। আমার সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ১৬ জন কার্ডধারী ফিরে গেছেন।

এদিকে ইউনিয়নের বাসিন্দা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে তাকে মাত্র ৮ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও আমাকে ওজনে কম দেওয়া হয়েছে।

চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার একরামুল বারী বলেন, অফিসে কাজের চাপ থাকায় সেখানে আমার প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার জানা মতে কোনো অনিয়ম হয়নি। শেষ সময় পর্যন্ত সবাই চাল পেয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিতরণের শেষ সময় পর্যন্ত লাইনে থাকা সবাইকে চাল দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বাকি থেকে থাকেন, তাদের আগামীকাল চাল দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাজার থেকে চাল কিনে দেওয়া হবে। চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


আক্কেলপুরে বিনা কার্ডে চাল বিতরণের অভিযোগ, খালি হাতে ফিরলেন অর্ধশতাধিক দরিদ্র কার্ডধারী

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিতরণকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কার্ডধারীরা চাল পাননি। এতে অর্ধ শতাধিক কার্ডধারীরা চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। কার্ড থাকার পরও চাল না পাওয়া এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল দেওয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি সহায়তার ভিজিএফ চাল নিতে সকাল থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ভিড় করেন কার্ডধারী নারী-পুরুষ। বিকাল ৩ টা পর্যন্ত বিতরণ করা হয় চাল। এ সময় অনেক কার্ডধারী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত তালিকার বাইরে এবং বিনা কার্ডের লোকজনকে চাল দেওয়া হয়েছে। পরে চাল শেষ হওয়ার ঘোষণা দিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অপেক্ষমাণ মানুষজন। 

গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চাঁপাগাছি হরিপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন দুপুর দেড়টার দিকে চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত তিনি চাল পাননি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন,  দুপুর দেড়টার দিকে কার্ড নিয়ে চাল নিতে ইউনিয়ন পরিষদে যান যাই। সে সময় চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরে বিতরণ কক্ষের ভেতর থেকে বলা হয় চাল শেষ। আমার নামে বৈধ কার্ড থাকার পরও কেন চাল শেষ হবে? আমার কার্ডের চাল কোথায় গেল? আমি সেখানে থাকা অবস্থায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন কার্ডধারী চাল না পেয়ে ফিরে গেছেন।

একই ধরনের অভিযোগ করেন পূর্ণ গোপীনাথপুর আলিমামুদপুর মোড় এলাকার চা দোকানি লিটন হোসেন। তিনি বলেন, দুপুর দুইটার দিকে চাল নিতে গিয়ে তিনি খালি হাতে ফিরে এসেছি। যাাদের কার্ড নেই, তাদেরও অনিয়ম করে চাল দেওয়া হয়েছে। অথচ আমার মতো বৈধ কার্ডধারীরা চাল পাইনি। আমার সঙ্গে আরও ১৫ থেকে ১৬ জন কার্ডধারী ফিরে গেছেন।

এদিকে ইউনিয়নের বাসিন্দা আফজাল হোসেন অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ১০ কেজির পরিবর্তে তাকে মাত্র ৮ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও আমাকে ওজনে কম দেওয়া হয়েছে।

চাল বিতরণের দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার একরামুল বারী বলেন, অফিসে কাজের চাপ থাকায় সেখানে আমার প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার জানা মতে কোনো অনিয়ম হয়নি। শেষ সময় পর্যন্ত সবাই চাল পেয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, বিতরণের শেষ সময় পর্যন্ত লাইনে থাকা সবাইকে চাল দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কেউ বাকি থেকে থাকেন, তাদের আগামীকাল চাল দেওয়া হবে। প্রয়োজনে বাজার থেকে চাল কিনে দেওয়া হবে। চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি।

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত