জয়পুরহাট    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

ছোট যমুনায় বালুখেকোদের তাণ্ডব: বদলগাছীতে হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ফসলি জমি



ছোট যমুনায় বালুখেকোদের তাণ্ডব: বদলগাছীতে হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ফসলি জমি
ছবি- প্রতিনিধি

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার নালুকাবাড়ী ও মানপুর এলাকায় ছোট যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র দিন-রাত নির্বিঘ্নে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে, যার ফলে নদীভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং শতাধিক পরিবারের বসতভিটা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর দুই পয়েন্টে গড়ে উঠেছে বালুর অবৈধ বাজার। ট্রাক্টরের অবিরাম যাতায়াত এবং নদীর তীরজুড়ে বালুর স্তূপ পুরো এলাকাকে পরিণত করেছে এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্যকেন্দ্রে। কোনো ইজারা বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে চলছে বালু উত্তোলন ও বিক্রি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।


একজন বাসিন্দা জানান, সরকার আমাদের থাকার জন্য ঘর দিয়েছে, কিন্তু এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সেই আশ্রয়ও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, নদীর তীরবর্তী কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমির অংশ, ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।


স্থানীয় এক কৃষক অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।


ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এক শ্রমিক স্বীকার করেন, কোনো অনুমতি ছাড়াই এখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ট্রাক্টর বালু প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। ইতোমধ্যে জব্দযোগ্য বালুর স্তুপ শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


তবে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়? তাদের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বসতিগুলো অচিরেই বিলীন হয়ে যেতে পারে। এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তব হয়ে উঠছে এলাকাবাসীর কাছে।


আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


ছোট যমুনায় বালুখেকোদের তাণ্ডব: বদলগাছীতে হুমকিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প ও ফসলি জমি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার নালুকাবাড়ী ও মানপুর এলাকায় ছোট যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্রভাবশালী একটি চক্র দিন-রাত নির্বিঘ্নে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে, যার ফলে নদীভাঙন তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দুটি আশ্রয়ণ প্রকল্প, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এবং শতাধিক পরিবারের বসতভিটা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর দুই পয়েন্টে গড়ে উঠেছে বালুর অবৈধ বাজার। ট্রাক্টরের অবিরাম যাতায়াত এবং নদীর তীরজুড়ে বালুর স্তূপ পুরো এলাকাকে পরিণত করেছে এক ধরনের অবৈধ বাণিজ্যকেন্দ্রে। কোনো ইজারা বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই প্রকাশ্যে চলছে বালু উত্তোলন ও বিক্রি।


স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে হুমকি-ধমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।


আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের কারণে ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।


একজন বাসিন্দা জানান, সরকার আমাদের থাকার জন্য ঘর দিয়েছে, কিন্তু এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সেই আশ্রয়ও হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, নদীর তীরবর্তী কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমির অংশ, ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।


স্থানীয় এক কৃষক অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।


ঘটনাস্থলে সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শ্রমিকরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে এক শ্রমিক স্বীকার করেন, কোনো অনুমতি ছাড়াই এখানে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ট্রাক্টর বালু প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়। ইতোমধ্যে জব্দযোগ্য বালুর স্তুপ শনাক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


তবে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ কোথায়? তাদের দাবি, দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বসতিগুলো অচিরেই বিলীন হয়ে যেতে পারে। এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তব হয়ে উঠছে এলাকাবাসীর কাছে।



Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত