জয়পুরহাট    বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Daily Joypur Barta

পড়াশোনা থেমেছে, স্বপ্ন নয়: ওবায়দুলের লড়াই



পড়াশোনা থেমেছে, স্বপ্ন নয়: ওবায়দুলের লড়াই
ছবি- প্রতিনিধি

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসস্ট্যান্ডের সামনে একটি ছোট্ট টেবিলবক্স। তার ওপর সাজানো অল্প কিছু চিপস, এর পান সিগারেট মোটামুটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার পণ্য। এই সামান্য আয়োজনেই লুকিয়ে আছে এক তরুণের বড় স্বপ্ন।

মোঃ ওবায়দুল ইসলাম (১৮)। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর অর্ ও দারিদ্রতার অভাবে থেমে যায় তার শিক্ষাজীবন। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় তাকে। বেছে নেন রাস্তার পাশে এই ছোট্ট ব্যবসা।

ওবায়দুলের বাড়ি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের মাঠের পুকুর এলাকায়। বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়েছেন। বর্তমানে পরিবারের হাল ধরেছেন ওবায়দুল। বাবা-মা, ছোট ভাই ও এক বোনকে নিয়ে তার সংসার।

প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তার পাশে বসে এই ক্ষুদ্র দোকান চালান তিনি। সামান্য আয়ে কোনোভাবে চলে তাদের সংসার। তবুও থেমে নেই তার স্বপ্ন।

ওবায়দুল বলেন, “পড়াশোনা এমন একটি সম্পদ, যা সবকিছু হারিয়ে গেলেও কখনো হারায় না।” অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হলেও আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরতে চান তিনি।

রিপন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর মালিক নয়ন ইসলাম ও স্থানীয়দের মতে, ওবায়দুল এই ছোট্ট দোকান শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রতিকূলতার মাঝেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি অন্যদের সাহস জোগায়।

সমাজের সচেতন মহলের দাবি, এমন সংগ্রামী তরুণদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ওবায়দুল ইসলাম একদিন দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পড়াশোনা থেমেছে, স্বপ্ন নয়: ওবায়দুলের লড়াই

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া সিও অফিস বাসস্ট্যান্ডের সামনে একটি ছোট্ট টেবিলবক্স। তার ওপর সাজানো অল্প কিছু চিপস, এর পান সিগারেট মোটামুটি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার পণ্য। এই সামান্য আয়োজনেই লুকিয়ে আছে এক তরুণের বড় স্বপ্ন।

মোঃ ওবায়দুল ইসলাম (১৮)। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর অর্ ও দারিদ্রতার অভাবে থেমে যায় তার শিক্ষাজীবন। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে জীবিকার সন্ধানে নামতে হয় তাকে। বেছে নেন রাস্তার পাশে এই ছোট্ট ব্যবসা।

ওবায়দুলের বাড়ি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের মাঠের পুকুর এলাকায়। বাবা মোঃ রফিকুল ইসলাম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়েছেন। বর্তমানে পরিবারের হাল ধরেছেন ওবায়দুল। বাবা-মা, ছোট ভাই ও এক বোনকে নিয়ে তার সংসার।

প্রতিদিন ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তার পাশে বসে এই ক্ষুদ্র দোকান চালান তিনি। সামান্য আয়ে কোনোভাবে চলে তাদের সংসার। তবুও থেমে নেই তার স্বপ্ন।

ওবায়দুল বলেন, “পড়াশোনা এমন একটি সম্পদ, যা সবকিছু হারিয়ে গেলেও কখনো হারায় না।” অর্থের অভাবে পড়াশোনা বন্ধ হলেও আবারও শিক্ষাজীবনে ফিরতে চান তিনি।

রিপন হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর মালিক নয়ন ইসলাম ও স্থানীয়দের মতে, ওবায়দুল এই ছোট্ট দোকান শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। প্রতিকূলতার মাঝেও তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি অন্যদের সাহস জোগায়।

সমাজের সচেতন মহলের দাবি, এমন সংগ্রামী তরুণদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে ওবায়দুল ইসলাম একদিন দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়ে সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারেন।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত