জয়পুরহাট    শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
Daily Joypur Barta

নওগাঁয় চাঁদার টাকা না পেয়ে বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ



নওগাঁয় চাঁদার টাকা না পেয়ে বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ
ছবি- দৈনিক জয়পুরবার্তা

নওগাঁয় চাহিদা অনুযায়ী চাঁদার টাকা না পেয়ে বসত বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম। তিনি আরজী নওগাঁ আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা ও সরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আসামী করে থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী। অভিযুক্তরা হলেন- আরজী নওগাঁ আনন্দ নগর এলাকার মঞ্জুরুল আবছারের ছেলে মেহরাব হোসেন আদিত্ত (১৮) ও তার স্ত্রী জুড়াইয়া আফরিন ডলি (৩৮) এবং আরজী নওগাঁ লাটাপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না (৪০)।

থানায় এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোজাহারুল ও তার স্ত্রী সরকারি চাকুরীজীবি হওয়ায় শহরের আনন্দ নগর এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বিভিন্ন সময় অযুহাত দেখিয়া তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী কয়েকবার চাঁদাও দিয়েছেন তারা। গত ১২ মার্চ বিকেলে আবারো ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। চাঁদার টাকা সময় মত পরিশোধ না করলে ভুক্তভোগীর বাড়িতে ককটেল মেরে তার ছোট মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাবারও হুমকি দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় গত ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগী মোজাহারুল বাড়িতে গিয়ে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করলে টাকা দিতে অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেল বিস্ফোরন হওয়ার সাথে সাথে বিকট শব্দ ও তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যায়। 

এছাড়াও অভিযুক্তরা এলাকায় বিভিন্ন সময় অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত। তাদের অন্যায় কাজে এলাকার লোকজন বাঁধা দিতে গেলে বা কোন প্রতিবাদ করলে তাদের মারপিট, খুন-জখম করার মত হুমকি প্রদান করে। যার ফলে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বেশ কিছু এলাকাবাসী পুলিশ সুপারের কাছে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

আনন্দ নগর এলাকার বাসীন্দা হোসেন আলী বাদশা, সকিনা, সুমি, রোজী ও পরিনা বিবি নামে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন- ডলি ও তার সহযোগী মাফিয়া মান্না এবং তার ছেলে আদিত্য ও আদিবের যন্ত্রনায় আমরা অতিষ্ট। সবসময় তারা এলাকায় চাকু-ছুরি নিয়ে চলাচল করে। কেউ কিছু বল্লেই তাকে মারপিট করে আহত করে। জুড়াইয়া আফরিন ডলি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছেলে নিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হয়। আমরা কিছু বল্লে তার স্বামী নাকি পুলিশের ওসি সেই ভয় দেখায়। কোন কিছু হলেই পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের ভয়ভিতি দেখায়, ও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।

তারা আরো বলেন- গত ২৬মার্চ রাতে ডলির ছেলে আদিত্য ও মান্না আমাদের এখানকার মোজাহারুলের বাসায় ককটেল মারে, বিকট আওয়াজ শুনে আমরা সবাই ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমরা জানতে পারি মোজাহারুলের কাছে টাকা চেয়েছিল, টাকা না দেওয়ার কারনে তার বাসার গেটে ককটেল মারে।

ভুক্তভোগী মোজাহারুলের স্ত্রী রুবিয়া খাতুন বলেন- আদিত্য, আদিব, মাফিয়া মান্না এবং ডলি এই ক’জন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। তারা কয়েকবার বিভিন্ন অযুহাতে আমাদের কাছে টাকা নিয়েছে। একবার টাকা না দেওয়ার কারনে আমার মেয়ের মোবাইল চুরি করে। মোবাইল চুরির মামলা করলে পুলিশ তাদের কাছে থেকে মোবাইল উদ্ধার করেন। এরপর থেকে শুরু হয় আরো অত্যাচার। আমার স্বামী ও মেয়েকে এক বিয়ে বাড়িতে ধরে অকারনে বেদম মারপিট করে আদিত্য। এ নিয়ে এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাধানের জন্য বসা হয়েছে, তারা শালিশে উপস্থিত হয়না। উল্টো ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি তরে ডলি ও তার ছেলে। টাকা না দিলে আমার মেয়ের নামে বাসার দেয়ালে নানান অকথ্য ভাষা লিখে রাখতো। তাদের চাহিদা মত টাকা দেইনি দেখে ২৬ মার্চ রাতে আমার বাসার গেটে ককটেল মারে। বর্তমানে এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা এলাকায় ঠিকমত চলাচল করতে পারিনা। আমরা এলাকায় যাতে শান্তিপূর্নভাবে বসবাস করতে পারি এ কারনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

একই এলাকার ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদ ও ভানা প্রামানিক নামে দু’জন বয়জোষ্ট্য বলেন- প্রায় ৪বছর আগে জায়গা জমির রাস্তা নিয়ে ডলির সাথে সামন্য কথা কাটাকাটি হয়। পরে তার ছেলে ও মাফিয়া মান্না এসে আমাদের মারধোর করে উল্টো থানায় গিয়ে নারী নির্যাতনের মিথ্যে মামলা দায়ের করে ডলি। ডলির স্বামী পুলিশের ওসি সে দাপটে পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে আমাদের জেল খাটায়। পরে সে মামলা মিথ্যে প্রমানিত হওয়ায় মামলা থেকে আমাদের অব্যহতি দেয়া হয়। স্বামী পুলিশ সাথে মাফিয়া এই দাপটে পুরো এলাকায় তান্ডব চালায় ডলি ও তার ছেলে। আমরা এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম বলেন- বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসতেছে। সর্বশেষ তাদের চাহিদামত ১লাখ ৬০হাজার টাকা না দিতে পারায় আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিত। ককটেল মেরে আমর বাড়ি উড়িয়ে দিবে, আমার ছোট মেয়েকে অপহরণ করবে বলে হুমকি দিত। ডলির স্বামী মঞ্জুরুল আবছার সে পুলিশে চাকরি করে সে আমাকে হুমকি দেয় আমার পরিবারের যত সরকারী চাকরিজীবী আছে সবার নামে ৬৪ জেলায় ৬৪টা মামলা দিবে। আমাদের চাকরি খেয়ে নেবার হুমকি দেয়।  আমি কোন তোয়াক্কা না করায় সত্যি সত্যি আমার বাসায় ককটেল মারে তারা। সেই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তিনি আরো বলেন- আমি ঘটনার পরদিন ২৭ মার্চ থানায় এজাহার দায়ের করি। কিন্তু ডলির স্বামী নাকি পুলিশের ওসি এ কারনে পুলিশের ভূমিকা নিরব। কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা পুলিশ। এদিকে তারা এখনো আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যে মামলা ও গুম খুনের হুমকি দিয়ে আসতেছে। আমকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বার বার চাপ দিচ্ছে। আমি ও আমার স্ত্রী শিক্ষকতা করি সারাদিন বাসায় থাকিনা, আমার ছোট মেয়েটা একা স্কুলে যাতায়াত করে, বাসায় থাকে। কখন কি ঘটনা ঘটে এই আতঙ্কে দিন কাটছে আমাদের।

অভিযুক্ত মেহরাব হোসেন আদিত্ত বলেন,  মোজাহারুল আমার খালু হয়, আমি নতুন মটরসাইকেল কিনে হাসাইগাড়ি বিলে ঘুরতে গেছিলাম। সেখানে সে সহ তার লোকজন দিয়ে আমার মোটর সাইকেল কেড়ে নিয়েছিল এটা নিয়েই দুই পরিবারের মাঝে ঝামেলা। কোন চাঁদা নেওয়া বা চাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ককটেল বিস্ফোরনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আপনি ককটেল দেখেছেন? ওটা ককটেল না অন্য জিনিস। কি সেই জিনিস জানতে চাইলে “ কিছুনা” বলে ফোন লাইন কেটে দেন তিনি।

আরেক অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন- মোজাহারুল নামে কোন ব্যক্তিকে আমি চিনিনা, কখনো তার সাথে দেখা হয়নি। চাঁদা চাইবো কি করে ? ডলি আমার আপু হয় সে সুবাদে পারিবারিক ভাবে চলাফেরা আছে তাদের সাথে। একারনে হয়ত আমাকে আসামী করেছে। কোন চাঁদা নেওয়া বা ককটেল মারা হয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, আমি তো ২৯ মার্চ এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়টি অবগত নই, মাত্র জানলাম। আমি খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।

আপনার মতামত লিখুন

Daily Joypur Barta

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


নওগাঁয় চাঁদার টাকা না পেয়ে বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নওগাঁয় চাহিদা অনুযায়ী চাঁদার টাকা না পেয়ে বসত বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম। তিনি আরজী নওগাঁ আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা ও সরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক।

এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে আসামী করে থানায় এজাহার দায়ের করেন ভুক্তভোগী। অভিযুক্তরা হলেন- আরজী নওগাঁ আনন্দ নগর এলাকার মঞ্জুরুল আবছারের ছেলে মেহরাব হোসেন আদিত্ত (১৮) ও তার স্ত্রী জুড়াইয়া আফরিন ডলি (৩৮) এবং আরজী নওগাঁ লাটাপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না (৪০)।

থানায় এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোজাহারুল ও তার স্ত্রী সরকারি চাকুরীজীবি হওয়ায় শহরের আনন্দ নগর এলাকার কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বিভিন্ন সময় অযুহাত দেখিয়া তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। তাদের দাবি অনুযায়ী কয়েকবার চাঁদাও দিয়েছেন তারা। গত ১২ মার্চ বিকেলে আবারো ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদার টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। চাঁদার টাকা সময় মত পরিশোধ না করলে ভুক্তভোগীর বাড়িতে ককটেল মেরে তার ছোট মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাবারও হুমকি দেওয়া হয়। এমতাবস্থায় গত ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগী মোজাহারুল বাড়িতে গিয়ে পুনরায় চাঁদার টাকা দাবি করলে টাকা দিতে অস্বীকার করলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেল বিস্ফোরন হওয়ার সাথে সাথে বিকট শব্দ ও তাদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা পালিয়ে যায়। 

এছাড়াও অভিযুক্তরা এলাকায় বিভিন্ন সময় অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত। তাদের অন্যায় কাজে এলাকার লোকজন বাঁধা দিতে গেলে বা কোন প্রতিবাদ করলে তাদের মারপিট, খুন-জখম করার মত হুমকি প্রদান করে। যার ফলে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বেশ কিছু এলাকাবাসী পুলিশ সুপারের কাছে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।

আনন্দ নগর এলাকার বাসীন্দা হোসেন আলী বাদশা, সকিনা, সুমি, রোজী ও পরিনা বিবি নামে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন- ডলি ও তার সহযোগী মাফিয়া মান্না এবং তার ছেলে আদিত্য ও আদিবের যন্ত্রনায় আমরা অতিষ্ট। সবসময় তারা এলাকায় চাকু-ছুরি নিয়ে চলাচল করে। কেউ কিছু বল্লেই তাকে মারপিট করে আহত করে। জুড়াইয়া আফরিন ডলি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছেলে নিয়ে অপকর্মে লিপ্ত হয়। আমরা কিছু বল্লে তার স্বামী নাকি পুলিশের ওসি সেই ভয় দেখায়। কোন কিছু হলেই পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের ভয়ভিতি দেখায়, ও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়।

তারা আরো বলেন- গত ২৬মার্চ রাতে ডলির ছেলে আদিত্য ও মান্না আমাদের এখানকার মোজাহারুলের বাসায় ককটেল মারে, বিকট আওয়াজ শুনে আমরা সবাই ঘটনাস্থলে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমরা জানতে পারি মোজাহারুলের কাছে টাকা চেয়েছিল, টাকা না দেওয়ার কারনে তার বাসার গেটে ককটেল মারে।

ভুক্তভোগী মোজাহারুলের স্ত্রী রুবিয়া খাতুন বলেন- আদিত্য, আদিব, মাফিয়া মান্না এবং ডলি এই ক’জন এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায়। তারা কয়েকবার বিভিন্ন অযুহাতে আমাদের কাছে টাকা নিয়েছে। একবার টাকা না দেওয়ার কারনে আমার মেয়ের মোবাইল চুরি করে। মোবাইল চুরির মামলা করলে পুলিশ তাদের কাছে থেকে মোবাইল উদ্ধার করেন। এরপর থেকে শুরু হয় আরো অত্যাচার। আমার স্বামী ও মেয়েকে এক বিয়ে বাড়িতে ধরে অকারনে বেদম মারপিট করে আদিত্য। এ নিয়ে এলাকার গন্য মান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাধানের জন্য বসা হয়েছে, তারা শালিশে উপস্থিত হয়না। উল্টো ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি তরে ডলি ও তার ছেলে। টাকা না দিলে আমার মেয়ের নামে বাসার দেয়ালে নানান অকথ্য ভাষা লিখে রাখতো। তাদের চাহিদা মত টাকা দেইনি দেখে ২৬ মার্চ রাতে আমার বাসার গেটে ককটেল মারে। বর্তমানে এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমরা এলাকায় ঠিকমত চলাচল করতে পারিনা। আমরা এলাকায় যাতে শান্তিপূর্নভাবে বসবাস করতে পারি এ কারনে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

একই এলাকার ভুক্তভোগী আব্দুল হামিদ ও ভানা প্রামানিক নামে দু’জন বয়জোষ্ট্য বলেন- প্রায় ৪বছর আগে জায়গা জমির রাস্তা নিয়ে ডলির সাথে সামন্য কথা কাটাকাটি হয়। পরে তার ছেলে ও মাফিয়া মান্না এসে আমাদের মারধোর করে উল্টো থানায় গিয়ে নারী নির্যাতনের মিথ্যে মামলা দায়ের করে ডলি। ডলির স্বামী পুলিশের ওসি সে দাপটে পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে আমাদের জেল খাটায়। পরে সে মামলা মিথ্যে প্রমানিত হওয়ায় মামলা থেকে আমাদের অব্যহতি দেয়া হয়। স্বামী পুলিশ সাথে মাফিয়া এই দাপটে পুরো এলাকায় তান্ডব চালায় ডলি ও তার ছেলে। আমরা এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

মামলার বাদী ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম বলেন- বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসতেছে। সর্বশেষ তাদের চাহিদামত ১লাখ ৬০হাজার টাকা না দিতে পারায় আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিত। ককটেল মেরে আমর বাড়ি উড়িয়ে দিবে, আমার ছোট মেয়েকে অপহরণ করবে বলে হুমকি দিত। ডলির স্বামী মঞ্জুরুল আবছার সে পুলিশে চাকরি করে সে আমাকে হুমকি দেয় আমার পরিবারের যত সরকারী চাকরিজীবী আছে সবার নামে ৬৪ জেলায় ৬৪টা মামলা দিবে। আমাদের চাকরি খেয়ে নেবার হুমকি দেয়।  আমি কোন তোয়াক্কা না করায় সত্যি সত্যি আমার বাসায় ককটেল মারে তারা। সেই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তিনি আরো বলেন- আমি ঘটনার পরদিন ২৭ মার্চ থানায় এজাহার দায়ের করি। কিন্তু ডলির স্বামী নাকি পুলিশের ওসি এ কারনে পুলিশের ভূমিকা নিরব। কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা পুলিশ। এদিকে তারা এখনো আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যে মামলা ও গুম খুনের হুমকি দিয়ে আসতেছে। আমকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বার বার চাপ দিচ্ছে। আমি ও আমার স্ত্রী শিক্ষকতা করি সারাদিন বাসায় থাকিনা, আমার ছোট মেয়েটা একা স্কুলে যাতায়াত করে, বাসায় থাকে। কখন কি ঘটনা ঘটে এই আতঙ্কে দিন কাটছে আমাদের।

অভিযুক্ত মেহরাব হোসেন আদিত্ত বলেন,  মোজাহারুল আমার খালু হয়, আমি নতুন মটরসাইকেল কিনে হাসাইগাড়ি বিলে ঘুরতে গেছিলাম। সেখানে সে সহ তার লোকজন দিয়ে আমার মোটর সাইকেল কেড়ে নিয়েছিল এটা নিয়েই দুই পরিবারের মাঝে ঝামেলা। কোন চাঁদা নেওয়া বা চাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ককটেল বিস্ফোরনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আপনি ককটেল দেখেছেন? ওটা ককটেল না অন্য জিনিস। কি সেই জিনিস জানতে চাইলে “ কিছুনা” বলে ফোন লাইন কেটে দেন তিনি।

আরেক অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন- মোজাহারুল নামে কোন ব্যক্তিকে আমি চিনিনা, কখনো তার সাথে দেখা হয়নি। চাঁদা চাইবো কি করে ? ডলি আমার আপু হয় সে সুবাদে পারিবারিক ভাবে চলাফেরা আছে তাদের সাথে। একারনে হয়ত আমাকে আসামী করেছে। কোন চাঁদা নেওয়া বা ককটেল মারা হয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, আমি তো ২৯ মার্চ এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়টি অবগত নই, মাত্র জানলাম। আমি খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।


Daily Joypur Barta



কপিরাইট © ২০২৬ Daily Joypur Barta । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত